দিকপাল

চিড়িয়াখানার তারকা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, কী থাকে তার খাবারে?


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ | ০৯:৫৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চিড়িয়াখানার তারকা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, কী থাকে তার খাবারে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগানো সেই আলোচিত সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি। বর্তমানে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে এই বিশেষ প্রাণীটি। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তার জন্য বরাদ্দ থাকছে বিপুল পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মহিষটি দৈনিক প্রায় পঁচিশ কেজি নেপিয়ার জাতের কাঁচা ঘাস সাবাড় করছে। এর পাশাপাশি তার পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দৈনিক পাঁচ কেজি করে ছোলা ও ভুসিশ্রেণির দানাদার খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। শুধু খাবারই নয়, এই বিশাল আকৃতির প্রাণীর তৃষ্ণা মেটাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আধা মণ পানির প্রয়োজন হচ্ছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, গত বৃহস্পতিবার বিরল অ্যালবিনো বা শ্বেতী জাতের এই মহিষটিকে পঁচিশ কেজি নেপিয়ার ঘাস ও পাঁচ কেজি ছোলা-ভুসি দেওয়া হয়েছিল, যা সে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়েছে। এর পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবারও প্রাণীটির জন্য ঠিক একই ধরনের এবং সমপরিমাণ পুষ্টিকর খাবারের সুষম ব্যবস্থা করা হয়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, মহিষটির শারীরিক চাহিদা ও স্বাস্থ্যের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনবোধে ভবিষ্যতে খাবারের এই পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

গত বুধবার গভীর রাতে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটিকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়। নতুন পরিবেশে আসার পর থেকেই প্রাণীটির সার্বিক দেখভাল ও সুরক্ষায় বিশেষ নজর দিচ্ছে চিড়িয়াখানা প্রশাসন। তাদের নির্ধারিত দৈনিক রুটিন অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল নয়টার দিকে মহিষটিকে প্রথম দফায় ছোলা ও ভুসিমিলিত দানাদার খাদ্য পরিবেশন করা হয়। এরপর বেলা এগারোটার দিকে তাকে দেওয়া হয় তাজা কাঁচা ঘাস। দুপুরের বিশ্রামের পর বেলা দুইটার দিকে দ্বিতীয় দফায় আবারও ঘাস খেতে দেওয়া হয় এবং বিকেল তিনটার দিকে সে তার শেষ দফার ছোলা-ভুসি গ্রহণ করে। বিকেল তিনটার এই পর্বের পর রাতে মহিষটির হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে আর কোনো ভারী খাবার দেওয়া হয় না।

বর্তমানে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই মহিষটিকে চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর নির্দিষ্ট খাঁচায় রাখা হয়েছে। খাঁচার ঠিক সামনেই আগত দর্শনার্থীদের চেনার সুবিধার্থে একটি পরিচিতি ফলক বা নেমপ্লেট ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যেখানে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’ এবং বন্ধনীর ভেতর তার জাতের পরিচিতি হিসেবে শ্বেতী মহিষ কথাটি উল্লেখ করা আছে। এই খাঁচার ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বুনো গয়াল। তবে গয়ালটি উন্মুক্ত অবস্থায় পুরো খাঁচাজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা পেলেও, এই সাদা মহিষটিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, মহিষটি সম্পূর্ণ গৃহপালিত ও লোকালয়ে বড় হওয়া একটি প্রাণী, যার কারণে সে জন্মগতভাবেই এক জায়গায় বাঁধা অবস্থায় থাকতে অভ্যস্ত। উন্মুক্ত করে দিলে তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তাই তার চেনা অভ্যাসের মধ্যেই তাকে রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার তপ্ত দুপুরে সরেজমিনে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মহিষটিকে যেখানে বেঁধে রাখা হয়েছে সেই মেঝের অংশটি পাকা ইটের তৈরি এবং মাথার ওপরে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য মজবুত টিনের ছাউনি রয়েছে। কিছুটা দূরে একটি বড় গাছ থাকলেও তীব্র দুপুরের প্রখর রোদে সেই গাছের ছায়া মহিষের থাকার ঘরের ওপর এসে পড়ে না। ফলে গরমের তীব্রতা সেখানে একটু বেশিই অনুভূত হয়। এই তীব্র গরম থেকে প্রাণীকে স্বস্তি দিতে চিড়িয়াখানার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী পাইপ দিয়ে ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে মহিষটিকে পরম যত্নে গোসল করাচ্ছিলেন। কিউরেটর আতিকুর রহমান এই বিষয়ে জানান, গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে যাতে এই বিশেষ অতিথি কোনোভাবেই অসুস্থ হয়ে না পড়ে, সেজন্য দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার তাকে নিয়ম করে গোসল করানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি খাঁচার ভেতরের বাতাস শীতল ও সচল রাখতে খুব দ্রুতই মহিষটির জন্য একটি বড় আকারের স্ট্যান্ড ফ্যানের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


চিড়িয়াখানার তারকা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, কী থাকে তার খাবারে?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া জাগানো সেই আলোচিত সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন অতিথি। বর্তমানে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে এই বিশেষ প্রাণীটি। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় তার জন্য বরাদ্দ থাকছে বিপুল পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মহিষটি দৈনিক প্রায় পঁচিশ কেজি নেপিয়ার জাতের কাঁচা ঘাস সাবাড় করছে। এর পাশাপাশি তার পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দৈনিক পাঁচ কেজি করে ছোলা ও ভুসিশ্রেণির দানাদার খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। শুধু খাবারই নয়, এই বিশাল আকৃতির প্রাণীর তৃষ্ণা মেটাতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আধা মণ পানির প্রয়োজন হচ্ছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, গত বৃহস্পতিবার বিরল অ্যালবিনো বা শ্বেতী জাতের এই মহিষটিকে পঁচিশ কেজি নেপিয়ার ঘাস ও পাঁচ কেজি ছোলা-ভুসি দেওয়া হয়েছিল, যা সে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়েছে। এর পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবারও প্রাণীটির জন্য ঠিক একই ধরনের এবং সমপরিমাণ পুষ্টিকর খাবারের সুষম ব্যবস্থা করা হয়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, মহিষটির শারীরিক চাহিদা ও স্বাস্থ্যের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনবোধে ভবিষ্যতে খাবারের এই পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

গত বুধবার গভীর রাতে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটিকে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়। নতুন পরিবেশে আসার পর থেকেই প্রাণীটির সার্বিক দেখভাল ও সুরক্ষায় বিশেষ নজর দিচ্ছে চিড়িয়াখানা প্রশাসন। তাদের নির্ধারিত দৈনিক রুটিন অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল নয়টার দিকে মহিষটিকে প্রথম দফায় ছোলা ও ভুসিমিলিত দানাদার খাদ্য পরিবেশন করা হয়। এরপর বেলা এগারোটার দিকে তাকে দেওয়া হয় তাজা কাঁচা ঘাস। দুপুরের বিশ্রামের পর বেলা দুইটার দিকে দ্বিতীয় দফায় আবারও ঘাস খেতে দেওয়া হয় এবং বিকেল তিনটার দিকে সে তার শেষ দফার ছোলা-ভুসি গ্রহণ করে। বিকেল তিনটার এই পর্বের পর রাতে মহিষটির হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে আর কোনো ভারী খাবার দেওয়া হয় না।

বর্তমানে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই মহিষটিকে চিড়িয়াখানার ‘এল-০৭’ নম্বর নির্দিষ্ট খাঁচায় রাখা হয়েছে। খাঁচার ঠিক সামনেই আগত দর্শনার্থীদের চেনার সুবিধার্থে একটি পরিচিতি ফলক বা নেমপ্লেট ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যেখানে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে ‘সাদা মহিষ (ডোনাল্ড ট্রাম্প)’ এবং বন্ধনীর ভেতর তার জাতের পরিচিতি হিসেবে শ্বেতী মহিষ কথাটি উল্লেখ করা আছে। এই খাঁচার ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বুনো গয়াল। তবে গয়ালটি উন্মুক্ত অবস্থায় পুরো খাঁচাজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধীনতা পেলেও, এই সাদা মহিষটিকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, মহিষটি সম্পূর্ণ গৃহপালিত ও লোকালয়ে বড় হওয়া একটি প্রাণী, যার কারণে সে জন্মগতভাবেই এক জায়গায় বাঁধা অবস্থায় থাকতে অভ্যস্ত। উন্মুক্ত করে দিলে তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তাই তার চেনা অভ্যাসের মধ্যেই তাকে রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার তপ্ত দুপুরে সরেজমিনে চিড়িয়াখানা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, মহিষটিকে যেখানে বেঁধে রাখা হয়েছে সেই মেঝের অংশটি পাকা ইটের তৈরি এবং মাথার ওপরে রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য মজবুত টিনের ছাউনি রয়েছে। কিছুটা দূরে একটি বড় গাছ থাকলেও তীব্র দুপুরের প্রখর রোদে সেই গাছের ছায়া মহিষের থাকার ঘরের ওপর এসে পড়ে না। ফলে গরমের তীব্রতা সেখানে একটু বেশিই অনুভূত হয়। এই তীব্র গরম থেকে প্রাণীকে স্বস্তি দিতে চিড়িয়াখানার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী পাইপ দিয়ে ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে মহিষটিকে পরম যত্নে গোসল করাচ্ছিলেন। কিউরেটর আতিকুর রহমান এই বিষয়ে জানান, গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে যাতে এই বিশেষ অতিথি কোনোভাবেই অসুস্থ হয়ে না পড়ে, সেজন্য দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার তাকে নিয়ম করে গোসল করানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি খাঁচার ভেতরের বাতাস শীতল ও সচল রাখতে খুব দ্রুতই মহিষটির জন্য একটি বড় আকারের স্ট্যান্ড ফ্যানের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল