দিকপাল

একাদশ শ্রেণির ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন, পরীক্ষা নাকি ফলের ভিত্তিতে?


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ | ০৩:৫৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ শ্রেণির ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন, পরীক্ষা নাকি ফলের ভিত্তিতে?

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নতুন এক দুশ্চিন্তা ভর করেছে। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নিয়ে সবার মনে এখন নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার যখন পরীক্ষা নেওয়ার মতো বড় পরিবর্তনের দিকে হাঁটছে, তখন উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি পদ্ধতি নিয়েও অভিভাবকদের কৌতূহল বাড়ছে। গত ২০ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দীর্ঘ এক মাসের পরীক্ষা কার্যক্রম। সারাদেশের এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আগামী ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।

ভর্তির নিয়মকানুন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সম্প্রতি সরকারিভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি প্রথা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে ভর্তির এই নতুন নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। সরকারি এই পরিবর্তনের ঘোষণার পরপরই প্রশ্ন উঠেছে, একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া কি একই ধারায় পরিবর্তিত হবে, নাকি আগের মতোই ফলাফলভিত্তিক পদ্ধতিতে চলবে। এই পরিস্থিতিতে ভর্তির খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আগামীকাল রবিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ডগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা ডাকা হয়েছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সকল বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকদের অংশগ্রহণে এই সভায় ভর্তির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর সেই খসড়া নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুব কম। বরং গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের কলেজ নির্বাচন করার প্রক্রিয়া বহাল থাকার সম্ভাবনা বেশি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল, যেখানে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো কলেজে আবেদনের সুযোগ পায়। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার নিয়মটি প্রচলিত রয়েছে।

অবশ্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সাধারণ নিয়মের ভেতরে পড়ে না। নটর ডেম কলেজ, হলি ক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এবং সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে বরাবরই নিজেদের আলাদা পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। সাধারণ মেধা তালিকার বাইরে গিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে লিখিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করে থাকে। বছরের পর বছর ধরে তাদের এই স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন শিক্ষার্থী মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই কলেজগুলোতে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা তাই প্রতিবারই আলাদাভাবে প্রস্তুতির সুযোগ পায়। ফলে আসন্ন ভর্তি প্রক্রিয়ায় সরকারি সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ পদ্ধতির দিকেই সবার নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে তাদের কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির জায়গা করে নেওয়া। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পরই এই প্রক্রিয়াটি আরও পরিষ্কার হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ফলাফলের ওপর মনোযোগ দেওয়া, কারণ মেধার ভিত্তিতে আসন পাওয়ার বিষয়টিই এই ভর্তি প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


একাদশ শ্রেণির ভর্তি নিয়ে প্রশ্ন, পরীক্ষা নাকি ফলের ভিত্তিতে?

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নতুন এক দুশ্চিন্তা ভর করেছে। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নিয়ে সবার মনে এখন নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ভর্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার যখন পরীক্ষা নেওয়ার মতো বড় পরিবর্তনের দিকে হাঁটছে, তখন উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি পদ্ধতি নিয়েও অভিভাবকদের কৌতূহল বাড়ছে। গত ২০ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দীর্ঘ এক মাসের পরীক্ষা কার্যক্রম। সারাদেশের এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আগামী ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার।

ভর্তির নিয়মকানুন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। সম্প্রতি সরকারিভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি প্রথা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে ভর্তির এই নতুন নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। সরকারি এই পরিবর্তনের ঘোষণার পরপরই প্রশ্ন উঠেছে, একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া কি একই ধারায় পরিবর্তিত হবে, নাকি আগের মতোই ফলাফলভিত্তিক পদ্ধতিতে চলবে। এই পরিস্থিতিতে ভর্তির খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আগামীকাল রবিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ডগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা ডাকা হয়েছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, সকল বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকদের অংশগ্রহণে এই সভায় ভর্তির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর সেই খসড়া নীতিমালা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুব কম। বরং গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের কলেজ নির্বাচন করার প্রক্রিয়া বহাল থাকার সম্ভাবনা বেশি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল, যেখানে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা পছন্দমতো কলেজে আবেদনের সুযোগ পায়। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার নিয়মটি প্রচলিত রয়েছে।

অবশ্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সাধারণ নিয়মের ভেতরে পড়ে না। নটর ডেম কলেজ, হলি ক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ এবং সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে বরাবরই নিজেদের আলাদা পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। সাধারণ মেধা তালিকার বাইরে গিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে লিখিত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করে থাকে। বছরের পর বছর ধরে তাদের এই স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া ও নিয়মকানুন শিক্ষার্থী মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই কলেজগুলোতে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা তাই প্রতিবারই আলাদাভাবে প্রস্তুতির সুযোগ পায়। ফলে আসন্ন ভর্তি প্রক্রিয়ায় সরকারি সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ পদ্ধতির দিকেই সবার নজর থাকবে।

সব মিলিয়ে, ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে তাদের কাঙ্ক্ষিত কলেজে ভর্তির জায়গা করে নেওয়া। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পরই এই প্রক্রিয়াটি আরও পরিষ্কার হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ফলাফলের ওপর মনোযোগ দেওয়া, কারণ মেধার ভিত্তিতে আসন পাওয়ার বিষয়টিই এই ভর্তি প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল