দিকপাল

নিজ দলেই বড় বিদ্রোহের মুখে ট্রাম্প


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ | ০৭:১৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নিজ দলেই বড় বিদ্রোহের মুখে ট্রাম্প

চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে বাড়তে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের আঁচ এবার সরাসরি এসে লেগেছে হোয়াইট হাউসে। দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এই প্রথম নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকেই নজিরবিহীন ও বড় ধরনের রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিনিধি প্যাটি কুলহানে মার্কিন রাজনীতির এই নাটকীয় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ পাহাড়সম হয়ে উঠছে। মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসে ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের ধৈর্যের বাঁধ এখন পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির সাধারণ করদাতা ও ভোক্তারা এই সংঘাতের তীব্র বিরোধিতা করে বলছেন যে, এই যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাদের মতে, এটি এমন কোনো যুদ্ধ ছিল না যা আমেরিকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে লড়তে হবে। মার্কিন জনগণের এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাব এখন ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন নিরপেক্ষ জনমত জরিপের তথ্যেও এই গণ-অসন্তোষের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ মানুষই এই যুদ্ধকে মোটেও পছন্দ করছেন না এবং তারা অবিলম্বে এই সংঘাতের অবসান চান। কেবল কট্টরপন্থী রিপাবলিকান গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ট্রাম্পের মূল রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে, তারাই এই যুদ্ধকে আমেরিকার স্বার্থে প্রয়োজনীয় এবং যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করছে। তবে এই কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর বাইরে দেশের সিংহভাগ সাধারণ ভোটারই এখন সরকারের এই যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ দেশটিতে সামনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেস প্রতিনিধিদের কার্যালয়ে অনবরত ফোন করে যুদ্ধ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। জনগণের এই অভূতপূর্ব ও সরাসরি চাপের মুখে পড়ে নিজেদের আসন ধরে রাখার স্বার্থেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এখন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোটারদের এই তীব্র ক্ষোভের কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামলে এই প্রথমবার নিজের ঘরের ভেতর থেকেই এত বড় এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিরোধের সম্মুখীন হলেন, যা আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


নিজ দলেই বড় বিদ্রোহের মুখে ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

চলমান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে বাড়তে থাকা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের আঁচ এবার সরাসরি এসে লেগেছে হোয়াইট হাউসে। দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এই প্রথম নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকেই নজিরবিহীন ও বড় ধরনের রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিনিধি প্যাটি কুলহানে মার্কিন রাজনীতির এই নাটকীয় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ পাহাড়সম হয়ে উঠছে। মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসে ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের ধৈর্যের বাঁধ এখন পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, দেশটির সাধারণ করদাতা ও ভোক্তারা এই সংঘাতের তীব্র বিরোধিতা করে বলছেন যে, এই যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাদের মতে, এটি এমন কোনো যুদ্ধ ছিল না যা আমেরিকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে লড়তে হবে। মার্কিন জনগণের এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাব এখন ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন নিরপেক্ষ জনমত জরিপের তথ্যেও এই গণ-অসন্তোষের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ মানুষই এই যুদ্ধকে মোটেও পছন্দ করছেন না এবং তারা অবিলম্বে এই সংঘাতের অবসান চান। কেবল কট্টরপন্থী রিপাবলিকান গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ট্রাম্পের মূল রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে, তারাই এই যুদ্ধকে আমেরিকার স্বার্থে প্রয়োজনীয় এবং যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করছে। তবে এই কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর বাইরে দেশের সিংহভাগ সাধারণ ভোটারই এখন সরকারের এই যুদ্ধংদেহী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ দেশটিতে সামনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেস প্রতিনিধিদের কার্যালয়ে অনবরত ফোন করে যুদ্ধ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। জনগণের এই অভূতপূর্ব ও সরাসরি চাপের মুখে পড়ে নিজেদের আসন ধরে রাখার স্বার্থেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এখন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোটারদের এই তীব্র ক্ষোভের কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামলে এই প্রথমবার নিজের ঘরের ভেতর থেকেই এত বড় এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিরোধের সম্মুখীন হলেন, যা আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল