দিকপাল

যুদ্ধ থামানোর চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ | ১২:০৪ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধ থামানোর চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণা

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামানোর একটি মহা চুক্তি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার অত্যন্ত আকস্মিকভাবে নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে এই চাঞ্চল্যকর ও স্বস্তির খবরটি নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে থমথমে পরিস্থিতির অবসান ঘটে এক নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে, যা গত কয়েক মাস ধরে চলা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাকে অনেকটাই প্রশমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান এবং মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ও বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে এই সমঝোতা বা চুক্তিটি শতভাগ সফল ও পুরোপুরি কার্যকর হওয়া এখন মার্কিন ও ইরানি শীর্ষ আলোচক দল এবং এই সংকটের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরাশক্তি দেশগুলোর চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, এই মহা ঘোষণাটি দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে দফায় দফায় ফোনে দীর্ঘ আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। যার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও রয়েছেন কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং মিশরের রাষ্ট্রপ্রধানরা। এর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তাদের কূটনৈতিক দল এই দুই বিবদমান পক্ষের মধ্যে বরফ গলাতে এবং একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পর্দার আড়ালে জোরালো মধ্যস্থতা করে যাচ্ছে। অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই সংক্রান্ত পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি গভীর আশা প্রকাশ করেছেন।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, চলতি বছরের গত আটাশে ফেব্রুয়ারি এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত আটই এপ্রিলের পর থেকে কোনো পক্ষই আর বড় ধরনের কোনো আকাশপথ বা স্থলভাগের সংঘাত কিংবা হামলা চালায়নি। মাঠপর্যায়ের যুদ্ধ এক প্রকার স্থবির থাকলেও বর্তমানে আমেরিকার নৌবাহিনী ইরানের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দরগুলো চারদিক থেকে কঠোরভাবে অবরোধ করে রেখেছে। এর পাল্টা জবাব এবং নিজেদের সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইরানও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে এখন মূলত তিনটি প্রধান ও অত্যন্ত জটিল বাধা রয়েছে যা দূর করতে আন্তর্জাতিক স্তরে নিরলস আলোচনা চলছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ঠিক কী হবে এবং তা কোন নীতিমালায় পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এই সংবেদনশীল অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি এবং তাদের ঘাঁটির রূপরেখা তৈরি করা। এবং সর্বশেষ বাধাটি হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে আটকে থাকা ইরানের কোটি কোটি ডলারের জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ তেহরানের কাছে নিরাপদে ফেরত দেওয়া। এই তিনটি মূল সংকটের একটি সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে পারলেই বিশ্ব এক ভয়াবহ যুদ্ধের হাত থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


যুদ্ধ থামানোর চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামানোর একটি মহা চুক্তি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার অত্যন্ত আকস্মিকভাবে নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসীকে এই চাঞ্চল্যকর ও স্বস্তির খবরটি নিশ্চিত করেন। এই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে থমথমে পরিস্থিতির অবসান ঘটে এক নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে, যা গত কয়েক মাস ধরে চলা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাকে অনেকটাই প্রশমিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান এবং মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ ও বন্ধ থাকা কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে এই সমঝোতা বা চুক্তিটি শতভাগ সফল ও পুরোপুরি কার্যকর হওয়া এখন মার্কিন ও ইরানি শীর্ষ আলোচক দল এবং এই সংকটের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরাশক্তি দেশগুলোর চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। হোয়াইট হাউজ সূত্রে জানা গেছে, এই মহা ঘোষণাটি দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে দফায় দফায় ফোনে দীর্ঘ আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। যার মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও রয়েছেন কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক এবং মিশরের রাষ্ট্রপ্রধানরা। এর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, তাদের কূটনৈতিক দল এই দুই বিবদমান পক্ষের মধ্যে বরফ গলাতে এবং একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে পর্দার আড়ালে জোরালো মধ্যস্থতা করে যাচ্ছে। অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই সংক্রান্ত পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি গভীর আশা প্রকাশ করেছেন।

স্মরণ করা যেতে পারে যে, চলতি বছরের গত আটাশে ফেব্রুয়ারি এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যা পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত আটই এপ্রিলের পর থেকে কোনো পক্ষই আর বড় ধরনের কোনো আকাশপথ বা স্থলভাগের সংঘাত কিংবা হামলা চালায়নি। মাঠপর্যায়ের যুদ্ধ এক প্রকার স্থবির থাকলেও বর্তমানে আমেরিকার নৌবাহিনী ইরানের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দরগুলো চারদিক থেকে কঠোরভাবে অবরোধ করে রেখেছে। এর পাল্টা জবাব এবং নিজেদের সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইরানও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে এখন মূলত তিনটি প্রধান ও অত্যন্ত জটিল বাধা রয়েছে যা দূর করতে আন্তর্জাতিক স্তরে নিরলস আলোচনা চলছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ঠিক কী হবে এবং তা কোন নীতিমালায় পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এই সংবেদনশীল অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি এবং তাদের ঘাঁটির রূপরেখা তৈরি করা। এবং সর্বশেষ বাধাটি হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে আটকে থাকা ইরানের কোটি কোটি ডলারের জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ তেহরানের কাছে নিরাপদে ফেরত দেওয়া। এই তিনটি মূল সংকটের একটি সম্মানজনক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে পারলেই বিশ্ব এক ভয়াবহ যুদ্ধের হাত থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল