দিকপাল

ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ | ১০:১৮ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক ও আগ্রাসী পদক্ষেপের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রাম এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের আশপাশে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের দিনও ঠিক একই এলাকায় মার্কিন ফাইটার জেটগুলো বোমাবর্ষণ করেছিল।

হোয়াইট হাউজের দাবি, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী এবং ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘কিকু’র ওপর ড্রোন হামলা চালায় ইরান। জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো ক্রু হতাহত হননি। এই ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি পূর্বশর্ত না মানে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এর চেয়েও আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।

পাল্টা অভিযোগে ইরানও দাবি করেছে, মার্কিন হামলাই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে এবং ওয়াশিংটন নিজেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। দুই পক্ষই একে অপরকে সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

গত ১৭ জুন আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখা। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ১০ দিনের মাথায় এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ভেস্তে দিয়েছে। এই সামরিক সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


ইরানে টানা দ্বিতীয় দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জেরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক ও আগ্রাসী পদক্ষেপের পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে।

সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনের সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রাম এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের আশপাশে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের দিনও ঠিক একই এলাকায় মার্কিন ফাইটার জেটগুলো বোমাবর্ষণ করেছিল।

হোয়াইট হাউজের দাবি, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় পানামার পতাকাবাহী এবং ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘কিকু’র ওপর ড্রোন হামলা চালায় ইরান। জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো ক্রু হতাহত হননি। এই ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি পূর্বশর্ত না মানে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এর চেয়েও আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন।

পাল্টা অভিযোগে ইরানও দাবি করেছে, মার্কিন হামলাই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান স্থিতিশীলতা নষ্ট করেছে এবং ওয়াশিংটন নিজেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। দুই পক্ষই একে অপরকে সমঝোতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

গত ১৭ জুন আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখা। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ১০ দিনের মাথায় এই বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ভেস্তে দিয়েছে। এই সামরিক সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল