দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে অবস্থানরত 'মেঘনা ট্রেডার্স' নামের একটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই গভীর সমুদ্রে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দুটি বিশেষায়িত ইউনিট এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ দল। পরবর্তীতে আগুনের তীব্রতা এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাদের উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি শক্তিশালী উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপণ দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে যোগ দেয়।
কোস্ট গার্ডের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টা ২৫ মিনিটে ওই তেলবাহী জাহাজে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। যেহেতু এটি একটি জ্বালানি তেল পরিবহনকারী জাহাজ ছিল, তাই মুহূর্তের মধ্যেই আগুন মারাত্মক রূপ ধারণ করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই কোস্ট গার্ডের অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ জাহাজ ‘শ্যামল বাংলা’ এবং ‘বিসিজিটি প্রমত্ত’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সাগরের বুক থেকেই জাহাজের আগুন লক্ষ্য করে তীব্র গতিতে পানি ও ফেনা নিক্ষেপ করতে শুরু করে। উদ্ধার অভিযানকে আরও বেগবান ও সমন্বিত করতে পরবর্তীতে ‘বিসিজি বেইস চট্টগ্রাম’, ‘বিসিজি আউট পতেঙ্গা’ এবং একাধিক উচ্চগতির বিশেষ উদ্ধারকারী বোটও এই অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌবাহিনীর একাধিক বিশেষ ফায়ার ফাইটিং বা অগ্নিনির্বাপক জাহাজও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে কাজ শুরু করে।
অভিযান পরিচালনাকারী কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ বা তেল থাকার কারণে দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজটি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক, ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রচণ্ড উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জাহাজের আগুনকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সাথে জাহাজের ভেতরে যদি কোনো নাবিক বা কর্মী আটকে থাকেন, তবে তাদের দ্রুত ও নিরাপদে জীবিত উদ্ধার করা। কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নেভানোর কাজ নিরলসভাবে চলছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে জাহাজের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষেই সুনির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের বহির্নোঙরে অবস্থানরত 'মেঘনা ট্রেডার্স' নামের একটি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই গভীর সমুদ্রে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দুটি বিশেষায়িত ইউনিট এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ দল। পরবর্তীতে আগুনের তীব্রতা এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তাদের উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি শক্তিশালী উদ্ধারকারী ও অগ্নিনির্বাপণ দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে যোগ দেয়।
কোস্ট গার্ডের উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৭টা ২৫ মিনিটে ওই তেলবাহী জাহাজে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। যেহেতু এটি একটি জ্বালানি তেল পরিবহনকারী জাহাজ ছিল, তাই মুহূর্তের মধ্যেই আগুন মারাত্মক রূপ ধারণ করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই কোস্ট গার্ডের অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপণ জাহাজ ‘শ্যামল বাংলা’ এবং ‘বিসিজিটি প্রমত্ত’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সাগরের বুক থেকেই জাহাজের আগুন লক্ষ্য করে তীব্র গতিতে পানি ও ফেনা নিক্ষেপ করতে শুরু করে। উদ্ধার অভিযানকে আরও বেগবান ও সমন্বিত করতে পরবর্তীতে ‘বিসিজি বেইস চট্টগ্রাম’, ‘বিসিজি আউট পতেঙ্গা’ এবং একাধিক উচ্চগতির বিশেষ উদ্ধারকারী বোটও এই অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌবাহিনীর একাধিক বিশেষ ফায়ার ফাইটিং বা অগ্নিনির্বাপক জাহাজও ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে কাজ শুরু করে।
অভিযান পরিচালনাকারী কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ বা তেল থাকার কারণে দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজটি বর্তমানে অত্যন্ত বিপজ্জনক, ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রচণ্ড উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জাহাজের আগুনকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সাথে জাহাজের ভেতরে যদি কোনো নাবিক বা কর্মী আটকে থাকেন, তবে তাদের দ্রুত ও নিরাপদে জীবিত উদ্ধার করা। কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নেভানোর কাজ নিরলসভাবে চলছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং এতে জাহাজের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষেই সুনির্দিষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন