দিকপাল

ঢাবি নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ | ১১:৫৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাবি নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

দেশের শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজের দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দীর্ঘ এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের এই ঘোষণা দেন।

এর আগে, একটি সুপরিচিত পডকাস্ট অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ববি হাজ্জাজের করা কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচনা চলাকালীন প্রতিমন্ত্রী দেশের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে একটি সাধারণ কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করেন। একই সঙ্গে তিনি গবেষণার মানদণ্ড টেনে দাবি করেছিলেন যে, গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের অন্তত দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। তাঁর এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে পৌঁছালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের তৈরি হয়।

এই তীব্র বিতর্কের অবসান ঘটাতে ফেসবুকে দেওয়া নিজের ব্যাখ্যায় ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়ে যে আলোচনা ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশকে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেটির অসৎ উদ্দেশ্যে ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পডকাস্টে বলা কথাগুলো সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তা, বিশ্লেষণ ও মতামতের অংশ ছিল। এগুলো কোনোভাবেই সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা নীতিমালার প্রতিফলন নয়।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন যে সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি পুরোদস্তুর গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য, মর্যাদা কিংবা দেশের তরে এর অসামান্য অবদানকে বিন্দুমাত্র খাটো করা ছিল না; বরং প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নিজের সুউচ্চ আকাঙ্ক্ষার কথাই তিনি সেখানে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা খাত নানা ধরনের জটিল চ্যালেঞ্জ ও অবক্ষয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একাডেমিক উৎকর্ষ সাধনের পরিবর্তে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে বারবার বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজম বা অন্যের লেখা চুরির মতো মারাত্মক অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে জনসমক্ষে এসেছে। তিনি এই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন অনৈতিক কাজের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

অনুষ্ঠানের পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, পডকাস্টের ওই আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক, ঘরোয়া এবং একটি স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত কাঠামোর ভেতরের আলোচনা ছিল না। যদি এটি কোনো আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার সুনির্দিষ্ট পরিসর হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা, শব্দচয়ন ও উপস্থাপনার ধরণ অবশ্যই আরও বেশি কাঠামোবদ্ধ, সংযত ও নির্দিষ্ট হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি নিজের শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য ইতিহাস, মহান ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে এর যে ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে, তার প্রতি তাঁর অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি আন্তরিকভাবে চান এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রধান প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই টিকে না থাকুক, বরং বিশ্বমানের আধুনিক গবেষণা, নতুন উদ্ভাবন ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করুক।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমানে যাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতি নির্ধারণী দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাও এই মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। সবার সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও বেশি সমৃদ্ধ, গবেষণানির্ভর এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে এমন একটি সুস্থ একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মৌলিক মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যেখানে কোনো ধরনের অনৈতিক শিক্ষার স্থান থাকবে না।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উল্লেখ করেন, যেহেতু তাঁর আংশিক ও অসতর্ক বক্তব্যটি সমাজে এক ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করেছে, অনেকেই এতে তীব্রভাবে অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁর নিজের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রিয়জন গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন, সে কারণে তিনি তাঁর সেই বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই স্পষ্টীকরণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে আর কোনো নতুন বিতর্ক কিংবা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


ঢাবি নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

দেশের শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজের দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দীর্ঘ এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের এই ঘোষণা দেন।

এর আগে, একটি সুপরিচিত পডকাস্ট অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ববি হাজ্জাজের করা কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে আলোচনা চলাকালীন প্রতিমন্ত্রী দেশের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে একটি সাধারণ কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করেন। একই সঙ্গে তিনি গবেষণার মানদণ্ড টেনে দাবি করেছিলেন যে, গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের অন্তত দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। তাঁর এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে পৌঁছালে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের তৈরি হয়।

এই তীব্র বিতর্কের অবসান ঘটাতে ফেসবুকে দেওয়া নিজের ব্যাখ্যায় ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়ে যে আলোচনা ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশকে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেটির অসৎ উদ্দেশ্যে ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পডকাস্টে বলা কথাগুলো সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তা, বিশ্লেষণ ও মতামতের অংশ ছিল। এগুলো কোনোভাবেই সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা নীতিমালার প্রতিফলন নয়।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন যে সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি পুরোদস্তুর গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুদীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য, মর্যাদা কিংবা দেশের তরে এর অসামান্য অবদানকে বিন্দুমাত্র খাটো করা ছিল না; বরং প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নিজের সুউচ্চ আকাঙ্ক্ষার কথাই তিনি সেখানে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা খাত নানা ধরনের জটিল চ্যালেঞ্জ ও অবক্ষয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি বা গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একাডেমিক উৎকর্ষ সাধনের পরিবর্তে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে বারবার বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজম বা অন্যের লেখা চুরির মতো মারাত্মক অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে জনসমক্ষে এসেছে। তিনি এই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন অনৈতিক কাজের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়।

অনুষ্ঠানের পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, পডকাস্টের ওই আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক, ঘরোয়া এবং একটি স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত কাঠামোর ভেতরের আলোচনা ছিল না। যদি এটি কোনো আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার সুনির্দিষ্ট পরিসর হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা, শব্দচয়ন ও উপস্থাপনার ধরণ অবশ্যই আরও বেশি কাঠামোবদ্ধ, সংযত ও নির্দিষ্ট হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি নিজের শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য ইতিহাস, মহান ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনে এর যে ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে, তার প্রতি তাঁর অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি আন্তরিকভাবে চান এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রধান প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই টিকে না থাকুক, বরং বিশ্বমানের আধুনিক গবেষণা, নতুন উদ্ভাবন ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করুক।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমানে যাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতি নির্ধারণী দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাও এই মহৎ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। সবার সম্মিলিত ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও বেশি সমৃদ্ধ, গবেষণানির্ভর এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে এমন একটি সুস্থ একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মৌলিক মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যেখানে কোনো ধরনের অনৈতিক শিক্ষার স্থান থাকবে না।

বিবৃতির শেষাংশে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে উল্লেখ করেন, যেহেতু তাঁর আংশিক ও অসতর্ক বক্তব্যটি সমাজে এক ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করেছে, অনেকেই এতে তীব্রভাবে অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁর নিজের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রিয়জন গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন, সে কারণে তিনি তাঁর সেই বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই স্পষ্টীকরণের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে আর কোনো নতুন বিতর্ক কিংবা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল