দিকপাল

রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা, ব্যস্ত হয়ে উঠছে নগরী


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ | ০৬:০৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা, ব্যস্ত হয়ে উঠছে নগরী

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মধুর স্মৃতি বুকে নিয়ে কর্মস্থল রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন পেশার সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষ। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান প্রধান প্রবেশদ্বার এবং বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহন টার্মিনালগুলোতে মানুষের এই ফিরতি আগমন লক্ষ্য করা গেছে। চিরচেনা এই ব্যস্ত শহরে জীবিকার তাগিদে ফিরে আসা মানুষের পদচারণায় বাস ও রেল স্টেশনগুলো ধীরে ধীরে মুখরিত হয়ে উঠছে, যা উৎসবের আমেজ কাটিয়ে শহরটিকে আবার তার পুরোনো রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এবারের ঈদে টানা সাত দিনের একটি দীর্ঘ ও আরামদায়ক ছুটি পাওয়ায় চাকরিজীবীদের মধ্যে ফিরতি যাত্রার তাড়াহুড়ো অনেকটাই কম। আগামী সোমবার থেকে সব ধরনের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালত এবং ব্যাংক-বীমা পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে যাবে। তবে বেসরকারি খাতের অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যালয় আগামীকাল রোববার থেকেই তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত এই কারণেই বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছুটা আগেভাগেই সপরিবারে ঢাকায় ফিরছেন। সকালের আলো ফোটার পর থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীর মতো প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের চিত্রটি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক এবং সুশৃঙ্খল।

বিশেষ করে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ এবং গাজীপুরের মতো কাছাকাছি দূরত্ব ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীদের সাধারণ ও স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা গেছে। সড়কপথের পাশাপাশি যারা রেলপথে যাতায়াত করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও রাজধানীতে ফেরার অভিজ্ঞতা ছিল বেশ ঝঞ্ঝাটমুক্ত। অন্যবার ঢাকা ফেরার পথে বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের যে দীর্ঘ লাইন, বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কিংবা হুড়োহুড়ি করে গাড়িতে ওঠার চেনা দৃশ্য দেখা যেত, এবার তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কাউন্টারগুলোতে বাসের টিকিট পেতে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না এবং মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজট না থাকায় যাত্রীরা সঠিক সময়েই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ না থাকার সুযোগে কোনো পরিবহন মালিক বা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও এবার পাওয়া যায়নি।

পরিবহন খাতের সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবার ঈদে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ছুটিগুলো বেশ চমৎকারভাবে সমন্বয় হওয়ায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় মানুষ একযোগে রওনা না হয়ে ধাপে ধাপে এবং সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় ফিরছেন। শেরপুর রুট থেকে আসা একটি দূরপাল্লার বাসের চালকের সহকারী জানান, ঈদের ফিরতি যাত্রার যে উপচে পড়া ভিড় থাকে, তা এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। গাড়িগুলোতে আসন সংখ্যা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে ঠিকই, তবে বাসের জন্য যাত্রীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাহাকার করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তারা সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিয়মিত তালিকা অনুযায়ী সঠিক ভাড়াই নিচ্ছেন।

ঢাকায় ফেরা সাধারণ যাত্রীরাও এবারের যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মহাসড়কগুলো তুলনামূলক ফাঁকা এবং যানজটমুক্ত থাকায় এবারের ঢাকা ফেরার যাত্রা ছিল অনেক বেশি আরামদায়ক, নিরাপদ ও ক্লান্তিহীন। তবে সচেতন মহলের ধারণা, ছুটির শেষ মুহূর্তকে কাজে লাগাতে আগামীকাল রোববার সকাল থেকে দুপুরের পর এবং বিকালের দিকে কর্মজীবী মানুষের চাপ বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে সেই সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টদের আগাম প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রয়োজন। 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবীরা, ব্যস্ত হয়ে উঠছে নগরী

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটি শেষে প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো মধুর স্মৃতি বুকে নিয়ে কর্মস্থল রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন পেশার সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষ। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান প্রধান প্রবেশদ্বার এবং বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহন টার্মিনালগুলোতে মানুষের এই ফিরতি আগমন লক্ষ্য করা গেছে। চিরচেনা এই ব্যস্ত শহরে জীবিকার তাগিদে ফিরে আসা মানুষের পদচারণায় বাস ও রেল স্টেশনগুলো ধীরে ধীরে মুখরিত হয়ে উঠছে, যা উৎসবের আমেজ কাটিয়ে শহরটিকে আবার তার পুরোনো রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

এবারের ঈদে টানা সাত দিনের একটি দীর্ঘ ও আরামদায়ক ছুটি পাওয়ায় চাকরিজীবীদের মধ্যে ফিরতি যাত্রার তাড়াহুড়ো অনেকটাই কম। আগামী সোমবার থেকে সব ধরনের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস-আদালত এবং ব্যাংক-বীমা পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে যাবে। তবে বেসরকারি খাতের অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যালয় আগামীকাল রোববার থেকেই তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত এই কারণেই বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিছুটা আগেভাগেই সপরিবারে ঢাকায় ফিরছেন। সকালের আলো ফোটার পর থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীর মতো প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে মানুষের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের চিত্রটি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক এবং সুশৃঙ্খল।

বিশেষ করে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ এবং গাজীপুরের মতো কাছাকাছি দূরত্ব ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রীদের সাধারণ ও স্বাভাবিক উপস্থিতি দেখা গেছে। সড়কপথের পাশাপাশি যারা রেলপথে যাতায়াত করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও রাজধানীতে ফেরার অভিজ্ঞতা ছিল বেশ ঝঞ্ঝাটমুক্ত। অন্যবার ঢাকা ফেরার পথে বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের যে দীর্ঘ লাইন, বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কিংবা হুড়োহুড়ি করে গাড়িতে ওঠার চেনা দৃশ্য দেখা যেত, এবার তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কাউন্টারগুলোতে বাসের টিকিট পেতে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না এবং মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজট না থাকায় যাত্রীরা সঠিক সময়েই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। অতিরিক্ত যাত্রীচাপ না থাকার সুযোগে কোনো পরিবহন মালিক বা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও এবার পাওয়া যায়নি।

পরিবহন খাতের সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবার ঈদে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের ছুটিগুলো বেশ চমৎকারভাবে সমন্বয় হওয়ায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় মানুষ একযোগে রওনা না হয়ে ধাপে ধাপে এবং সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় ফিরছেন। শেরপুর রুট থেকে আসা একটি দূরপাল্লার বাসের চালকের সহকারী জানান, ঈদের ফিরতি যাত্রার যে উপচে পড়া ভিড় থাকে, তা এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। গাড়িগুলোতে আসন সংখ্যা পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে ঠিকই, তবে বাসের জন্য যাত্রীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাহাকার করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তারা সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিয়মিত তালিকা অনুযায়ী সঠিক ভাড়াই নিচ্ছেন।

ঢাকায় ফেরা সাধারণ যাত্রীরাও এবারের যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মহাসড়কগুলো তুলনামূলক ফাঁকা এবং যানজটমুক্ত থাকায় এবারের ঢাকা ফেরার যাত্রা ছিল অনেক বেশি আরামদায়ক, নিরাপদ ও ক্লান্তিহীন। তবে সচেতন মহলের ধারণা, ছুটির শেষ মুহূর্তকে কাজে লাগাতে আগামীকাল রোববার সকাল থেকে দুপুরের পর এবং বিকালের দিকে কর্মজীবী মানুষের চাপ বর্তমানের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে সেই সম্ভাব্য চাপ সামাল দিতে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টদের আগাম প্রস্তুতি বজায় রাখা প্রয়োজন। 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল