দিকপাল

চেক চুরি ও সই জালিয়াতির মামলায় লক্ষ্মীপুরের সাবেক বার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কারাগারে


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৫৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চেক চুরি ও সই জালিয়াতির মামলায় লক্ষ্মীপুরের সাবেক বার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

চেক চুরি ও সই জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৬ লাখ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর মামলায় লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের এই আদেশ দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম রায়পুর উপজেলার উদমদ মারা গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলীর স্ত্রী। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার আত্মীয়তার সুবাদে মরিয়ম বেগমের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দারগঞ্জ শাখায় তাঁর ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা একটি চেক গোপনে চুরি করেন। পরবর্তীতে ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা অঙ্ক বসিয়ে মরিয়ম বেগমের সই জাল করে টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে জমা দেন তিনি। 

ব্যাংকে চেকটি জমা হওয়ার পর সইয়ে অমিল ও সন্দেহ দেখা দেওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক মরিয়ম বেগমকে বিষয়টি অবহিত করে। এই জালিয়াতির ঘটনার পর মরিয়ম বেগমের স্বামী ইউসুফ আলী বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে।

ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়ায় সিআইডির (CID) বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, চেকে থাকা সইটি মরিয়ম বেগমের নয়; সেটি সম্পূর্ণ জাল এবং জালিয়াতি করা সইটি হুমায়ুন কবিরেরই। সিআইডির দেওয়া এই ফরেনসিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। 

রোববার পূর্বনির্ধারিত দিনে আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আকুল আবেদন জানান অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির হাওলাদার। বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফিরোজ আলম শুনানি পরিচালনা করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. হাসান ও মিজানুর রহমান মুন্সীসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম জানান, আদালতের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সাত দিনের সময় প্রার্থনা করেছিলেন। তবে বাদীপক্ষ সরাসরি আইনি প্রতিকার চাওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি। ফলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে সাবেক এই আইনজীবী নেতাকে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


চেক চুরি ও সই জালিয়াতির মামলায় লক্ষ্মীপুরের সাবেক বার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চেক চুরি ও সই জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৬ লাখ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর মামলায় লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের এই আদেশ দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফিরোজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম রায়পুর উপজেলার উদমদ মারা গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলীর স্ত্রী। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার আত্মীয়তার সুবাদে মরিয়ম বেগমের বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের হায়দারগঞ্জ শাখায় তাঁর ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা একটি চেক গোপনে চুরি করেন। পরবর্তীতে ওই চেকে ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা অঙ্ক বসিয়ে মরিয়ম বেগমের সই জাল করে টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে জমা দেন তিনি। 

ব্যাংকে চেকটি জমা হওয়ার পর সইয়ে অমিল ও সন্দেহ দেখা দেওয়ায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক মরিয়ম বেগমকে বিষয়টি অবহিত করে। এই জালিয়াতির ঘটনার পর মরিয়ম বেগমের স্বামী ইউসুফ আলী বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির হাওলাদার ও আব্দুস শহীদকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে।

ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়ায় সিআইডির (CID) বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, চেকে থাকা সইটি মরিয়ম বেগমের নয়; সেটি সম্পূর্ণ জাল এবং জালিয়াতি করা সইটি হুমায়ুন কবিরেরই। সিআইডির দেওয়া এই ফরেনসিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। 

রোববার পূর্বনির্ধারিত দিনে আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আকুল আবেদন জানান অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির হাওলাদার। বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ফিরোজ আলম শুনানি পরিচালনা করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. হাসান ও মিজানুর রহমান মুন্সীসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম জানান, আদালতের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সাত দিনের সময় প্রার্থনা করেছিলেন। তবে বাদীপক্ষ সরাসরি আইনি প্রতিকার চাওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি। ফলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে সাবেক এই আইনজীবী নেতাকে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অপর আসামি আব্দুস শহীদ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল