বর্ষা মৌসুম এলে পদ্মার পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে চর প্লাবিত হয়ে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি ও ফসলের মাঠ, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে রূপ নেয় বিশাল বালুচরে। রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ১৭.২০ মিটারে পৌঁছানোর ফলে বিপৎসীমার (১৮.০৫ মিটার) নিচে থাকলেও দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর ও খানপুরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে গবাদিপশু ও সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নৌকায় করে শহরের দিকে আশ্রয় নিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও একই উজানের ঢলে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, যেখানে নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে বর্ষার এই উপচে পড়া পানি কয়েক মাস পরই উধাও হয়ে যায়। নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীর মতে, উজানে পানি প্রত্যাহার, পলি জমে নাব্য হ্রাস ও স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই পদ্মার এই তীব্র বৈপরীত্য দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে ভারতে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদও চলতি ২০২৬ সালেই শেষ হতে যাচ্ছে।
পদ্মার এই প্রাকৃতির পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে। সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, তেমনই নদীতে দেশি মাছ ও ইলিশের বিচরণসংকট প্রকট হচ্ছে। উদ্ভূত সংকট নিরসনে রাজশাহীতে প্রস্তাবিত 'পদ্মা ব্যারেজ' বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য পানিপ্রবাহ নিশ্চিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তঃসীমান্ত নদীব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বর্ষা মৌসুম এলে পদ্মার পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে চর প্লাবিত হয়ে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি ও ফসলের মাঠ, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে রূপ নেয় বিশাল বালুচরে। রাজশাহীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ১৭.২০ মিটারে পৌঁছানোর ফলে বিপৎসীমার (১৮.০৫ মিটার) নিচে থাকলেও দক্ষিণ তীরের চরখিদিরপুর ও খানপুরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে গবাদিপশু ও সংসারের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নৌকায় করে শহরের দিকে আশ্রয় নিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও একই উজানের ঢলে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন, যেখানে নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে বর্ষার এই উপচে পড়া পানি কয়েক মাস পরই উধাও হয়ে যায়। নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীর মতে, উজানে পানি প্রত্যাহার, পলি জমে নাব্য হ্রাস ও স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই পদ্মার এই তীব্র বৈপরীত্য দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে ভারতে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদও চলতি ২০২৬ সালেই শেষ হতে যাচ্ছে।
পদ্মার এই প্রাকৃতির পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে। সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, তেমনই নদীতে দেশি মাছ ও ইলিশের বিচরণসংকট প্রকট হচ্ছে। উদ্ভূত সংকট নিরসনে রাজশাহীতে প্রস্তাবিত 'পদ্মা ব্যারেজ' বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য পানিপ্রবাহ নিশ্চিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি আন্তঃসীমান্ত নদীব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

আপনার মতামত লিখুন