আঞ্চলিক শান্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা খাতে প্রথমবারের মতো একটি বড় যৌথ উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও জাপান। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, জ্বালানি ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসা জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানো তাকাইচি (সানায়ে তাকাইচি) এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ঐতিহাসিক এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে এই দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন শেষে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।
এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রথম 'যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন' প্রকল্প। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজের জন্য তৈরি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা— নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা 'ইউনিকর্ন' (UNICORN) যৌথভাবে তৈরি করবে ভারত ও জাপান।
চুক্তি শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, "আজ আমরা প্রতিরক্ষা খাতে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম যৌথ-উন্নয়ন প্রকল্পে স্বাক্ষর করেছি। নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা সংক্রান্ত এই চুক্তিটি আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এখন থেকে আমরা যৌথভাবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করব যা আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে অবদান রাখবে।"
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানো তাকাইচি একটি 'মুক্ত ও নিয়মতান্ত্রিক ইন্দো-প্যাসিফিক' (FOIP) অঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই দেশের এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।
প্রতিরক্ষা ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্কের পরিধি বাড়াতে নতুন করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে:
এআই ও ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি: দুই দেশ যৌথভাবে বড় ভাষার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল (Large Language Models - LLMs) উন্নয়ন এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে গবেষণার ঘোষণা দিয়েছে।
জালানি নিরাপত্তা: ভারতের পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে ১,০০০টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের লক্ষ্যে ‘জাপান-ভারত সিবিজি (Cooperative Biogas for Growth) উদ্যোগ’ চালু করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৫ বিলিয়ন ডলারে। গত বছর ভারতে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার। গত বছর টোকিও সফরে নরেন্দ্র মোদির কাছে আগামী এক দশকে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ দ্বিগুণ (১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন) করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন ভারতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে শীর্ষ বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের এই নিবিড় অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চলতি বছরের শেষভাগের মধ্যেই 'টু প্লাস টু' (২+২) অর্থাৎ দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন মোদি ও তাকাইচি।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
আঞ্চলিক শান্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা খাতে প্রথমবারের মতো একটি বড় যৌথ উন্নয়ন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও জাপান। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, জ্বালানি ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে আসা জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানো তাকাইচি (সানায়ে তাকাইচি) এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ঐতিহাসিক এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে এই দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন শেষে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।
এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রথম 'যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন' প্রকল্প। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধজাহাজের জন্য তৈরি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা— নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা 'ইউনিকর্ন' (UNICORN) যৌথভাবে তৈরি করবে ভারত ও জাপান।
চুক্তি শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, "আজ আমরা প্রতিরক্ষা খাতে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম যৌথ-উন্নয়ন প্রকল্পে স্বাক্ষর করেছি। নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা সংক্রান্ত এই চুক্তিটি আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এখন থেকে আমরা যৌথভাবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করব যা আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে অবদান রাখবে।"
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানো তাকাইচি একটি 'মুক্ত ও নিয়মতান্ত্রিক ইন্দো-প্যাসিফিক' (FOIP) অঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই দেশের এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।
প্রতিরক্ষা ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্কের পরিধি বাড়াতে নতুন করে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে:
এআই ও ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি: দুই দেশ যৌথভাবে বড় ভাষার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল (Large Language Models - LLMs) উন্নয়ন এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে গবেষণার ঘোষণা দিয়েছে।
জালানি নিরাপত্তা: ভারতের পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশটিতে ১,০০০টি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের লক্ষ্যে ‘জাপান-ভারত সিবিজি (Cooperative Biogas for Growth) উদ্যোগ’ চালু করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৫ বিলিয়ন ডলারে। গত বছর ভারতে জাপানি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩.২ বিলিয়ন ডলার। গত বছর টোকিও সফরে নরেন্দ্র মোদির কাছে আগামী এক দশকে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ দ্বিগুণ (১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন) করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন ভারতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে শীর্ষ বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের এই নিবিড় অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চলতি বছরের শেষভাগের মধ্যেই 'টু প্লাস টু' (২+২) অর্থাৎ দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন মোদি ও তাকাইচি।

আপনার মতামত লিখুন