পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারসহ সব ধরনের আধুনিক জালিয়াতি রুখতে সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই ৪৫ বছরের পুরোনো আইন সংশোধন করে এই নতুন বিল আনা হয়েছে।
গত রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে প্রায় ৪৫ বছর আগে ‘দি পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমান যুগে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার এবং অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান আইনের বেশ কয়েকটি ধারা এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং তা যুগোপযোগী নয়।
নতুন এই সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংঘটিত আধুনিক সব অপরাধকে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অসদুপায়মুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ। এর আওতায় সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার সংবেদনশীল ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, যেকোনো ধরনের কারিগরি জালিয়াতি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধরনের ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।
নতুন বিলে একক অপরাধীর পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। যারা দলবদ্ধ বা সিন্ডিকেট তৈরি করে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্ন ফাঁস বা ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরির মতো অপরাধের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করবে, তাদের জন্য সাধারণ শাস্তির চেয়েও অনেক বেশি কঠোর কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এই নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। আর সে কারণেই এই সংশোধনী বিলটি আনা হয়েছে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি, ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারসহ সব ধরনের আধুনিক জালিয়াতি রুখতে সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে অপরাধীদের সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই ৪৫ বছরের পুরোনো আইন সংশোধন করে এই নতুন বিল আনা হয়েছে।
গত রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। বিলটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সার্টিফিকেট তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে প্রায় ৪৫ বছর আগে ‘দি পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমান যুগে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার এবং অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান আইনের বেশ কয়েকটি ধারা এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং তা যুগোপযোগী নয়।
নতুন এই সংশোধনীর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংঘটিত আধুনিক সব অপরাধকে কঠোর আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অসদুপায়মুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ বা ডিজিটাল কারসাজির স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ। এর আওতায় সাইবার অপরাধের মাধ্যমে পরীক্ষার সংবেদনশীল ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, যেকোনো ধরনের কারিগরি জালিয়াতি এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধরনের ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।
নতুন বিলে একক অপরাধীর পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। যারা দলবদ্ধ বা সিন্ডিকেট তৈরি করে পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্ন ফাঁস বা ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরির মতো অপরাধের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করবে, তাদের জন্য সাধারণ শাস্তির চেয়েও অনেক বেশি কঠোর কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল যুগে পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এই নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। আর সে কারণেই এই সংশোধনী বিলটি আনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন