দিকপাল

ঢাকার ১২০ মোড়ে এআই নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ | ১০:২৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার ১২০ মোড়ে এআই নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন

রাজধানীর দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। শহরের একশ বিশটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা। প্রথম ধাপে ৭৬টি মোড়ে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। মূলত সড়ক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে দুই সিটি করপোরেশন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রধান সড়কগুলোর যান চলাচল ব্যবস্থা ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, এর জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ বা বাড়তি তহবিলের প্রয়োজন হবে না, বরং পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকেই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট বেশ পুরোনো। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, বাংলামোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছিল। এসব সিগন্যাল বাতি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তৈরি করা হয়, যা স্বয়ংক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও রয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এসব পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলোতে এমন উন্নত সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

ঢাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ষাটের দশকে প্রথম এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেশ কিছু স্থানে সিগন্যাল বাতি বসানো হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরও বিরানব্বইটি পয়েন্টে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার অধিকাংশ একসময় অকেজো হয়ে যায়। এমনকি জাপানি সংস্থা জাইকার সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল বসানো হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সমন্বয়ের অভাবে সেগুলো টেকেনি। তবে বর্তমান উদ্যোগটি পূর্বের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি টেকসই পরিকল্পনা হিসেবে সাজানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তি স্থাপনের পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা ও সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


ঢাকার ১২০ মোড়ে এআই নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। শহরের একশ বিশটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা। প্রথম ধাপে ৭৬টি মোড়ে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। মূলত সড়ক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে দুই সিটি করপোরেশন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রধান সড়কগুলোর যান চলাচল ব্যবস্থা ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, এর জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ বা বাড়তি তহবিলের প্রয়োজন হবে না, বরং পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকেই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট বেশ পুরোনো। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, বাংলামোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছিল। এসব সিগন্যাল বাতি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তৈরি করা হয়, যা স্বয়ংক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও রয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে এসব পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলোতে এমন উন্নত সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

ঢাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ষাটের দশকে প্রথম এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেশ কিছু স্থানে সিগন্যাল বাতি বসানো হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরও বিরানব্বইটি পয়েন্টে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার অধিকাংশ একসময় অকেজো হয়ে যায়। এমনকি জাপানি সংস্থা জাইকার সহায়তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল বসানো হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সমন্বয়ের অভাবে সেগুলো টেকেনি। তবে বর্তমান উদ্যোগটি পূর্বের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি টেকসই পরিকল্পনা হিসেবে সাজানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তি স্থাপনের পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা ও সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল