দিকপাল

ব্যক্তিগত ঋণের মেয়াদ বেড়ে ৮ বছর ভোক্তা ঋণের সীমা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ | ১২:৩৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যক্তিগত ঋণের মেয়াদ বেড়ে ৮ বছর ভোক্তা ঋণের সীমা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের খুচরা ঋণ (রিটেইল লেন্ডিং) খাতে গতি ফেরাতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ করতে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যক্তিগত ঋণের (পার্সোনাল লোন) সর্বোচ্চ পরিশোধের মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তা ঋণ (কনজিউমার ফাইন্যান্সিং) বাড়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা একটি বড় ধরনের বিধিনিষেধ বা প্রবৃদ্ধির ‘ক্যাপ’ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার পাঠানো হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত নীতিমালার ফলে ব্যাংকগুলো এখন থেকে তাদের সামগ্রিক বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধির হারের চেয়েও বেশি হারে ভোক্তা ঋণের পোর্টফোলিও বাড়াতে পারবে। এর আগে কোনো ব্যাংকের মোট ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩ বছর বেড়ে যাওয়ার ফলে গ্রাহকদের প্রতি মাসের কিস্তির (ইএমআই) পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে। এতে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ চাকরিজীবীদের জন্য ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া এবং তা পরিশোধ করা অনেক বেশি সহজসাধ্য হবে। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগটি যদি ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে পরিচালনা করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণ ও ঋণঝুঁকি (ক্রেডিট রিস্ক) বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নতুন এই নীতিমালার বিষয়ে ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল বিজনেস প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই সিদ্ধান্তটি দেশের বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবর্তনশীল চাহিদার প্রতি সাড়া দিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি উল্লেখ করেন, এই সার্কুলারের মাধ্যমে কেবল ব্যক্তিগত ঋণের মেয়াদ ৮ বছর করা হয়নি, বরং পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক (ইভি), হাইব্রিড এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত গাড়ির ক্ষেত্রে গাড়ি ঋণের (অটো লোন) সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, আগে যখন কোনো ব্যাংকের ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেত, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তার জবাবদিহি করতে হতো। এই কঠোর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করায় ব্যাংকগুলো এখন কোনো রকম আইনি বাধা ছাড়াই তাদের ভোক্তা ঋণ ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে। ঋণপ্রাপ্তি সহজ ও দীর্ঘমেয়াদি হলে বাজারে গ্রাহকদের খরচ ও কেনাকাটার প্রবণতা বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬


ব্যক্তিগত ঋণের মেয়াদ বেড়ে ৮ বছর ভোক্তা ঋণের সীমা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের খুচরা ঋণ (রিটেইল লেন্ডিং) খাতে গতি ফেরাতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের ঋণপ্রাপ্তি আরও সহজ করতে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যক্তিগত ঋণের (পার্সোনাল লোন) সর্বোচ্চ পরিশোধের মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোক্তা ঋণ (কনজিউমার ফাইন্যান্সিং) বাড়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা একটি বড় ধরনের বিধিনিষেধ বা প্রবৃদ্ধির ‘ক্যাপ’ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার পাঠানো হয়েছে। নতুন এই সংশোধিত নীতিমালার ফলে ব্যাংকগুলো এখন থেকে তাদের সামগ্রিক বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধির হারের চেয়েও বেশি হারে ভোক্তা ঋণের পোর্টফোলিও বাড়াতে পারবে। এর আগে কোনো ব্যাংকের মোট ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৩ বছর বেড়ে যাওয়ার ফলে গ্রাহকদের প্রতি মাসের কিস্তির (ইএমআই) পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাবে। এতে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ চাকরিজীবীদের জন্য ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া এবং তা পরিশোধ করা অনেক বেশি সহজসাধ্য হবে। তবে তারা একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগটি যদি ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে পরিচালনা করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি ঋণ ও ঋণঝুঁকি (ক্রেডিট রিস্ক) বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

নতুন এই নীতিমালার বিষয়ে ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল বিজনেস প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই সিদ্ধান্তটি দেশের বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবর্তনশীল চাহিদার প্রতি সাড়া দিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি উল্লেখ করেন, এই সার্কুলারের মাধ্যমে কেবল ব্যক্তিগত ঋণের মেয়াদ ৮ বছর করা হয়নি, বরং পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক (ইভি), হাইব্রিড এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বা সংযোজিত গাড়ির ক্ষেত্রে গাড়ি ঋণের (অটো লোন) সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্ট একজন ঊর্ধ্বতন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, আগে যখন কোনো ব্যাংকের ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধি সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেত, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তার জবাবদিহি করতে হতো। এই কঠোর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করায় ব্যাংকগুলো এখন কোনো রকম আইনি বাধা ছাড়াই তাদের ভোক্তা ঋণ ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে। ঋণপ্রাপ্তি সহজ ও দীর্ঘমেয়াদি হলে বাজারে গ্রাহকদের খরচ ও কেনাকাটার প্রবণতা বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল