বিন্না ঘাস (ইংরেজি: Vetiver Grass) হলো এক প্রকার বিশেষ প্রজাতির লম্বা ও শক্ত প্রকৃতির ঘাস, যা সাধারণত বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, নদী-নালা কিংবা পরিত্যক্ত পতিত জমিতে প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠে। বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও এর প্রধান শক্তি লুকিয়ে রয়েছে এর মূল বা শেকড়ে। এই ঘাসের লম্বা ও বিস্তৃত শেকড় খুব দ্রুত মাটির বেশ গভীরে প্রবেশ করে প্রকাণ্ড জালের মতো মাটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে।
মাটি ও পাহাড়ধস রোধে:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের মতে, বিন্না ঘাসের শেকড় মাটির গভীরে গিয়ে প্রাকৃতিক বাঁধাইয়ের কাজ করে। ফলে বিভিন্ন দেশে এবং বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি ঢালের ক্ষয়রোধ ও পাহাড়ধস বন্ধে এটি চমৎকার পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে কাজ করে।
নদীভাঙন ও অবকাঠামো সুরক্ষা:
প্রকৌশল বিদ্যায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। নদীর পাড়, বাঁধ ও রাস্তার পাশে এটি রোপণ করলে পানির তোড় বা অতিবৃষ্টিতে মাটি ধসে যাওয়া থামানো সম্ভব হয়। এর ফলে নদীভাঙন রোধ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসে।
খাল খনন ও প্রাকৃতিক বাঁধ টেকসই করা:
বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির প্ররিপ্রেক্ষিতে এই ঘাসের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। খালের পাড় ও বাঁধগুলোকে স্থায়ী ও টেকসই রূপ দিতে পরিবেশবান্ধব বিন্না ঘাস ব্যবহারের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিটি গঠন ও গাইডলাইন তৈরি:
বিন্না ঘাসের উপযোগিতা যাচাই, কার্যকর ব্যবহারের খাত চিহ্নিত করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির জন্য সরকার একটি বিশেষ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে, যেখানে গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকেও যুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
বিন্না ঘাস (ইংরেজি: Vetiver Grass) হলো এক প্রকার বিশেষ প্রজাতির লম্বা ও শক্ত প্রকৃতির ঘাস, যা সাধারণত বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, নদী-নালা কিংবা পরিত্যক্ত পতিত জমিতে প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠে। বাহ্যিকভাবে সাধারণ মনে হলেও এর প্রধান শক্তি লুকিয়ে রয়েছে এর মূল বা শেকড়ে। এই ঘাসের লম্বা ও বিস্তৃত শেকড় খুব দ্রুত মাটির বেশ গভীরে প্রবেশ করে প্রকাণ্ড জালের মতো মাটিকে অত্যন্ত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারে।
মাটি ও পাহাড়ধস রোধে:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের মতে, বিন্না ঘাসের শেকড় মাটির গভীরে গিয়ে প্রাকৃতিক বাঁধাইয়ের কাজ করে। ফলে বিভিন্ন দেশে এবং বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি ঢালের ক্ষয়রোধ ও পাহাড়ধস বন্ধে এটি চমৎকার পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে কাজ করে।
নদীভাঙন ও অবকাঠামো সুরক্ষা:
প্রকৌশল বিদ্যায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। নদীর পাড়, বাঁধ ও রাস্তার পাশে এটি রোপণ করলে পানির তোড় বা অতিবৃষ্টিতে মাটি ধসে যাওয়া থামানো সম্ভব হয়। এর ফলে নদীভাঙন রোধ এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসে।
খাল খনন ও প্রাকৃতিক বাঁধ টেকসই করা:
বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির প্ররিপ্রেক্ষিতে এই ঘাসের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। খালের পাড় ও বাঁধগুলোকে স্থায়ী ও টেকসই রূপ দিতে পরিবেশবান্ধব বিন্না ঘাস ব্যবহারের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিটি গঠন ও গাইডলাইন তৈরি:
বিন্না ঘাসের উপযোগিতা যাচাই, কার্যকর ব্যবহারের খাত চিহ্নিত করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির জন্য সরকার একটি বিশেষ টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে, যেখানে গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকেও যুক্ত করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন