দিকপাল

আজ থেকে এক কিউআরেই সব পেমেন্ট, গ্রাহকরা যেসব নতুন সুবিধা পাবেন


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ | ১১:৩০ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ থেকে এক কিউআরেই সব পেমেন্ট, গ্রাহকরা যেসব নতুন সুবিধা পাবেন

দেশে ডিজিটাল ও ক্যাশবিহীন (নগদবিহীন) লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে আজ থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে অভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা কিউআর’ (কুইক রেসপন্স) কোড. বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে এখন থেকে গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের ঝামেলা পোহাতে হবে না; একটিমাত্র একক কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে. নতুন এই ব্যবস্থা চালুর পর দেশজুড়ে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ ও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে.

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’কে একটি অভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে. এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে তাদের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে. এর ফলে বড় শপিং মল, সুপারশপ থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র দোকানদার কিংবা সাধারণ সেবাদাতারাও কোনো ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ছাড়াই কেবল একটি সাধারণ কিউআর স্টিকার ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন. এছাড়া কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির মতো ঝুঁকি না থাকায় এটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন হয়.

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে জানান, বাজারে কেনাকাটার পর দোকানে যদি নির্দিষ্ট কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের (যেমন বিকাশ) কিউআর কোড থাকে, আর গ্রাহকের যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের (যেমন রকেট) অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে আগে পেমেন্ট করা যেত না. এখন থেকে সকল প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোডকে ‘বাংলা কিউআর’ দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হবে, যার ফলে একটিমাত্র কোড স্ক্যান করেই বিকাশ, নগদ কিংবা যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করা সম্ভব হবে. বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্সের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, দেশজুড়ে সকল মার্চেন্ট পয়েন্ট অভিন্ন বাংলা কিউআরে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে ক্যাশ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং গ্রাহক ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্যই আর্থিক ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ ও কার্যকরী হবে.

নতুন এই লেনদেন ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সুবিধার্থে এনআরবিসি ব্যাংক শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে. ইতিমধ্যে তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মার্চেন্ট এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছেন এবং দৈনিক বাংলা কিউআরের লেনদেন কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে. সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে.

‘বাংলা কিউআর’ চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্যাশবিহীন সোসাইটি বা নগদবিহীন সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। উন্নত দেশগুলোর মতো একটি অভিন্ন ও সর্বজনীন পেমেন্ট কাঠামো সচল হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক কাঠামোর আওতায় আসার সুযোগ পাবেন, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কার্ডভিত্তিক লেনদেনের উচ্চ খরচ এবং বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তির এই কিউআর কোড দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার খরচ সাশ্রয় করার পাশাপাশি লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং অর্থ পাচার রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


আজ থেকে এক কিউআরেই সব পেমেন্ট, গ্রাহকরা যেসব নতুন সুবিধা পাবেন

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশে ডিজিটাল ও ক্যাশবিহীন (নগদবিহীন) লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সর্বজনীন করতে আজ থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে অভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা কিউআর’ (কুইক রেসপন্স) কোড. বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে এখন থেকে গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের ঝামেলা পোহাতে হবে না; একটিমাত্র একক কিউআর কোড স্ক্যান করেই যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে. নতুন এই ব্যবস্থা চালুর পর দেশজুড়ে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ ও ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে.

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’কে একটি অভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে. এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে তাদের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে. এর ফলে বড় শপিং মল, সুপারশপ থেকে শুরু করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র দোকানদার কিংবা সাধারণ সেবাদাতারাও কোনো ব্যয়বহুল পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ছাড়াই কেবল একটি সাধারণ কিউআর স্টিকার ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন. এছাড়া কার্ড ক্লোনিং বা পিন চুরির মতো ঝুঁকি না থাকায় এটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাপ থেকেই সরাসরি লেনদেন সম্পন্ন হয়.

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে জানান, বাজারে কেনাকাটার পর দোকানে যদি নির্দিষ্ট কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের (যেমন বিকাশ) কিউআর কোড থাকে, আর গ্রাহকের যদি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের (যেমন রকেট) অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে আগে পেমেন্ট করা যেত না. এখন থেকে সকল প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোডকে ‘বাংলা কিউআর’ দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হবে, যার ফলে একটিমাত্র কোড স্ক্যান করেই বিকাশ, নগদ কিংবা যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করা সম্ভব হবে. বিকাশের করপোরেট কমিউনিকেশন্সের প্রধান শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, দেশজুড়ে সকল মার্চেন্ট পয়েন্ট অভিন্ন বাংলা কিউআরে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে ক্যাশ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং গ্রাহক ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্যই আর্থিক ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ ও কার্যকরী হবে.

নতুন এই লেনদেন ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতি সম্পর্কে এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সুবিধার্থে এনআরবিসি ব্যাংক শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে. ইতিমধ্যে তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মার্চেন্ট এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছেন এবং দৈনিক বাংলা কিউআরের লেনদেন কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে. সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সর্বজনীন পেমেন্ট ব্যবস্থা দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে.

‘বাংলা কিউআর’ চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্যাশবিহীন সোসাইটি বা নগদবিহীন সমাজ গঠনের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। উন্নত দেশগুলোর মতো একটি অভিন্ন ও সর্বজনীন পেমেন্ট কাঠামো সচল হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক কাঠামোর আওতায় আসার সুযোগ পাবেন, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কার্ডভিত্তিক লেনদেনের উচ্চ খরচ এবং বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তির এই কিউআর কোড দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনার খরচ সাশ্রয় করার পাশাপাশি লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং অর্থ পাচার রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল