দিকপাল

৫ থেকে ৭ দিনেই শেষ হতে পারে শিশু রামিসা হত্যার বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমামলার বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ | ০৪:০৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

৫ থেকে ৭ দিনেই শেষ হতে পারে শিশু রামিসা হত্যার বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমামলার বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দ্রুততম সময়ে এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে সরকার এবং প্রশাসন যে কতটা তৎপর, মন্ত্রীর বক্তব্যে তারই এক স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। রবিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। এই ঘটনাটিকে ঘিরে পুরো দেশজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকুতি তৈরি হয়েছে, সরকারের এই তড়িৎ পদক্ষেপ তাকে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরো তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার একটি নিখুঁত চিত্র তুলে ধরে বলেন যে, রামিসাকে ধর্ষণ এবং নির্মমভাবে হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো রকম সময় অপচয় না করে মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারের পর অপরাধী নিজের অপরাধ আড়াল করতে পারেনি, বরং মাত্র একদিনের মাথায় আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দেওয়া সেই জবানবন্দিতে এই ঘৃণ্য অপরাধে তার স্ত্রীর সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকার বিষয়টিও উঠে আসে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই স্বীকারোক্তির পরপরই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার স্ত্রীকেও অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিখুঁত ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণ জোগাড়ের জন্য আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, যা মাত্র তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ফলাফলও হাতে এসেছে। একই সাথে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রশাসনের হাতে এসে পৌঁছেছে।

এই সমস্ত জটিল ও স্পর্শকাতর বৈজ্ঞানিক ও আইনি তথ্যগুলোকে একসঙ্গে জড়ো করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র তৈরির কাজ গত রাতের মধ্যেই শেষ করা হয়েছে। রবিবারই সেই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করার কথা রয়েছে এবং হয়তো এতক্ষণে তা দাখিল হয়েও গেছে। সাধারণত আদালতের আসন্ন ছুটির কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি আসার আশঙ্কা থাকে, তবে এই বিশেষ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি আদালতের ছুটি বাতিলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন বলে মন্ত্রী জানান। পুরো বিষয়টি এখন আইন মন্ত্রণালয় তদারকি করছে। এছাড়া এই স্পর্শকাতর মামলাটি পরিচালনার জন্য সরকার একজন বিশেষ সরকারি আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে, যিনি শুধুমাত্র এই একটি মামলাই দেখভাল করবেন। এই সমস্ত নজিরবিহীন ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খুব সম্ভবত আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের ভেতরেই এই ঐতিহাসিক বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।

তবে রামিসার এই নির্মম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কলাবাগানে একই ধরনের আরেকটি সমগোত্রীয় ঘটনা ঘটায় সমাজের অভ্যন্তরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার অপরাধীদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পারছে কি না, গণমাধ্যমকর্মীদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত খোলামেলা ও আন্তরিকভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, এটি মূলত চরম সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিক মূল্যবোধের অভাবের ফল। এর প্রতিকারে আমাদের সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি ধর্মীয় ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার তাগিদ দেন তিনি। অপসংস্কৃতির ভয়াবহ থাবায় সমাজের কিছু অংশ এমনভাবে কলুষিত হচ্ছে যে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সংখ্যা এবং এর ভয়াবহতা এখন মানুষের সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে।

এমতাবস্থায় সরকারের মূল দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের মূল কাজ হলো অপরাধের দ্রুততম সময়ে আইনি প্রতিকার ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করা। বর্তমান প্রশাসন অপরাধীদের কোনো ছাড় না দিয়ে দ্রুত গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গত তিন মাসে প্রতিটি ঘটনায় শতভাগ সফল হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতেও এই জাতীয় যেকোনো ঘৃণ্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীদের কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি শক্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে দেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


৫ থেকে ৭ দিনেই শেষ হতে পারে শিশু রামিসা হত্যার বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমামলার বিচার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দ্রুততম সময়ে এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে সরকার এবং প্রশাসন যে কতটা তৎপর, মন্ত্রীর বক্তব্যে তারই এক স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। রবিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। এই ঘটনাটিকে ঘিরে পুরো দেশজুড়ে যে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার পাওয়ার আকুতি তৈরি হয়েছে, সরকারের এই তড়িৎ পদক্ষেপ তাকে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরো তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার একটি নিখুঁত চিত্র তুলে ধরে বলেন যে, রামিসাকে ধর্ষণ এবং নির্মমভাবে হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো রকম সময় অপচয় না করে মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারের পর অপরাধী নিজের অপরাধ আড়াল করতে পারেনি, বরং মাত্র একদিনের মাথায় আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক দেওয়া সেই জবানবন্দিতে এই ঘৃণ্য অপরাধে তার স্ত্রীর সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকার বিষয়টিও উঠে আসে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই স্বীকারোক্তির পরপরই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার স্ত্রীকেও অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিখুঁত ও অকাট্য তথ্য-প্রমাণ জোগাড়ের জন্য আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, যা মাত্র তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর ফলাফলও হাতে এসেছে। একই সাথে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রশাসনের হাতে এসে পৌঁছেছে।

এই সমস্ত জটিল ও স্পর্শকাতর বৈজ্ঞানিক ও আইনি তথ্যগুলোকে একসঙ্গে জড়ো করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র তৈরির কাজ গত রাতের মধ্যেই শেষ করা হয়েছে। রবিবারই সেই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করার কথা রয়েছে এবং হয়তো এতক্ষণে তা দাখিল হয়েও গেছে। সাধারণত আদালতের আসন্ন ছুটির কারণে বিচার প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি আসার আশঙ্কা থাকে, তবে এই বিশেষ মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি আদালতের ছুটি বাতিলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন বলে মন্ত্রী জানান। পুরো বিষয়টি এখন আইন মন্ত্রণালয় তদারকি করছে। এছাড়া এই স্পর্শকাতর মামলাটি পরিচালনার জন্য সরকার একজন বিশেষ সরকারি আইনজীবী বা পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে, যিনি শুধুমাত্র এই একটি মামলাই দেখভাল করবেন। এই সমস্ত নজিরবিহীন ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খুব সম্ভবত আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের ভেতরেই এই ঐতিহাসিক বিচারকার্য সম্পন্ন হবে।

তবে রামিসার এই নির্মম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কলাবাগানে একই ধরনের আরেকটি সমগোত্রীয় ঘটনা ঘটায় সমাজের অভ্যন্তরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার অপরাধীদের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পারছে কি না, গণমাধ্যমকর্মীদের এমন এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত খোলামেলা ও আন্তরিকভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করেন। তিনি স্বীকার করেন যে, এটি মূলত চরম সামাজিক অবক্ষয় এবং নৈতিক মূল্যবোধের অভাবের ফল। এর প্রতিকারে আমাদের সমাজ সংস্কারের পাশাপাশি ধর্মীয় ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার তাগিদ দেন তিনি। অপসংস্কৃতির ভয়াবহ থাবায় সমাজের কিছু অংশ এমনভাবে কলুষিত হচ্ছে যে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সংখ্যা এবং এর ভয়াবহতা এখন মানুষের সহ্যসীমার বাইরে চলে গেছে।

এমতাবস্থায় সরকারের মূল দায়িত্ব ও ভূমিকা স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের মূল কাজ হলো অপরাধের দ্রুততম সময়ে আইনি প্রতিকার ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করা। বর্তমান প্রশাসন অপরাধীদের কোনো ছাড় না দিয়ে দ্রুত গ্রেফতারের ক্ষেত্রে গত তিন মাসে প্রতিটি ঘটনায় শতভাগ সফল হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ভবিষ্যতেও এই জাতীয় যেকোনো ঘৃণ্য ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীদের কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি শক্ত হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে দেশের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল