দিকপাল

সাংসদ সাঈদের ডেস্কে প্রয়াত বাবার আমন্ত্রণপত্র: প্রশাসনিক বিস্ময় ও আবেগঘন স্ট্যাটাস


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | ১১:৫৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সাংসদ সাঈদের ডেস্কে প্রয়াত বাবার আমন্ত্রণপত্র: প্রশাসনিক বিস্ময় ও আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সদ্য প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যুবরণ করা এই নেতার নামে আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রটিতে আবদুল্লাহ আল নোমানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। অথচ, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে জয়ী হয়ে বর্তমানে তাঁর সন্তান সাঈদ আল নোমান সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় আসনের তথ্য এবং বর্তমান জনপ্রতিনিধির তালিকা যাচাই না করেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি একে মন্ত্রণালয়ের ‘মারাত্মক প্রশাসনিক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি লিখেছেন, “হয়তো এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল, কিন্তু অনুভূতির জগতে এর অর্থ অন্য রকম। আমার মনে হয়েছে, জাতীয় সংসদ এখনও বিশ্বাস করে আবদুল্লাহ আল নোমান আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন।”

মন্ত্রণালয়ের এই ঘটনাকে চরম পেশাদারিত্বের অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক খামখেয়ালিপনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতার মৃত্যু এবং পরবর্তীতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও দেড় বছরের মাথায় মন্ত্রণালয়ের ডেটাবেজ আপডেট না থাকাকে প্রশাসনিক দুর্বলতার বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

​বিএনপির রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৯১ ও ২০০১ সালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন শেষে তিনি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল কর্মকাণ্ডে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

​এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


সাংসদ সাঈদের ডেস্কে প্রয়াত বাবার আমন্ত্রণপত্র: প্রশাসনিক বিস্ময় ও আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সদ্য প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানোকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যুবরণ করা এই নেতার নামে আগামী ২০ জুন অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রটিতে আবদুল্লাহ আল নোমানকে ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। অথচ, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে জয়ী হয়ে বর্তমানে তাঁর সন্তান সাঈদ আল নোমান সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় আসনের তথ্য এবং বর্তমান জনপ্রতিনিধির তালিকা যাচাই না করেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি একে মন্ত্রণালয়ের ‘মারাত্মক প্রশাসনিক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি লিখেছেন, “হয়তো এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল, কিন্তু অনুভূতির জগতে এর অর্থ অন্য রকম। আমার মনে হয়েছে, জাতীয় সংসদ এখনও বিশ্বাস করে আবদুল্লাহ আল নোমান আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন।”

মন্ত্রণালয়ের এই ঘটনাকে চরম পেশাদারিত্বের অভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক খামখেয়ালিপনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। একজন জাতীয় পর্যায়ের নেতার মৃত্যু এবং পরবর্তীতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পরও দেড় বছরের মাথায় মন্ত্রণালয়ের ডেটাবেজ আপডেট না থাকাকে প্রশাসনিক দুর্বলতার বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

​বিএনপির রাজনীতির প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৯১ ও ২০০১ সালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন শেষে তিনি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল কর্মকাণ্ডে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

​এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।



দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল