আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউজের একটি অতি সুরক্ষিত নিরাপত্তা চৌকির কাছে এক দুর্ধর্ষ বন্দুকধারী আকস্মিক গুলিবর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে সেখানে দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট পাহারাদারি দল বা সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রচণ্ড পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এই ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় পথচলতি এক সাধারণ পথচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন, তবে তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ আছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম আলজাজিরা এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই রোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
সিক্রেট সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় শনিবার অর্থাৎ তেইশে মে সন্ধ্যা ছয়টার কিছু সময় পর ১৭ নম্বর স্ট্রিট এবং পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি প্রধান নিরাপত্তা চৌকির দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি। প্রাথমিক তদন্ত ও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে যে, ওই ব্যক্তি তার সাথে থাকা একটি ব্যাগের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে নিয়ে এসেছিল। চেকপয়েন্টের ঠিক কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্রই সে আচমকা ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে সেখানে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত ও এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলার সঙ্গে সঙ্গেই অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা নিজেদের সুরক্ষায় পাল্টা গুলি চালান। এতে ওই দুর্ধর্ষ বন্দুকধারী বুকে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরপরই পুরো হোয়াইট হাউজ চত্বর জুড়ে এক জরুরি অবরুদ্ধ অবস্থা বা লকডাউন জারি করা হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সিক্রেট সার্ভিসের কোনো কর্মী এই ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে আহত হননি।
গোলাগুলির সেই চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত এক পথচারীও হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন। তবে তিনি ঠিক কার ছোড়া গুলিতে, অর্থাৎ হামলাকারীর গুলিতে নাকি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পাল্টা জবাবের সময় অসাবধানতাবশত আহত হয়েছেন, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, হোয়াইট হাউজের নর্থ লন বা উত্তর দিকের মাঠ থেকে অন্তত ৩০ রাউন্ডের মতো প্রচণ্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা গেছে। সে সময় সেখানে কর্মরত বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুমের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দেশের বিশেষ সামরিক বাহিনী বা ন্যাশনাল গার্ডের সশস্ত্র সদস্যরা এসে পুরো এলাকাটি কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, নিহত ওই অপরাধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি বিশেষ আইনি নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই কড়া আইনি আদেশ সম্পূর্ণ অমান্য করেই সে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হোয়াইট হাউজ এলাকায় প্রবেশ করেছিল। আমেরিকার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তথা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার সংস্থা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিক্রেট সার্ভিসকে সব ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এবং হাউস মেজোরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস হোয়াইট হাউজের দোরগোড়ায় ঘটা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকার বিষয়টি দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনার পরও রাত আটটাতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে তার দাপ্তরিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, গত পঁচিশে এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি অভিজাত হোটেলে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ অনুষ্ঠান চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার ওপর দ্বিতীয় কোনো বড় ও সরাসরি আঘাত।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউজের একটি অতি সুরক্ষিত নিরাপত্তা চৌকির কাছে এক দুর্ধর্ষ বন্দুকধারী আকস্মিক গুলিবর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে সেখানে দায়িত্বরত প্রেসিডেন্ট পাহারাদারি দল বা সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রচণ্ড পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এই ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় পথচলতি এক সাধারণ পথচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন, তবে তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ আছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম আলজাজিরা এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই রোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
সিক্রেট সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় শনিবার অর্থাৎ তেইশে মে সন্ধ্যা ছয়টার কিছু সময় পর ১৭ নম্বর স্ট্রিট এবং পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি প্রধান নিরাপত্তা চৌকির দিকে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি। প্রাথমিক তদন্ত ও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে যে, ওই ব্যক্তি তার সাথে থাকা একটি ব্যাগের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে নিয়ে এসেছিল। চেকপয়েন্টের ঠিক কাছাকাছি পৌঁছানো মাত্রই সে আচমকা ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে সেখানে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত ও এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলার সঙ্গে সঙ্গেই অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা নিজেদের সুরক্ষায় পাল্টা গুলি চালান। এতে ওই দুর্ধর্ষ বন্দুকধারী বুকে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী জর্জ ওয়াশিংটন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পরপরই পুরো হোয়াইট হাউজ চত্বর জুড়ে এক জরুরি অবরুদ্ধ অবস্থা বা লকডাউন জারি করা হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সিক্রেট সার্ভিসের কোনো কর্মী এই ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে আহত হননি।
গোলাগুলির সেই চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে সেখানে উপস্থিত এক পথচারীও হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হন। তবে তিনি ঠিক কার ছোড়া গুলিতে, অর্থাৎ হামলাকারীর গুলিতে নাকি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পাল্টা জবাবের সময় অসাবধানতাবশত আহত হয়েছেন, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কিম্বার্লি হ্যালকেট জানান, হোয়াইট হাউজের নর্থ লন বা উত্তর দিকের মাঠ থেকে অন্তত ৩০ রাউন্ডের মতো প্রচণ্ড গুলির বিকট শব্দ শোনা গেছে। সে সময় সেখানে কর্মরত বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুমের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দেশের বিশেষ সামরিক বাহিনী বা ন্যাশনাল গার্ডের সশস্ত্র সদস্যরা এসে পুরো এলাকাটি কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, নিহত ওই অপরাধী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি বিশেষ আইনি নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই কড়া আইনি আদেশ সম্পূর্ণ অমান্য করেই সে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হোয়াইট হাউজ এলাকায় প্রবেশ করেছিল। আমেরিকার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তথা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তার সংস্থা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিক্রেট সার্ভিসকে সব ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এবং হাউস মেজোরিটি লিডার স্টিভ স্ক্যালিস হোয়াইট হাউজের দোরগোড়ায় ঘটা এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বিশেষ পোস্টের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকার বিষয়টি দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনার পরও রাত আটটাতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে তার দাপ্তরিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। উল্লেখ্য, গত পঁচিশে এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি অভিজাত হোটেলে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ অনুষ্ঠান চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার ওপর দ্বিতীয় কোনো বড় ও সরাসরি আঘাত।

আপনার মতামত লিখুন