হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনা ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই মেগা টার্মিনালটির গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে জাপানের একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়াম। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থমকে থাকা এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পর এই অগ্রগতি হলো।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় ধরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এই বিশাল প্রকল্পের মোট খরচের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করে এবং বাকি সিংহভাগ অর্থ ঋণ হিসেবে সহায়তা দেয় জাপান সরকার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই টার্মিনালটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সার্বিক অগ্রগতি ও চুক্তি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জোর চেষ্টা চলছে। চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত মোট রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি পক্ষ এবং বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ।
চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ‘জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি’, ‘সুমিতোমো কর্পোরেশন’, ‘নিপ্পন কোয়েই’ এবং ‘নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন’—এই চারটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত জাপানি কনসোর্টিয়ামটি তৃতীয় টার্মিনালের সার্বিক পরিচালনা, যাত্রী সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্ব আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা নিয়ে অতীতে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ক্ষোভের অন্ত ছিল না। জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্তটি দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি আমূল বদলে দিতে পারে। নারিতা বা সুমিতোমোর মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় লাগেজ ডেলিভারিতে দেরি হওয়া বা চুরির মতো পুরোনো ভোগান্তিগুলো দূর হবে। যদিও রাজস্বের ৭৩ শতাংশ জাপানি পক্ষ পাবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর আস্থা অর্জন এবং ট্রানজিট যাত্রী বাড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবন্দর থেকে পরোক্ষভাবে অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুফল ঘরে তুলতে পারবে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনা ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান অনিশ্চয়তার অবসান হতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই মেগা টার্মিনালটির গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে জাপানের একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়াম। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থমকে থাকা এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পর এই অগ্রগতি হলো।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় ধরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এই বিশাল প্রকল্পের মোট খরচের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করে এবং বাকি সিংহভাগ অর্থ ঋণ হিসেবে সহায়তা দেয় জাপান সরকার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই টার্মিনালটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সার্বিক অগ্রগতি ও চুক্তি প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের জোর চেষ্টা চলছে। চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী, টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত মোট রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপানি পক্ষ এবং বাংলাদেশ পাবে ২৭ শতাংশ।
চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ‘জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি’, ‘সুমিতোমো কর্পোরেশন’, ‘নিপ্পন কোয়েই’ এবং ‘নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন’—এই চারটি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত জাপানি কনসোর্টিয়ামটি তৃতীয় টার্মিনালের সার্বিক পরিচালনা, যাত্রী সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় আন্তর্জাতিক মানের পেশাদারিত্ব আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা নিয়ে অতীতে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ক্ষোভের অন্ত ছিল না। জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে এই দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্তটি দেশের এভিয়েশন খাতের ভাবমূর্তি আমূল বদলে দিতে পারে। নারিতা বা সুমিতোমোর মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় লাগেজ ডেলিভারিতে দেরি হওয়া বা চুরির মতো পুরোনো ভোগান্তিগুলো দূর হবে। যদিও রাজস্বের ৭৩ শতাংশ জাপানি পক্ষ পাবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর আস্থা অর্জন এবং ট্রানজিট যাত্রী বাড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবন্দর থেকে পরোক্ষভাবে অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুফল ঘরে তুলতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন