দিকপাল

পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে ৬ শিশু আহত


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৬:০৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে ৬ শিশু আহত

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় পাগলা কুকুরের হামলায় একদিনে ছয় স্কুলশিশু আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

স্থানীয় সূত্র ও আহত শিশুদের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে হামলাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েকজন শিশু ব্যাডমিন্টন খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সোহেল রানা (১০) মাঠে থাকা একটি কুকুরের ওপর পড়ে যায়। এতে কুকুরটি ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করে। পরে একই স্থানে থাকা তার আরও পাঁচ সহপাঠীর ওপরও হামলা চালিয়ে কামড়ে আহত করে।

আহত অন্য শিশুরা হলো—সাগর (১১), মুহিত (১০), মেহেদী (১২), মুন্নাফ (১০) ও হাদী (১১)। শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মৃত কুকুরটিকে পাশের নন্দকুঁজা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে আহত ছয় শিশুকে স্বজনরা গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। স্বজনদের দাবি, তারা এখনও স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত শিশুদের হাত, পা ও চোয়ালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। ক্ষতস্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভ্যাকসিনের সব ডোজ সম্পন্ন করলে তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএস এম আলমাস বলেন, হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। তিনি জানান, বর্তমানে কুকুরের তুলনায় বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই কুকুরের পাশাপাশি বাড়িতে পালন করা বিড়ালকেও নিয়মিত টিকা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে ৬ শিশু আহত

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় পাগলা কুকুরের হামলায় একদিনে ছয় স্কুলশিশু আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।

স্থানীয় সূত্র ও আহত শিশুদের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে হামলাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়েকজন শিশু ব্যাডমিন্টন খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সোহেল রানা (১০) মাঠে থাকা একটি কুকুরের ওপর পড়ে যায়। এতে কুকুরটি ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করে। পরে একই স্থানে থাকা তার আরও পাঁচ সহপাঠীর ওপরও হামলা চালিয়ে কামড়ে আহত করে।

আহত অন্য শিশুরা হলো—সাগর (১১), মুহিত (১০), মেহেদী (১২), মুন্নাফ (১০) ও হাদী (১১)। শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মৃত কুকুরটিকে পাশের নন্দকুঁজা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে আহত ছয় শিশুকে স্বজনরা গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। স্বজনদের দাবি, তারা এখনও স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত শিশুদের হাত, পা ও চোয়ালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। ক্ষতস্থান যথাযথভাবে পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভ্যাকসিনের সব ডোজ সম্পন্ন করলে তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএস এম আলমাস বলেন, হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। তিনি জানান, বর্তমানে কুকুরের তুলনায় বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই কুকুরের পাশাপাশি বাড়িতে পালন করা বিড়ালকেও নিয়মিত টিকা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল