দিকপাল

৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের বিভ্রান্তি দূর করতে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার ব্যাখ্যা


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ | ০২:৪২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের বিভ্রান্তি দূর করতে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সরকারি কোষাগার থেকে চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে এই ব্যয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে রোববার সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। সাবেক এই উপদেষ্টা সংবাদগুলোর ‘মিডিয়া ফ্রেমিং’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ আইন দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালিত হয়। এই আইন অনুযায়ী, দেশের মন্ত্রী বা সমমর্যাদার উপদেষ্টারা দেশ-বিদেশে যেকোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি তহবিল থেকে পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন। তিনি দাবি করেন, নিয়মবহির্ভূত কোনো সুবিধা তিনি নেননি এবং কেবল তাঁর হাসপাতালের প্রকৃত বিল, অপারেশন ও ওষুধের খরচই সরকার বহন করেছে; বিপরীতে তাঁর সাথে থাকা সহযাত্রীর যাবতীয় খরচ এবং হোটেল, খাওয়া ও যাতায়াত ব্যয় তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মিটিয়েছেন।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে সাবেক উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও তীব্র ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২০১৫ সালে তাঁর হার্টে রিং বসানো হয় এবং এ পর্যন্ত ৫ বার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। উপদেষ্টা থাকাকালীন তিনি নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান যে তাঁর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত (AFib) এবং এর জন্য ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক একটি জটিল অপারেশন প্রয়োজন, যা করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি তখন দেশে ছিল না। বোর্ডের লিখিত সুপারিশ এবং সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েই তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান।

চিকিৎসার খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, প্রথম দফায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এরপর পবিত্র হজের দায়িত্ব পালন শেষে থাইল্যান্ডে গিয়ে তাঁর চূড়ান্ত অপারেশন সম্পন্ন হয়, যার বিল আসে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু ডিসকাউন্ট দেওয়ায় বিলটি এই পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান। আ ফ ম খালিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, সরকারের কাছ থেকে নেওয়া প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, রসিদ ও ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এর কপি তাঁর কাছেও সংরক্ষিত আছে। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে নিয়মতান্ত্রিক বিষয় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সব সময়ই এক ধরনের সংবেদনশীলতা থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম নীতি যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সেখানে একজন সাবেক উপদেষ্টার ৮২ লাখ টাকার রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহারের খবরটি দ্রুত আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের মতো আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাকেন্দ্রে হার্টের এই ধরনের জটিল অপারেশনের খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এবং রাষ্ট্রীয় আইন ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ থাকায় এই ব্যয়কে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মত বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


৮২ লাখ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের বিভ্রান্তি দূর করতে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার ব্যাখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন তাঁর দায়িত্ব পালনকালে সরকারি কোষাগার থেকে চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে এই ব্যয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে রোববার সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। সাবেক এই উপদেষ্টা সংবাদগুলোর ‘মিডিয়া ফ্রেমিং’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিন্দনীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে আ ফ ম খালিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশে মন্ত্রিসভার সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ আইন দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে পরিচালিত হয়। এই আইন অনুযায়ী, দেশের মন্ত্রী বা সমমর্যাদার উপদেষ্টারা দেশ-বিদেশে যেকোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি তহবিল থেকে পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন। তিনি দাবি করেন, নিয়মবহির্ভূত কোনো সুবিধা তিনি নেননি এবং কেবল তাঁর হাসপাতালের প্রকৃত বিল, অপারেশন ও ওষুধের খরচই সরকার বহন করেছে; বিপরীতে তাঁর সাথে থাকা সহযাত্রীর যাবতীয় খরচ এবং হোটেল, খাওয়া ও যাতায়াত ব্যয় তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে মিটিয়েছেন।

নিজের শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিয়ে সাবেক উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও তীব্র ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ২০১৫ সালে তাঁর হার্টে রিং বসানো হয় এবং এ পর্যন্ত ৫ বার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। উপদেষ্টা থাকাকালীন তিনি নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান যে তাঁর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত (AFib) এবং এর জন্য ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক একটি জটিল অপারেশন প্রয়োজন, যা করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি তখন দেশে ছিল না। বোর্ডের লিখিত সুপারিশ এবং সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েই তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান।

চিকিৎসার খরচের হিসাব দিয়ে তিনি জানান, প্রথম দফায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এরপর পবিত্র হজের দায়িত্ব পালন শেষে থাইল্যান্ডে গিয়ে তাঁর চূড়ান্ত অপারেশন সম্পন্ন হয়, যার বিল আসে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছু ডিসকাউন্ট দেওয়ায় বিলটি এই পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি জানান। আ ফ ম খালিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, সরকারের কাছ থেকে নেওয়া প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, রসিদ ও ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে এবং এর কপি তাঁর কাছেও সংরক্ষিত আছে। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে নিয়মতান্ত্রিক বিষয় নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সব সময়ই এক ধরনের সংবেদনশীলতা থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম নীতি যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সেখানে একজন সাবেক উপদেষ্টার ৮২ লাখ টাকার রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহারের খবরটি দ্রুত আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালের মতো আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাকেন্দ্রে হার্টের এই ধরনের জটিল অপারেশনের খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এবং রাষ্ট্রীয় আইন ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ থাকায় এই ব্যয়কে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মত বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল