ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকার বেশি বিল নিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। গতকাল বুধবার রাজধানীর লালবাগের ঐতিহ্যবাহী শহীদনগর শ্মশানঘাট এলাকায় আয়োজিত মশক নিধনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। এই বিশেষ সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
সম্প্রতি রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামের ডাক দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী সরাসরি অংশ নেন। তারা এলাকার বিভিন্ন খাল, খোলা ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ ও ফগিং প্রয়োগ করেন। এ সময় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার লক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালিও শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক আবদুস সালাম স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত একশত টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হলে, নগরবাসী যেন তাৎক্ষণিকভাবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। জনগণের পক্ষ থেকে আসা এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বা লাইসেন্স সরাসরি বাতিল করা হবে। এর পাশাপাশি দেশের সরকার প্রধানের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন যেকোনো কবরস্থানে লাশ দাফন এবং শ্মশানে লাশ দাহ করার নিবন্ধন ফি পূর্বের এক হাজার টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র পাঁচশত টাকা করার একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন প্রশাসক। তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে সিটি কর্পোরেশনের এসব জনকল্যাণমূলক কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকা শহর হলো পুরো বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার ও মূল দর্পণ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যখন বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে আসেন, তখন ঢাকা শহরের সার্বিক চিত্র দেখেই তারা পুরো দেশের অবস্থা বিবেচনা করেন। তাই ঢাকাকে যেকোনো মূল্যে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি সরকার প্রধানের ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজ ঢাকা’ কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পুরান ঢাকাকে আদি ঢাকা হিসেবে বিবেচনা করে আমরা চাই দক্ষিণ সিটির মধ্যে এই অঞ্চলটিই যেন সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। এখানকার রাস্তার বাতিগুলো নিয়মিত জ্বলবে, বর্জ্য বা আবর্জনা প্রতিদিন নিয়ম মেনে পরিষ্কার করা হবে এবং মশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটাই সিটি কর্পোরেশনের মূল লক্ষ্য।
দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে অনেকেই রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে, থাকার ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, আবার কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বীরদের মতো এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও দেশের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জাহানে ফেরদৌসসহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকার বেশি বিল নিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। গতকাল বুধবার রাজধানীর লালবাগের ঐতিহ্যবাহী শহীদনগর শ্মশানঘাট এলাকায় আয়োজিত মশক নিধনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। এই বিশেষ সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
সম্প্রতি রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামের ডাক দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এই বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী সরাসরি অংশ নেন। তারা এলাকার বিভিন্ন খাল, খোলা ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ ও ফগিং প্রয়োগ করেন। এ সময় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার লক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালিও শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক আবদুস সালাম স্পষ্ট করে বলেন, কোনো বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত একশত টাকার বেশি অর্থ দাবি করা হলে, নগরবাসী যেন তাৎক্ষণিকভাবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। জনগণের পক্ষ থেকে আসা এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বা লাইসেন্স সরাসরি বাতিল করা হবে। এর পাশাপাশি দেশের সরকার প্রধানের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন যেকোনো কবরস্থানে লাশ দাফন এবং শ্মশানে লাশ দাহ করার নিবন্ধন ফি পূর্বের এক হাজার টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র পাঁচশত টাকা করার একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন প্রশাসক। তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে সিটি কর্পোরেশনের এসব জনকল্যাণমূলক কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন যে, ঢাকা শহর হলো পুরো বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার ও মূল দর্পণ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যখন বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে আসেন, তখন ঢাকা শহরের সার্বিক চিত্র দেখেই তারা পুরো দেশের অবস্থা বিবেচনা করেন। তাই ঢাকাকে যেকোনো মূল্যে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি সরকার প্রধানের ‘পরিচ্ছন্ন ঢাকা, সবুজ ঢাকা’ কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, পুরান ঢাকাকে আদি ঢাকা হিসেবে বিবেচনা করে আমরা চাই দক্ষিণ সিটির মধ্যে এই অঞ্চলটিই যেন সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। এখানকার রাস্তার বাতিগুলো নিয়মিত জ্বলবে, বর্জ্য বা আবর্জনা প্রতিদিন নিয়ম মেনে পরিষ্কার করা হবে এবং মশা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটাই সিটি কর্পোরেশনের মূল লক্ষ্য।
দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে অনেকেই রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে, থাকার ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, আবার কেউ কেউ চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বীরদের মতো এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও দেশের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জাহানে ফেরদৌসসহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আপনার মতামত লিখুন