জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় স্টাডে শহরের একটি শিশু ও যুব কল্যাণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার নারী ও দুই পুরুষসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। হামলার পরপরই ৪৫ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিজের তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানের অভিভাবকত্ব বা কাস্টডি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, জার্মানিতে জন্ম নেওয়া তুর্কি নাগরিক ওই হামলাকারী তার তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানের কাস্টডি সংক্রান্ত এক বৈঠকে অংশ নিতে ওই শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আচমকা গুলি বর্ষণ করেন। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
ঘটনার সময় ওই কেন্দ্রে হামলাকারীর সন্তান এবং তার ৩৪ বছর বয়সী মা-ও উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা অক্ষত আছেন। শিশুটিকে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটির চালক হিসেবে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক নারীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যিনি এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জার্মানির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে। জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার এবং চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় জরুরি সেবা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
হামলাস্থল স্টাডে শহরটি হামবুর্গ থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ওই কেন্দ্রের একদম পাশেই একটি ডে-কেয়ার এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়ালেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, স্কুল ও ডে-কেয়ারের সব শিশু এবং কর্মী সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় জার্মানিতে বন্দুক হামলার ঘটনা বেশ বিরল। দেশটিতে অত্যন্ত কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন বলবৎ রয়েছে। সেখানে যেকোনো সাধারণ নাগরিকের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে কঠোর নির্ভরযোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং অস্ত্র রাখার সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ প্রদর্শন করতে হয়। সরকারি তথ্যমতে, প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের এই দেশে মাত্র ৯ লাখ ২৯ হাজার মানুষের কাছে বৈধ অস্ত্র রয়েছে। এমন কঠোর নজরদারির মধ্যেও এই ধরনের সহিংস ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
Source: CNN

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় স্টাডে শহরের একটি শিশু ও যুব কল্যাণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার নারী ও দুই পুরুষসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। হামলার পরপরই ৪৫ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিজের তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানের অভিভাবকত্ব বা কাস্টডি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, জার্মানিতে জন্ম নেওয়া তুর্কি নাগরিক ওই হামলাকারী তার তিন মাস বয়সী কন্যাসন্তানের কাস্টডি সংক্রান্ত এক বৈঠকে অংশ নিতে ওই শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আচমকা গুলি বর্ষণ করেন। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
ঘটনার সময় ওই কেন্দ্রে হামলাকারীর সন্তান এবং তার ৩৪ বছর বয়সী মা-ও উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা অক্ষত আছেন। শিশুটিকে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটির চালক হিসেবে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৫ বছর বয়সী এক নারীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যিনি এই পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জার্মানির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে। জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার এবং চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় জরুরি সেবা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।
হামলাস্থল স্টাডে শহরটি হামবুর্গ থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ওই কেন্দ্রের একদম পাশেই একটি ডে-কেয়ার এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় সাময়িক আতঙ্ক ছড়ালেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, স্কুল ও ডে-কেয়ারের সব শিশু এবং কর্মী সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় জার্মানিতে বন্দুক হামলার ঘটনা বেশ বিরল। দেশটিতে অত্যন্ত কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন বলবৎ রয়েছে। সেখানে যেকোনো সাধারণ নাগরিকের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে কঠোর নির্ভরযোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং অস্ত্র রাখার সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ প্রদর্শন করতে হয়। সরকারি তথ্যমতে, প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের এই দেশে মাত্র ৯ লাখ ২৯ হাজার মানুষের কাছে বৈধ অস্ত্র রয়েছে। এমন কঠোর নজরদারির মধ্যেও এই ধরনের সহিংস ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।
Source: CNN

আপনার মতামত লিখুন