দিকপাল

নিখোঁজ ৪ ছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:১৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

নিখোঁজ ৪ ছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে অবশেষে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় আজ বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সিলেট থেকে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র প্রলোভন দেখিয়ে এই ছাত্রীদের ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সিলেটে নিয়ে এসেছিল।

পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রীদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে ওই চার ছাত্রী একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে। তবে দুপুরের পরও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

ঘটনার পর পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস গণমাধ্যমকে জানান, “গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিখোঁজ ছাত্রীদের সন্ধানে দিন-রাত এক করে কাজ শুরু করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে ওই চার ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় তারা সিলেটের গোয়াইনঘাটগামী একটি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল।”

সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর এই ছাত্রীরা প্রাথমিকভাবে প্রথমে রাজধানী ঢাকায় গিয়েছিল। সেখান থেকে একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র তাদের বিভিন্ন ধরনের লোভ লালসা ও প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের সীমান্ত এলাকা গোয়াইনঘাট হয়ে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছাত্রীদের উদ্ধারের পর এই ভয়ঙ্কর পাচার চেষ্টার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এই চক্রের সাথে জড়িত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মফস্বল শহরের চার স্কুলছাত্রীকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা হয়ে একেবারে সিলেটের সীমান্ত অঞ্চল গোয়াইনঘাটে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা দেশের সামগ্রিক মানব পাচার পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। সাধারণত কিশোরী ও তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো উপায়ে প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্রগুলো ফাঁদে ফেলে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ এদের উদ্ধার করতে না পারলে হয়তো তাদের পরিণতি হতো আরও ভয়াবহ। এই ধরনের অপরাধ রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি নিজ নিজ সন্তানদের দৈনন্দিন চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগের ওপর অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


নিখোঁজ ৪ ছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, মানবপাচার চক্রের সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে অবশেষে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় আজ বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সিলেট থেকে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র প্রলোভন দেখিয়ে এই ছাত্রীদের ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সিলেটে নিয়ে এসেছিল।

পুলিশ ও নিখোঁজ ছাত্রীদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টার দিকে ওই চার ছাত্রী একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে। তবে দুপুরের পরও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে দিনভর খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

ঘটনার পর পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। ঠাকুরগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস গণমাধ্যমকে জানান, “গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিখোঁজ ছাত্রীদের সন্ধানে দিন-রাত এক করে কাজ শুরু করেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে সিলেটের একটি বাস কাউন্টার থেকে ওই চার ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় তারা সিলেটের গোয়াইনঘাটগামী একটি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল।”

সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশীষ কুমার দাস আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর এই ছাত্রীরা প্রাথমিকভাবে প্রথমে রাজধানী ঢাকায় গিয়েছিল। সেখান থেকে একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র তাদের বিভিন্ন ধরনের লোভ লালসা ও প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের সীমান্ত এলাকা গোয়াইনঘাট হয়ে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছাত্রীদের উদ্ধারের পর এই ভয়ঙ্কর পাচার চেষ্টার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এই চক্রের সাথে জড়িত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মফস্বল শহরের চার স্কুলছাত্রীকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকা হয়ে একেবারে সিলেটের সীমান্ত অঞ্চল গোয়াইনঘাটে নিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা দেশের সামগ্রিক মানব পাচার পরিস্থিতির এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। সাধারণত কিশোরী ও তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো উপায়ে প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্রগুলো ফাঁদে ফেলে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ এদের উদ্ধার করতে না পারলে হয়তো তাদের পরিণতি হতো আরও ভয়াবহ। এই ধরনের অপরাধ রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি নিজ নিজ সন্তানদের দৈনন্দিন চলাফেরা ও সামাজিক যোগাযোগের ওপর অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল