যশোরের বেনাপোল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সব নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কথিত বাংলাদেশি পরিচয়ে একদল নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের অতন্দ্র প্রহরা ও কঠোর অবস্থানের কারণে ভারতীয় বাহিনীর সেই পুশ-ইনের চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জনের এই অসহায় দলটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তর পাশে অবস্থিত সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ওই নারী, পুরুষ ও শিশুরা দুই দেশের সীমানার মাঝখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিল বলে সীমান্ত এলাকা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সীমান্তের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্ত ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে এই দলটিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। তারা দলটিকে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার নম্বর ১৯/এস-৬ এর কাছাকাছি এনে জড়ো করে। তবে সীমান্তের ওপারে সন্দেহজনক নড়াচড়া টের পেয়ে আগে থেকেই চরম সতর্ক অবস্থায় থাকা বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের এই পুশ-ইনের প্রচেষ্টাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শূন্যরেখায় আটকে পড়া দলটির মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও অবুঝ শিশু রয়েছে। বিজিবির অনড় বাধার মুখে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঢোকাতে না পারলেও, নিজেদের ভূখণ্ডেও আর ফিরিয়ে নেয়নি। ফলে তীব্র গরম ও খোলা আকাশের নিচে তৃষ্ণা আর আতঙ্কে দিন কাটছে এই মানুষগুলোর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম দিকে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও এক ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রুখতে পুরো সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সোমবার রাত থেকেই সীমান্তে বিজিবির বিশেষ সতর্কাবস্থা জারি ছিল। বিএসএফের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তা রুখে দেয়। বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জন মানুষ সাদিপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের নজরদারিতে রয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, সীমান্তের যেকোনো দুর্গম পয়েন্ট দিয়ে এ ধরনের পুশব্যাকের চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের জওয়ানরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাউকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিয়ে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি ও আলোচনা চলছে। বিজিবি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, উচ্চপর্যায়ের এই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষদের বিষয়ে একটি দ্রুত এবং মানবিক সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে আন্তর্জাতিক সব নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কথিত বাংলাদেশি পরিচয়ে একদল নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যদের অতন্দ্র প্রহরা ও কঠোর অবস্থানের কারণে ভারতীয় বাহিনীর সেই পুশ-ইনের চেষ্টা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জনের এই অসহায় দলটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যবর্তী সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের উত্তর পাশে অবস্থিত সাদিপুর খড়ের মাঠ সীমান্ত এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ওই নারী, পুরুষ ও শিশুরা দুই দেশের সীমানার মাঝখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছিল বলে সীমান্ত এলাকা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সীমান্তের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জয়ন্তীপুর সীমান্ত ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে এই দলটিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়। তারা দলটিকে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর এলাকার সীমান্ত পিলার নম্বর ১৯/এস-৬ এর কাছাকাছি এনে জড়ো করে। তবে সীমান্তের ওপারে সন্দেহজনক নড়াচড়া টের পেয়ে আগে থেকেই চরম সতর্ক অবস্থায় থাকা বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের এই পুশ-ইনের প্রচেষ্টাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শূন্যরেখায় আটকে পড়া দলটির মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী ও অবুঝ শিশু রয়েছে। বিজিবির অনড় বাধার মুখে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঢোকাতে না পারলেও, নিজেদের ভূখণ্ডেও আর ফিরিয়ে নেয়নি। ফলে তীব্র গরম ও খোলা আকাশের নিচে তৃষ্ণা আর আতঙ্কে দিন কাটছে এই মানুষগুলোর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম দিকে সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও এক ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রুখতে পুরো সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সোমবার রাত থেকেই সীমান্তে বিজিবির বিশেষ সতর্কাবস্থা জারি ছিল। বিএসএফের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তা রুখে দেয়। বর্তমানে ৮ থেকে ১০ জন মানুষ সাদিপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের নজরদারিতে রয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, সীমান্তের যেকোনো দুর্গম পয়েন্ট দিয়ে এ ধরনের পুশব্যাকের চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের জওয়ানরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাউকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিয়ে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একটি পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি ও আলোচনা চলছে। বিজিবি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, উচ্চপর্যায়ের এই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেই শূন্যরেখায় আটকে থাকা মানুষদের বিষয়ে একটি দ্রুত এবং মানবিক সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন