ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের ছয় দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি এবং এর নানা অনুষঙ্গ নিচে স্বাধীন প্যারাগ্রাফ বা অনুচ্ছেদে দেওয়া হলো: শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় 'শতাব্দীর সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া' হিসেবে আখ্যায়িত এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাচ্ছে, যা খামেনির হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রথম দুই দিন অর্থাৎ শনিবার ও রবিবার বিকেল পর্যন্ত তেহরানের মোসাল্লায় খামেনির কফিনটি একটি উঁচু মঞ্চে প্রদর্শন করে রাখা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ গিয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।
দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এমনভাবে পথ পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে প্রত্যেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে নিরাপদে বের হয়ে যেতে পারেন।
সোমবার তেহরানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ স্থানান্তরিত করা হবে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর কোমে, যেখানে জামকারান মসজিদে শিয়াদের জ্যেষ্ঠ আলেমদের উপস্থিতিতে বিশেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার খামেনির মরদেহ আকাশপথে নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে এবং সেখানে অন্ত্যেষ্টিযাত্রা শেষে শিয়া মুসলিমদের প্রথম ইমাম হযরত আলীর (রা.) সমাধিস্থলে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে।
ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধে নাজাফ পর্ব শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঐতিহাসিক কারবালা প্রাঙ্গণে এবং সেখানে নির্ধারিত কর্মসূচি সমাপ্ত করে ওই দিনই কফিন আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।
ছয় দিনের কর্মসূচির শেষ দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে তাঁর জন্মশহর মাশহাদে এবং শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান ইমাম রেজার সমাধিস্থলে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ইরানজুড়ে আরও ৪০ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান চলবে এবং দাফনের প্রথম বার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণসভা ও কর্মসূচি পালনের আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।
ঐতিহাসিক এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ, যার প্রস্তুতি হিসেবে ১০ লাখের বেশি দর্শনার্থীর থাকার ব্যবস্থা এবং হাজারো সেবাকেন্দ্র (মাওকিব) গড়ে তোলা হয়েছে।
বিশাল এই জনসমাগম ও পুরো কার্যক্রমের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তেহরানভিত্তিক প্রধান প্রাদেশিক ইউনিট 'মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোর'।
জানাজার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রতীক এবং "আমাদের জেগে উঠতেই হবে" স্লোগানটি নির্ধারণ করা হয়েছে।এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন, যার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইতিমধ্যেই তেহরানে পৌঁছেছেন।
ঐতিহাসিক এই আয়োজন কভার করতে বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি সাংবাদিক বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই শেষকৃত্য কেবল ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রদর্শন এবং খামেনি-পরবর্তী ক্ষমতার কাঠামো সুসংহত করার একটি বড় প্রতীকী সুযোগ।
এত বড় আয়োজনের মাঝেও খামেনির উত্তরসূরি ও ছেলে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে, কারণ গত ২৮শে ফেব্রুয়ারির হামলায় তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা ও তাঁর ভাইবোনদের আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
মোজতবা খামেনি শেষ পর্যন্ত বাবার জানাজায় সশরীরে উপস্থিত হবেন কি না এবং এই ঐতিহাসিক জানাজার নামাজে মূল ইমামতি কে করবেন—তা শিয়া ঐতিহ্য ও ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত হিসেবে সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের ছয় দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি এবং এর নানা অনুষঙ্গ নিচে স্বাধীন প্যারাগ্রাফ বা অনুচ্ছেদে দেওয়া হলো: শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় 'শতাব্দীর সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া' হিসেবে আখ্যায়িত এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাচ্ছে, যা খামেনির হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রথম দুই দিন অর্থাৎ শনিবার ও রবিবার বিকেল পর্যন্ত তেহরানের মোসাল্লায় খামেনির কফিনটি একটি উঁচু মঞ্চে প্রদর্শন করে রাখা হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ গিয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন।
দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এমনভাবে পথ পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে প্রত্যেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে নিরাপদে বের হয়ে যেতে পারেন।
সোমবার তেহরানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ স্থানান্তরিত করা হবে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর কোমে, যেখানে জামকারান মসজিদে শিয়াদের জ্যেষ্ঠ আলেমদের উপস্থিতিতে বিশেষ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার খামেনির মরদেহ আকাশপথে নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে এবং সেখানে অন্ত্যেষ্টিযাত্রা শেষে শিয়া মুসলিমদের প্রথম ইমাম হযরত আলীর (রা.) সমাধিস্থলে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে।
ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধে নাজাফ পর্ব শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ঐতিহাসিক কারবালা প্রাঙ্গণে এবং সেখানে নির্ধারিত কর্মসূচি সমাপ্ত করে ওই দিনই কফিন আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।
ছয় দিনের কর্মসূচির শেষ দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে তাঁর জন্মশহর মাশহাদে এবং শিয়া ইসলামের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান ইমাম রেজার সমাধিস্থলে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ইরানজুড়ে আরও ৪০ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান চলবে এবং দাফনের প্রথম বার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণসভা ও কর্মসূচি পালনের আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।
ঐতিহাসিক এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ, যার প্রস্তুতি হিসেবে ১০ লাখের বেশি দর্শনার্থীর থাকার ব্যবস্থা এবং হাজারো সেবাকেন্দ্র (মাওকিব) গড়ে তোলা হয়েছে।
বিশাল এই জনসমাগম ও পুরো কার্যক্রমের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তেহরানভিত্তিক প্রধান প্রাদেশিক ইউনিট 'মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোর'।
জানাজার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রতীক এবং "আমাদের জেগে উঠতেই হবে" স্লোগানটি নির্ধারণ করা হয়েছে।এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন, যার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইতিমধ্যেই তেহরানে পৌঁছেছেন।
ঐতিহাসিক এই আয়োজন কভার করতে বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি সাংবাদিক বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই শেষকৃত্য কেবল ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ঐক্য প্রদর্শন এবং খামেনি-পরবর্তী ক্ষমতার কাঠামো সুসংহত করার একটি বড় প্রতীকী সুযোগ।
এত বড় আয়োজনের মাঝেও খামেনির উত্তরসূরি ও ছেলে মোজতবা খামেনির উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে, কারণ গত ২৮শে ফেব্রুয়ারির হামলায় তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা ও তাঁর ভাইবোনদের আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
মোজতবা খামেনি শেষ পর্যন্ত বাবার জানাজায় সশরীরে উপস্থিত হবেন কি না এবং এই ঐতিহাসিক জানাজার নামাজে মূল ইমামতি কে করবেন—তা শিয়া ঐতিহ্য ও ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ইঙ্গিত হিসেবে সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন