দিকপাল

সালমান শাহর কবর উত্তোলন নির্দেশ নিয়ে আদালতের নতুন আদেশ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ | ১১:১৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সালমান শাহর কবর উত্তোলন নির্দেশ নিয়ে আদালতের নতুন আদেশ

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ঢাকাই চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাকে নিয়ে আলোচনা বা আইনি লড়াইয়ের শেষ হয়নি। দীর্ঘ এই সময় পর প্রয়াত এই নায়কের মরদেহ কবর থেকে তুলে নতুন করে তদন্ত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, দেশের বিচার বিভাগীয় একটি আদেশের মাধ্যমে তা আবার নতুন মোড় নিয়েছে। বহুল আলোচিত এই চিত্রনায়কের মরদেহ কবর থেকে তোলার পূর্ববর্তী আদেশটি নথিজাত বা নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ জারি করেন। মূলত এই মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সালমান শাহর পরিবারের তীব্র আপত্তি এবং আইনি আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালতের এই নতুন পদক্ষেপ সামনে এসেছে।

এর আগে এই মামলার বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আবেদন করা হয়েছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, পুনরায় সুরতহাল তৈরি এবং ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে কবর থেকে লাশ তোলার অনুমতি চান। একই সাথে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের দাবিও জানানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তার সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মে মাসের শেষ সপ্তাহে মরদেহ তোলার প্রাথমিক অনুমতি প্রদান করেছিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরপরই সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এই আদেশ বাতিলের জন্য আদালতে পাল্টা আবেদন করেন।

আদালতে শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল যুক্তি উপস্থাপন করেন। তাদের প্রধান বক্তব্য ছিল, মৃত্যুর দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর কবর থেকে অবশিষ্টাংশ তুলে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাকেন্দ্রীক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে সিলেটের বিখ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে। এই মাজারটি এদেশের কোটি মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং আবেগপূর্ণ একটি স্থান। এত বছর পর সেখানে পুনরায় খননকাজ চালানো হলে তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। শুধু তাই নয়, এই কবর খননকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গণে ব্যাপক আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, জনরোষ কিংবা বড় ধরনের সংঘর্ষ ও বিবাদের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী এবং মামলার বাদী মো. আলমগীর কুমকুম দুজনেই এই মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে চরম অসম্মতি জানান। তাদের মতে, শুধু শুধু এই বিতর্কিত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আদালতের এই সর্বশেষ আদেশের পর অবশ্য আইনজীবীদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা গেছে। প্রসিকিউশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শাহআলম নিশ্চিত করেছেন যে, বিচারক সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর আবেদনটি নথিজাত করার আদেশ দিয়েছেন। অন্য দিকে বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবিদ হাসান দাবি করেছেন যে, তাদের যুক্তির গভীরতা অনুধাবন করে আদালত মূলত মরদেহ উত্তোলনের পূর্ববর্তী আদেশটি বাতিলের আবেদনই মঞ্জুর করেছেন।

আইনি এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে, যখন সালমান শাহর মায়ের পক্ষে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের করেন। আদালত সেই সময়েই মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই মামলায় শুধু সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকই নন, বরং তার মা লতিফা হক লুসি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র জগতের খল অভিনেতা ডনসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ১৯৯৬ সালের সেই অভিশপ্ত ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার এক চাঞ্চল্যকর বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে সালমান শাহর মা, বাবা এবং ছোট ভাই নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং ঘরের কর্মচারীরা তাদের জানান যে সালমান ঘুমাচ্ছেন এবং এখন দেখা করা সম্ভব নয়। একই সময়ে এক চলচ্চিত্র প্রযোজকও দেখা করতে এসে ফিরে যান। এরপর দুপুরের দিকে হঠাৎ একটি ফোনের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে সালমানের মারাত্মক কিছু একটা ঘটে গেছে। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে ছুটে যান এবং দেখতে পান সালমান তার শোবার ঘরে নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। সে সময় ঘরের ভেতর কিছু বহিরাগত মানুষের রহস্যজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং সালমানের মাকে দ্রুত বাসা থেকে চলে যেতে বলা হয়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় ফাঁসের দাগ এবং হাত-পা ও মুখমণ্ডল নীলচে হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখতে পান স্বজনরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর বেশ আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই মৃত্যুরহস্যের জট খোলার আইনি চেষ্টা এখনো চলছে, যা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬


সালমান শাহর কবর উত্তোলন নির্দেশ নিয়ে আদালতের নতুন আদেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ঢাকাই চলচ্চিত্র অভিনেতা সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তাকে নিয়ে আলোচনা বা আইনি লড়াইয়ের শেষ হয়নি। দীর্ঘ এই সময় পর প্রয়াত এই নায়কের মরদেহ কবর থেকে তুলে নতুন করে তদন্ত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, দেশের বিচার বিভাগীয় একটি আদেশের মাধ্যমে তা আবার নতুন মোড় নিয়েছে। বহুল আলোচিত এই চিত্রনায়কের মরদেহ কবর থেকে তোলার পূর্ববর্তী আদেশটি নথিজাত বা নথিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ জারি করেন। মূলত এই মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সালমান শাহর পরিবারের তীব্র আপত্তি এবং আইনি আবেদনের প্রেক্ষিতেই আদালতের এই নতুন পদক্ষেপ সামনে এসেছে।

এর আগে এই মামলার বর্তমান তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আবেদন করা হয়েছিল। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, পুনরায় সুরতহাল তৈরি এবং ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে কবর থেকে লাশ তোলার অনুমতি চান। একই সাথে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের দাবিও জানানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তার সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মে মাসের শেষ সপ্তাহে মরদেহ তোলার প্রাথমিক অনুমতি প্রদান করেছিলেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরপরই সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এই আদেশ বাতিলের জন্য আদালতে পাল্টা আবেদন করেন।

আদালতে শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল যুক্তি উপস্থাপন করেন। তাদের প্রধান বক্তব্য ছিল, মৃত্যুর দীর্ঘ ত্রিশ বছর পর কবর থেকে অবশিষ্টাংশ তুলে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাকেন্দ্রীক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে। তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে সিলেটের বিখ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে। এই মাজারটি এদেশের কোটি মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং আবেগপূর্ণ একটি স্থান। এত বছর পর সেখানে পুনরায় খননকাজ চালানো হলে তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। শুধু তাই নয়, এই কবর খননকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গণে ব্যাপক আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, জনরোষ কিংবা বড় ধরনের সংঘর্ষ ও বিবাদের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী এবং মামলার বাদী মো. আলমগীর কুমকুম দুজনেই এই মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে চরম অসম্মতি জানান। তাদের মতে, শুধু শুধু এই বিতর্কিত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আদালতের এই সর্বশেষ আদেশের পর অবশ্য আইনজীবীদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা গেছে। প্রসিকিউশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শাহআলম নিশ্চিত করেছেন যে, বিচারক সমস্ত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পর আবেদনটি নথিজাত করার আদেশ দিয়েছেন। অন্য দিকে বাদীপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবিদ হাসান দাবি করেছেন যে, তাদের যুক্তির গভীরতা অনুধাবন করে আদালত মূলত মরদেহ উত্তোলনের পূর্ববর্তী আদেশটি বাতিলের আবেদনই মঞ্জুর করেছেন।

আইনি এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে, যখন সালমান শাহর মায়ের পক্ষে তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় একটি নতুন মামলা দায়ের করেন। আদালত সেই সময়েই মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই মামলায় শুধু সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকই নন, বরং তার মা লতিফা হক লুসি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র জগতের খল অভিনেতা ডনসহ আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে ১৯৯৬ সালের সেই অভিশপ্ত ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার এক চাঞ্চল্যকর বিবরণ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে সালমান শাহর মা, বাবা এবং ছোট ভাই নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং ঘরের কর্মচারীরা তাদের জানান যে সালমান ঘুমাচ্ছেন এবং এখন দেখা করা সম্ভব নয়। একই সময়ে এক চলচ্চিত্র প্রযোজকও দেখা করতে এসে ফিরে যান। এরপর দুপুরের দিকে হঠাৎ একটি ফোনের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে সালমানের মারাত্মক কিছু একটা ঘটে গেছে। খবর পেয়ে তারা দ্রুত ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে ছুটে যান এবং দেখতে পান সালমান তার শোবার ঘরে নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন। সে সময় ঘরের ভেতর কিছু বহিরাগত মানুষের রহস্যজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং সালমানের মাকে দ্রুত বাসা থেকে চলে যেতে বলা হয়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় ফাঁসের দাগ এবং হাত-পা ও মুখমণ্ডল নীলচে হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখতে পান স্বজনরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা জানান যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর বেশ আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই মৃত্যুরহস্যের জট খোলার আইনি চেষ্টা এখনো চলছে, যা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল