মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লেবাননকে কোনোভাবেই ‘আরেকটি গাজায়’ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাই ব্লানার। একই সঙ্গে তিনি সংঘাত এড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতাগুলো পুরোপুরি মেনে চলতে ইসরায়েলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জুরাই ব্লানার এই মন্তব্য করেন। স্লোভাক সংবাদ সংস্থা টিএএসআর (TASR)-এর বরাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জুরাই ব্লানার স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই চাই না লেবানন গাজার মতো আরেকটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হোক। এই বিপর্যয় এড়াতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে যেসব কৌশলগত সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো ইসরায়েলকেও অবশ্যই মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বহুমুখী সংকট—বিশেষ করে গাজা উপত্যকা এবং ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার টেবিলই একমাত্র পথ।
স্লোভাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলমান এই আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই দেশ স্লোভাকিয়া ও স্পেনের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। দুই দেশই যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি সব পক্ষের শ্রদ্ধাশীল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই উদ্বেগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রতিদিন রকেট ও ড্রোন হামলা বিনিময় চলছে। একই সময়ে আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। এমন সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে ইউরোপের দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো ফ্রন্টে পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকেই লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চলটি আরেকটি বড় যুদ্ধের বারুদঘর হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই ছায়া যুদ্ধ যদি লেবাননে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে রূপ নেয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। স্লোভাকিয়া ও স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর এই প্রকাশ্য অবস্থান নির্দেশ করে যে, ইউরোপ এখন গাজা ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি লেবাননে দেখতে চায় না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক বোঝাপড়াকে ইসরায়েল কর্তৃক সম্মান জানানোর তাগিদ এটাই প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা মিত্ররাও এখন ইসরায়েলের একতরফা সামরিক নীতির রাশ টানতে আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর ভরসা করছে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে লেবাননকে কোনোভাবেই ‘আরেকটি গাজায়’ পরিণত হতে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাই ব্লানার। একই সঙ্গে তিনি সংঘাত এড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতাগুলো পুরোপুরি মেনে চলতে ইসরায়েলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জুরাই ব্লানার এই মন্তব্য করেন। স্লোভাক সংবাদ সংস্থা টিএএসআর (TASR)-এর বরাতে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জুরাই ব্লানার স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই চাই না লেবানন গাজার মতো আরেকটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হোক। এই বিপর্যয় এড়াতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে যেসব কৌশলগত সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো ইসরায়েলকেও অবশ্যই মেনে চলতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বহুমুখী সংকট—বিশেষ করে গাজা উপত্যকা এবং ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার টেবিলই একমাত্র পথ।
স্লোভাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলমান এই আন্তর্জাতিক সংঘাত মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই দেশ স্লোভাকিয়া ও স্পেনের অবস্থান প্রায় অভিন্ন। দুই দেশই যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সংঘাত নিরসনে আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি সব পক্ষের শ্রদ্ধাশীল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই উদ্বেগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রতিদিন রকেট ও ড্রোন হামলা বিনিময় চলছে। একই সময়ে আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। এমন সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে ইউরোপের দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো ফ্রন্টে পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বারবার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।
২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের পর থেকেই লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চলটি আরেকটি বড় যুদ্ধের বারুদঘর হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই ছায়া যুদ্ধ যদি লেবাননে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে রূপ নেয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। স্লোভাকিয়া ও স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর এই প্রকাশ্য অবস্থান নির্দেশ করে যে, ইউরোপ এখন গাজা ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি লেবাননে দেখতে চায় না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক বোঝাপড়াকে ইসরায়েল কর্তৃক সম্মান জানানোর তাগিদ এটাই প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা মিত্ররাও এখন ইসরায়েলের একতরফা সামরিক নীতির রাশ টানতে আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর ভরসা করছে।

আপনার মতামত লিখুন