দিকপাল

বাজেট পাস কাল, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় আসছে বড় ছাড়


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ | ১০:৪৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট পাস কাল, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় আসছে বড় ছাড়

অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ কর-ভ্যাট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংশোধন আনছে সরকার। ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর অতিরিক্ত করারোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হতে পারে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে এসব সংশোধনীসহ 'অর্থ বিল ২০২৬' পাস করা হচ্ছে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) চূড়ান্তভাবে পাস হবে নতুন অর্থ বছরের মূল বাজেট, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুচরা ব্যবসায় প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যবাধকতা, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা, আয়কর স্ল্যাব এবং জমির মূলধনী মুনাফা কর—এই পাঁচটি বিষয়ে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মূলত পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধ এবং বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই সরকার তার পূর্ব অবস্থান থেকে নমনীয় হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার কম টার্নওভার রয়েছে এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবসার অবস্থান ও ধরন অনুযায়ী মাসিক ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা 'স্পেসিফিক' ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে এই সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে আসতে পারে সরকার। একইভাবে করযোগ্য আয় না থাকলেও সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতের সুবিধার্থে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলায় টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে গ্রাহকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ তৈরি না হয়।

এদিকে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এবং তা পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও বহাল থাকতে পারে। এর পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর করের বোঝা কমাতে আয়করের বিভিন্ন স্তর বা স্ল্যাবেও সমন্বয় আনার জোরালো আলোচনা চলছে।

আবাসন ও ভূমি উন্নয়ন খাতে গতি বজায় রাখতে জমি উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমির মালিকদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা করও বড় আকারে সংশোধনের পথে রয়েছে। ব্যবসায়ী ও আবাসন খাতের প্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই করের হার কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, উচ্চ করহার বহাল থাকলে এই খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ মন্দা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি ছিল।

হঠাৎ করে নতুন কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন বলে দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা করের আওতা বাড়ানোর তাগিদ দিলেও তার আগে পর্যাপ্ত গবেষণা ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন। চূড়ান্ত বাজেট পাসের আগের মুহূর্তে বিতর্কিত কিছু প্রস্তাবে সরকারের এই নমনীয় অবস্থান ব্যবসায়ী এবং সাধারণ করদাতাদের মনে বড় স্বস্তি তৈরি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


বাজেট পাস কাল, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় আসছে বড় ছাড়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বেশ কিছু বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ কর-ভ্যাট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংশোধন আনছে সরকার। ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং সঞ্চয়পত্রের ওপর অতিরিক্ত করারোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হতে পারে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে এসব সংশোধনীসহ 'অর্থ বিল ২০২৬' পাস করা হচ্ছে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) চূড়ান্তভাবে পাস হবে নতুন অর্থ বছরের মূল বাজেট, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুচরা ব্যবসায় প্যাকেজভিত্তিক ভ্যাট, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যবাধকতা, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা, আয়কর স্ল্যাব এবং জমির মূলধনী মুনাফা কর—এই পাঁচটি বিষয়ে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। মূলত পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধ এবং বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই সরকার তার পূর্ব অবস্থান থেকে নমনীয় হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার কম টার্নওভার রয়েছে এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবসার অবস্থান ও ধরন অনুযায়ী মাসিক ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা 'স্পেসিফিক' ভ্যাট নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে এই সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে আসতে পারে সরকার। একইভাবে করযোগ্য আয় না থাকলেও সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতের সুবিধার্থে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলায় টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে গ্রাহকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ তৈরি না হয়।

এদিকে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এবং তা পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও বহাল থাকতে পারে। এর পাশাপাশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের ওপর করের বোঝা কমাতে আয়করের বিভিন্ন স্তর বা স্ল্যাবেও সমন্বয় আনার জোরালো আলোচনা চলছে।

আবাসন ও ভূমি উন্নয়ন খাতে গতি বজায় রাখতে জমি উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমির মালিকদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা করও বড় আকারে সংশোধনের পথে রয়েছে। ব্যবসায়ী ও আবাসন খাতের প্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই করের হার কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, উচ্চ করহার বহাল থাকলে এই খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ মন্দা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি ছিল।

হঠাৎ করে নতুন কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতেন বলে দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা করের আওতা বাড়ানোর তাগিদ দিলেও তার আগে পর্যাপ্ত গবেষণা ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন। চূড়ান্ত বাজেট পাসের আগের মুহূর্তে বিতর্কিত কিছু প্রস্তাবে সরকারের এই নমনীয় অবস্থান ব্যবসায়ী এবং সাধারণ করদাতাদের মনে বড় স্বস্তি তৈরি করেছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল