রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে এক ভয়াবহ ও নৃশংস ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার আগেই চালানো এই অতর্কিত হামলায় অন্তত একুশ জন নিরপরাধ শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও বিয়াল্লিশ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোক প্রকাশ করে একে একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিন স্পষ্ট করে বলেন যে, আক্রান্ত ওই কলেজ হোস্টেলে কোনো সামরিক সেনা কিংবা গোয়েন্দা বিভাগের ঘাঁটি ছিল না। তাই এটি কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ভেবে আমাদের বিমান বাহিনী ভুল করে এই ভবনে আঘাত করেছে—ইউক্রেন বা পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষ থেকে এমন মনগড়া কথা বলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এই বর্বরোত্তম হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবং ইউক্রেনকে কঠিন ও অবিস্মরণীয় শাস্তি দেওয়ার জন্য তিনি তার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জরুরি ও কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ক্রেমলিনের কিছু উগ্র কর্মকর্তা এই অপরাধের জন্য ইউক্রেনের পাশাপাশি তাদের মদদদাতা ইউরোপের ওপরও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জোরালো দাবি তুলেছেন, যার ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক চরম ও বিপজ্জনক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, স্টারোবিলস্ক প্রফেশনাল কলেজের পাঁচতলা বিশিষ্ট মূল আবাসিক ভবনটি ড্রোনের উপর্যুপরি আঘাতে পুরোপুরি ভেঙে এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন এবং গতকাল শনিবার গভীর রাতে সেখানে উদ্ধার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ওলগা কোভালেভা নামের একুশ বছর বয়সী এক সৌভাগ্যবান কলেজ ছাত্রী গণমাধ্যমকে তার বেঁচে ফেরার রোমহর্ষক গল্প শোনান। তিনি জানান, বিকট শব্দের পর মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে এবং তিনি দীর্ঘক্ষণ অন্ধকার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা অলৌকিকভাবে তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের নাম, ছবি ও জন্মতারিখ প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখে পুরো দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে রাশিয়ার এই গুরুতর অভিযোগ ও দাবির সত্যতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। কিয়েভের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, গত শুক্রবার রাতে তারা ওই নির্দিষ্ট এলাকায় একটি সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের লক্ষ্যবস্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসামরিক লোকালয় ছিল না, বরং তারা ওই অঞ্চলে থাকা রাশিয়ার একটি সক্রিয় সেনা ঘাঁটির ওপর সুনির্দিষ্ট হামলাটি পরিচালনা করেছিল। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতেও চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং শুক্রবার রাতেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ ও জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাঙা কলেজের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও নিহত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রদর্শন করে এটিকে ইউক্রেন কর্তৃক সংঘটিত একটি জঘন্য যুদ্ধাপরাধ বলে দাবি করেন। রাশিয়ার এই বক্তব্যের কড়া জবাবে ডেনমার্কের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বলেন যে, এই একটি মাত্র অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য যদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকতে হয়, তবে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া প্রতিদিন যেভাবে নির্বিচারে বোমাবাজি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে—তার জন্য সপ্তাহে প্রতিদিন অন্তত দুইবার করে জরুরি বৈঠক ডাকা উচিত। এই নিয়ে জাতিসংঘে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব ইউক্রেনের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে এক ভয়াবহ ও নৃশংস ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার ভোরের আলো ফোটার আগেই চালানো এই অতর্কিত হামলায় অন্তত একুশ জন নিরপরাধ শিক্ষার্থী নিহত এবং আরও বিয়াল্লিশ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তীব্র ক্ষোভ ও গভীর শোক প্রকাশ করে একে একটি জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক্রেমলিন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিন স্পষ্ট করে বলেন যে, আক্রান্ত ওই কলেজ হোস্টেলে কোনো সামরিক সেনা কিংবা গোয়েন্দা বিভাগের ঘাঁটি ছিল না। তাই এটি কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু ভেবে আমাদের বিমান বাহিনী ভুল করে এই ভবনে আঘাত করেছে—ইউক্রেন বা পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষ থেকে এমন মনগড়া কথা বলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। এই বর্বরোত্তম হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিতে এবং ইউক্রেনকে কঠিন ও অবিস্মরণীয় শাস্তি দেওয়ার জন্য তিনি তার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জরুরি ও কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি ক্রেমলিনের কিছু উগ্র কর্মকর্তা এই অপরাধের জন্য ইউক্রেনের পাশাপাশি তাদের মদদদাতা ইউরোপের ওপরও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জোরালো দাবি তুলেছেন, যার ফলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক চরম ও বিপজ্জনক উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, স্টারোবিলস্ক প্রফেশনাল কলেজের পাঁচতলা বিশিষ্ট মূল আবাসিক ভবনটি ড্রোনের উপর্যুপরি আঘাতে পুরোপুরি ভেঙে এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন এবং গতকাল শনিবার গভীর রাতে সেখানে উদ্ধার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ওলগা কোভালেভা নামের একুশ বছর বয়সী এক সৌভাগ্যবান কলেজ ছাত্রী গণমাধ্যমকে তার বেঁচে ফেরার রোমহর্ষক গল্প শোনান। তিনি জানান, বিকট শব্দের পর মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনটি ধসে পড়ে এবং তিনি দীর্ঘক্ষণ অন্ধকার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা অলৌকিকভাবে তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এদিকে রাশিয়ার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের নাম, ছবি ও জন্মতারিখ প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেখে পুরো দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে রাশিয়ার এই গুরুতর অভিযোগ ও দাবির সত্যতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। কিয়েভের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, গত শুক্রবার রাতে তারা ওই নির্দিষ্ট এলাকায় একটি সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের লক্ষ্যবস্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসামরিক লোকালয় ছিল না, বরং তারা ওই অঞ্চলে থাকা রাশিয়ার একটি সক্রিয় সেনা ঘাঁটির ওপর সুনির্দিষ্ট হামলাটি পরিচালনা করেছিল। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতেও চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং শুক্রবার রাতেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বিশেষ ও জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাঙা কলেজের ধ্বংসাবশেষের ছবি ও নিহত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রদর্শন করে এটিকে ইউক্রেন কর্তৃক সংঘটিত একটি জঘন্য যুদ্ধাপরাধ বলে দাবি করেন। রাশিয়ার এই বক্তব্যের কড়া জবাবে ডেনমার্কের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বলেন যে, এই একটি মাত্র অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য যদি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকতে হয়, তবে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া প্রতিদিন যেভাবে নির্বিচারে বোমাবাজি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে—তার জন্য সপ্তাহে প্রতিদিন অন্তত দুইবার করে জরুরি বৈঠক ডাকা উচিত। এই নিয়ে জাতিসংঘে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

আপনার মতামত লিখুন