ব্যাংক জালিয়াতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী এবং এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত এক আদেশে এই ক্রোকের নির্দেশ দেন। মূলত দেশ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট মোনাস-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা প্রক্রিয়ার আওতায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতেই সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সাইপ্রাসের স্থানীয় গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদন অনুসারে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দেশটির পারেক্লিশা এলাকায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি বিলাসবহুল দোতলা আবাসিক ভবন ক্রোক করা হয়েছে। বাংলাদেশি তদন্তকারীদের পাঠানো নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক এবং তাদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থপাচারের রহস্য উদ্ঘাটন করা। এরই অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে সাইপ্রাসে নিবন্ধিত সাইফুল আলমের মালিকানাধীন ‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি কোম্পানি এবং সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিতে থাকা বিভিন্ন ট্রাস্টের নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করছেন গোয়েন্দারা।
কাকতালীয়ভাবে সাইপ্রাসের আদালতে এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারির ঠিক এক দিন পরই বাংলাদেশে একটি আদালত সাইফুল আলমসহ তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী সংস্থাকে দেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার একটি ঋণের বিপরীতে ১৩৪টি বাস কেনার কথা থাকলেও তা কেনা হয়নি—এমন সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির মামলায় এই সাজা দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশের তদন্তের পরিধি কেবল এই একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা খেলাপি করেছে এবং জটিল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই পাচার করা অর্থের একটি বড় অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশের সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা কুইন ইমানুয়েল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইফুল আলমের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৈধ বৈদেশিক উৎস থেকে সংগৃহীত এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সাইফুল আলম, যেখানে তার দাবি এই সম্পত্তি জব্দের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত গোল্ডেন পাসপোর্ট বা সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন সাইফুল আলম, যা পরে নানাবিধ বিতর্কের কারণে সাইপ্রাস সরকার বন্ধ করে দেয়। তবে এই নাগরিকত্ব প্রদান প্রক্রিয়ার ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্তে গঠিত নিকোলাটোস কমিটির প্রতিবেদনে সাইফুল আলমের নামের কোনো উল্লেখ ছিল না।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
ব্যাংক জালিয়াতি ও বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী এবং এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত এক আদেশে এই ক্রোকের নির্দেশ দেন। মূলত দেশ থেকে প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট মোনাস-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা প্রক্রিয়ার আওতায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক অনুরোধের ভিত্তিতেই সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সাইপ্রাসের স্থানীয় গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদন অনুসারে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দেশটির পারেক্লিশা এলাকায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি বিলাসবহুল দোতলা আবাসিক ভবন ক্রোক করা হয়েছে। বাংলাদেশি তদন্তকারীদের পাঠানো নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক এবং তাদের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থপাচারের রহস্য উদ্ঘাটন করা। এরই অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে সাইপ্রাসে নিবন্ধিত সাইফুল আলমের মালিকানাধীন ‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি কোম্পানি এবং সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিতে থাকা বিভিন্ন ট্রাস্টের নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করছেন গোয়েন্দারা।
কাকতালীয়ভাবে সাইপ্রাসের আদালতে এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারির ঠিক এক দিন পরই বাংলাদেশে একটি আদালত সাইফুল আলমসহ তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী সংস্থাকে দেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার একটি ঋণের বিপরীতে ১৩৪টি বাস কেনার কথা থাকলেও তা কেনা হয়নি—এমন সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির মামলায় এই সাজা দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশের তদন্তের পরিধি কেবল এই একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা খেলাপি করেছে এবং জটিল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই পাচার করা অর্থের একটি বড় অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশের সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা কুইন ইমানুয়েল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইফুল আলমের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৈধ বৈদেশিক উৎস থেকে সংগৃহীত এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সাইফুল আলম, যেখানে তার দাবি এই সম্পত্তি জব্দের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত গোল্ডেন পাসপোর্ট বা সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন সাইফুল আলম, যা পরে নানাবিধ বিতর্কের কারণে সাইপ্রাস সরকার বন্ধ করে দেয়। তবে এই নাগরিকত্ব প্রদান প্রক্রিয়ার ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্তে গঠিত নিকোলাটোস কমিটির প্রতিবেদনে সাইফুল আলমের নামের কোনো উল্লেখ ছিল না।

আপনার মতামত লিখুন