দিকপাল

তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা রাজধানী তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ডসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ইরানের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি এই জানাজায় ইমামতি করেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানাজার নামাজ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লা চত্বর এবং এর চারপাশের রাস্তাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে প্রয়াত এই নেতার স্মরণে বিশেষ শোক শোভাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আগামী বৃহস্পতিবার তার জন্মশহর ইরানের মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। নতুন এই নেতার শাসনামলের শুরুতেই দেশটিতে এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে, যদিও ক্ষমতা গ্রহণের পর মোজতবা খামেনি এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি।

১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হন। দীর্ঘ শাসনামলে তিনি ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে এক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। তবে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই তার প্রশাসন তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে পড়ে। অবশেষে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


তেহরানে খামেনির প্রথম জানাজা সম্পন্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা রাজধানী তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই জানাজায় স্মরণকালের রেকর্ডসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। ইরানের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি এই জানাজায় ইমামতি করেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানাজার নামাজ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই মোসাল্লা চত্বর এবং এর চারপাশের রাস্তাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে প্রয়াত এই নেতার স্মরণে বিশেষ শোক শোভাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আগামী বৃহস্পতিবার তার জন্মশহর ইরানের মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। নতুন এই নেতার শাসনামলের শুরুতেই দেশটিতে এত বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে, যদিও ক্ষমতা গ্রহণের পর মোজতবা খামেনি এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি।

১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর, প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হন। দীর্ঘ শাসনামলে তিনি ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে এক শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করান। তবে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই তার প্রশাসন তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে পড়ে। অবশেষে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল