দিকপাল

চুক্তি সত্ত্বেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুভাব’ অব্যাহত থাকবে


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

চুক্তি সত্ত্বেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুভাব’ অব্যাহত থাকবে

যেকোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চরম বৈরিতা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম। তিনি বলেন, ইরানিরা খুব ভালো করেই জানে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি শত্রুতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং আগামী দিনগুলোতে এই বৈরিতা আরও নানামুখী ও জটিল রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

অধ্যাপক খোশচেশম বলেন, সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বিশ্বমঞ্চে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ইরানের সাধারণ জনগণ অত্যন্ত সচেতন এবং তারা পশ্চিমা বিশ্বের এই দীর্ঘকালীন শত্রুতার ধরন সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কোনো পারমাণবিক চুক্তি হোক বা না হোক—ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ, একতরফা নিষেধাজ্ঞা, সাইবার হামলা, শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের গুপ্তহত্যা এবং স্পর্শকাতর স্থাপনায় নাশকতার মতো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড শত্রুপক্ষ কখনোই বন্ধ করবে না।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে স্মরণকালের বৃহত্তম এই জানাজা অনুষ্ঠানে শামিল হওয়ার মাধ্যমে ইরানের জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা যেকোনো জাতীয় সংকটে সরকারের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতার ঘোষিত নীতি, আদর্শ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের অটল ও অবিচল সমর্থন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশের ভেতরের এই জনসমর্থন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও ভবিষ্যৎ স্থায়ী প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


চুক্তি সত্ত্বেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুভাব’ অব্যাহত থাকবে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

যেকোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পরেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চরম বৈরিতা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম। তিনি বলেন, ইরানিরা খুব ভালো করেই জানে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি শত্রুতা এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং আগামী দিনগুলোতে এই বৈরিতা আরও নানামুখী ও জটিল রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

অধ্যাপক খোশচেশম বলেন, সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষের ঐতিহাসিক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি বিশ্বমঞ্চে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ইরানের সাধারণ জনগণ অত্যন্ত সচেতন এবং তারা পশ্চিমা বিশ্বের এই দীর্ঘকালীন শত্রুতার ধরন সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কোনো পারমাণবিক চুক্তি হোক বা না হোক—ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ, একতরফা নিষেধাজ্ঞা, সাইবার হামলা, শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের গুপ্তহত্যা এবং স্পর্শকাতর স্থাপনায় নাশকতার মতো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড শত্রুপক্ষ কখনোই বন্ধ করবে না।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে স্মরণকালের বৃহত্তম এই জানাজা অনুষ্ঠানে শামিল হওয়ার মাধ্যমে ইরানের জনগণ প্রমাণ করেছে যে তারা যেকোনো জাতীয় সংকটে সরকারের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতার ঘোষিত নীতি, আদর্শ এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের অটল ও অবিচল সমর্থন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশের ভেতরের এই জনসমর্থন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও ভবিষ্যৎ স্থায়ী প্রশাসনের নীতি নির্ধারণে বড় ধরনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল