ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওলেকসান্দর সিরস্কি জানিয়েছেন, দেশের উত্তর সীমান্ত দিয়ে রাশিয়ার সম্ভাব্য একটি নতুন সামরিক অভিযান প্রতিহত করতে তাঁর বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। গত মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় টেলিভিশন চ্যানেল 'টিএসএন'-এ সম্প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তবে একই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই দফায় রাজধানী কিয়েভ অভিমুখে রুশ বাহিনীর বড় ধরনের কোনো অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা খুবই কম।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল সিরস্কি বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলেন, রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের উত্তর সীমান্তে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু হওয়ার একটি বাস্তবসম্মত ঝুঁকি রয়েছে। এই সম্ভাব্য অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মতো কিয়েভ দখল করা নয়, বরং ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের কিছু ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এর মাধ্যমে রাশিয়া মূলত দীর্ঘ ১,২৫০ কিলোমিটারের ফ্রন্ট লাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মনোযোগ ও জনবলকে অন্য দিক থেকে সরিয়ে উত্তর সীমান্তে ব্যস্ত রাখতে চায়। একে ইউক্রেনীয় রিজার্ভ বাহিনীকে দুর্বল করার একটি কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন তিনি।
এদিকে প্রতিবেশী ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো হামলার আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান। এর আগে মস্কোর পক্ষ থেকে বেলারুশকে যুদ্ধে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে ইউক্রেন অভিযোগ করলেও, সিরস্কি মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতিতে বেলারুশের নেতৃত্ব তাদের নিজেদের ভূখণ্ড রুশ বাহিনীকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়ার মতো ঝুঁকি আর নেবে না। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বেলারুশকে তাদের সীমান্ত অঞ্চলে থাকা কিছু রিলে স্টেশন সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন, যা ইউক্রেনে হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়। পরে জেলেনস্কি নিশ্চিত করেন যে, সেই স্টেশনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধের বর্তমান মাঠের চিত্র তুলে ধরে জেনারেল সিরস্কি আরও জানান, ফ্রন্ট লাইনে নিয়োজিত রুশ সেনারা ক্রমান্বয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এবং তাদের আক্রমণের তীব্রতা আগের চেয়ে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, সম্মুখ সমরে রুশ বাহিনীর আক্রমণাত্মক তৎপরতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এর বিপরীতে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিশেষ করে দেশটির তেল শিল্পের সাথে জড়িত বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওলেকসান্দর সিরস্কি জানিয়েছেন, দেশের উত্তর সীমান্ত দিয়ে রাশিয়ার সম্ভাব্য একটি নতুন সামরিক অভিযান প্রতিহত করতে তাঁর বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। গত মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় টেলিভিশন চ্যানেল 'টিএসএন'-এ সম্প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তবে একই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই দফায় রাজধানী কিয়েভ অভিমুখে রুশ বাহিনীর বড় ধরনের কোনো অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা খুবই কম।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল সিরস্কি বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে বলেন, রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের উত্তর সীমান্তে নতুন করে স্থল অভিযান শুরু হওয়ার একটি বাস্তবসম্মত ঝুঁকি রয়েছে। এই সম্ভাব্য অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মতো কিয়েভ দখল করা নয়, বরং ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের কিছু ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এর মাধ্যমে রাশিয়া মূলত দীর্ঘ ১,২৫০ কিলোমিটারের ফ্রন্ট লাইনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মনোযোগ ও জনবলকে অন্য দিক থেকে সরিয়ে উত্তর সীমান্তে ব্যস্ত রাখতে চায়। একে ইউক্রেনীয় রিজার্ভ বাহিনীকে দুর্বল করার একটি কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন তিনি।
এদিকে প্রতিবেশী ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো হামলার আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন ইউক্রেনীয় সেনাপ্রধান। এর আগে মস্কোর পক্ষ থেকে বেলারুশকে যুদ্ধে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে ইউক্রেন অভিযোগ করলেও, সিরস্কি মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতিতে বেলারুশের নেতৃত্ব তাদের নিজেদের ভূখণ্ড রুশ বাহিনীকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়ার মতো ঝুঁকি আর নেবে না। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বেলারুশকে তাদের সীমান্ত অঞ্চলে থাকা কিছু রিলে স্টেশন সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন, যা ইউক্রেনে হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়। পরে জেলেনস্কি নিশ্চিত করেন যে, সেই স্টেশনগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধের বর্তমান মাঠের চিত্র তুলে ধরে জেনারেল সিরস্কি আরও জানান, ফ্রন্ট লাইনে নিয়োজিত রুশ সেনারা ক্রমান্বয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এবং তাদের আক্রমণের তীব্রতা আগের চেয়ে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, সম্মুখ সমরে রুশ বাহিনীর আক্রমণাত্মক তৎপরতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এর বিপরীতে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিশেষ করে দেশটির তেল শিল্পের সাথে জড়িত বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন