যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে মানুষের ঢল নেমেছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের বাইরে হাজার হাজার শোকাহত মানুষ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জনসাধারণের জন্য কমপ্লেক্সের গেট খুলে দেওয়ার অনেক আগে থেকেই সেখানে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রয়াত নেতার মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয় এবং শুক্রবার থেকে শুরু হয় রাষ্ট্রীয় বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। ৩৭ বছর ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে পুরো দেশজুড়ে চলছে রাষ্ট্রীয় শোক। তেহরান থেকে মাশহাদ—সবখানেই এখন শোক আর শ্রদ্ধার আবহ।
ইরান কর্তৃপক্ষের ধারণা, সর্বোচ্চ নেতার এই ঐতিহাসিক জানাজায় এক কোটিরও বেশি মানুষ সমবেত হবেন। প্রাণের অভিভাবককে শেষ বিদায় জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজারো সাধারণ ইরানি। শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোমাইয়ে হামেদি নামে এক নারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা আমাদের নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এসেছি। তাই এই দীর্ঘ অপেক্ষা আমাদের কাছে কোনো কষ্টেরই মনে হচ্ছে না।”
ইরানের জনগণের কাছে খামেনি ছিলেন সাহস ও শক্তির এক প্রতীক। তবে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিদেশি প্রতিনিধিদল অংশ নিলেও ইউরোপীয় দেশগুলোকে কোনো আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন খামেনি। ওই হামলায় তাঁর মেয়ে, নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূও প্রাণ হারান। এরপর ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা চলতে থাকায় খামেনির দাফন অনুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান একটি যুদ্ধবিরতির অবকাশে, দীর্ঘ চার মাস পর অত্যন্ত ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। ইরান কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে সাত দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠান চলবে।
গতকাল শুক্রবার এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে ইরানের তিনটি প্রধান সরকারি শাখার প্রধানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সংসদীয় স্পিকার ও বিশেষ দূতেরা খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা নীরবে চোখের জলে বিদায় জানান তাদের নেতাকে।
পাশাপাশি প্রতিরোধ ফ্রন্টের (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) শহীদ পরিবার, লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা এবং আরব উপজাতীয় নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং পরে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া ভারতের শিখ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলও এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে মানুষের ঢল নেমেছে। আজ শনিবার (৪ জুলাই) ভোর থেকেই তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সের বাইরে হাজার হাজার শোকাহত মানুষ সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জনসাধারণের জন্য কমপ্লেক্সের গেট খুলে দেওয়ার অনেক আগে থেকেই সেখানে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রয়াত নেতার মরদেহ গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আনা হয় এবং শুক্রবার থেকে শুরু হয় রাষ্ট্রীয় বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। ৩৭ বছর ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া এই শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে পুরো দেশজুড়ে চলছে রাষ্ট্রীয় শোক। তেহরান থেকে মাশহাদ—সবখানেই এখন শোক আর শ্রদ্ধার আবহ।
ইরান কর্তৃপক্ষের ধারণা, সর্বোচ্চ নেতার এই ঐতিহাসিক জানাজায় এক কোটিরও বেশি মানুষ সমবেত হবেন। প্রাণের অভিভাবককে শেষ বিদায় জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাজারো সাধারণ ইরানি। শ্রদ্ধা জানাতে আসা সোমাইয়ে হামেদি নামে এক নারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা আমাদের নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এসেছি। তাই এই দীর্ঘ অপেক্ষা আমাদের কাছে কোনো কষ্টেরই মনে হচ্ছে না।”
ইরানের জনগণের কাছে খামেনি ছিলেন সাহস ও শক্তির এক প্রতীক। তবে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিদেশি প্রতিনিধিদল অংশ নিলেও ইউরোপীয় দেশগুলোকে কোনো আমন্ত্রণ জানায়নি তেহরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন খামেনি। ওই হামলায় তাঁর মেয়ে, নাতনি, জামাতা এবং পুত্রবধূও প্রাণ হারান। এরপর ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা চলতে থাকায় খামেনির দাফন অনুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান একটি যুদ্ধবিরতির অবকাশে, দীর্ঘ চার মাস পর অত্যন্ত ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। ইরান কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান ও ইরাকের একাধিক শহরে সাত দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠান চলবে।
গতকাল শুক্রবার এক ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানে ইরানের তিনটি প্রধান সরকারি শাখার প্রধানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সংসদীয় স্পিকার ও বিশেষ দূতেরা খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতারা নীরবে চোখের জলে বিদায় জানান তাদের নেতাকে।
পাশাপাশি প্রতিরোধ ফ্রন্টের (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট) শহীদ পরিবার, লেবাননের হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা এবং আরব উপজাতীয় নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে খামেনির মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং পরে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া ভারতের শিখ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলও এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।

আপনার মতামত লিখুন