দিকপাল

কর্ণফুলীতে অবৈধ ডিজেল পাচার চক্রের ৯ সদস্য আটক উদ্ধার হয়েছে হাজার হাজার লিটার তেল


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১১ মে ২০২৬ | ০১:৫৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

কর্ণফুলীতে অবৈধ ডিজেল পাচার চক্রের ৯ সদস্য আটক উদ্ধার হয়েছে হাজার হাজার লিটার তেল

চট্টগ্রামের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদীতে সক্রিয় জ্বালানি তেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন নদীর ডাঙ্গারচর এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় ৪ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করার পাশাপাশি এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। রোববার রাতে কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তর থেকে সংবাদ মাধ্যমকে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, তাদের কাছে আগে থেকেই গোপন গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে কর্ণফুলী নদীর একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে জাহাজের জ্বালানি চুরির একটি বড় চালান হাতবদল হতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রামের একটি চৌকস দল শনিবার রাত ১০টার দিকে ডাঙ্গারচর এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জাহাজ ‘কান্ডারী-৬’ থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে ‘ওটি আজু শাহ’ নামের একটি বেসরকারি অয়েল ট্যাঙ্কারে পাইপের মাধ্যমে ডিজেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল। কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অতর্কিত হানা দিলে পালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই পাচারকারী চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জব্দকৃত ৪ হাজার লিটার ডিজেলের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এই জ্বালানি তেল মূলত বন্দর কর্তৃপক্ষের জাহাজ থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত ডিজেল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং কর্ণফুলী নদীর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় জাহাজ থেকে জ্বালানি চুরির সাথে কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


বিষয় : পাচার কর্ণফুলী

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


কর্ণফুলীতে অবৈধ ডিজেল পাচার চক্রের ৯ সদস্য আটক উদ্ধার হয়েছে হাজার হাজার লিটার তেল

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত কর্ণফুলী নদীতে সক্রিয় জ্বালানি তেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন নদীর ডাঙ্গারচর এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় ৪ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করার পাশাপাশি এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। রোববার রাতে কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তর থেকে সংবাদ মাধ্যমকে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, তাদের কাছে আগে থেকেই গোপন গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে কর্ণফুলী নদীর একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে জাহাজের জ্বালানি চুরির একটি বড় চালান হাতবদল হতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রামের একটি চৌকস দল শনিবার রাত ১০টার দিকে ডাঙ্গারচর এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জাহাজ ‘কান্ডারী-৬’ থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে ‘ওটি আজু শাহ’ নামের একটি বেসরকারি অয়েল ট্যাঙ্কারে পাইপের মাধ্যমে ডিজেল স্থানান্তর করা হচ্ছিল। কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অতর্কিত হানা দিলে পালানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই পাচারকারী চক্রের ৯ সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জব্দকৃত ৪ হাজার লিটার ডিজেলের বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। এই জ্বালানি তেল মূলত বন্দর কর্তৃপক্ষের জাহাজ থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে কালোবাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল। অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত ডিজেল পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং কর্ণফুলী নদীর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় জাহাজ থেকে জ্বালানি চুরির সাথে কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল