দিকপাল

৪৫ লাখ টাকার রাস্তা, সাত দিনেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | ১০:১৪ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

৪৫ লাখ টাকার রাস্তা, সাত দিনেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে চলছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় উঠে যেতে শুরু করেছে। সড়কের পিচ ও খোয়া হাত দিয়ে সামান্য ঘষা দিলেই আলগা হয়ে উঠে আসছে, যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক ও ক্ষুব্ধ। একদিকে সরকারের উন্নয়নের অর্থ অপচয়, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ—সব মিলিয়ে সড়কের এই বেহাল দশা নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে তৈরি হওয়া নতুন সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে। সড়কের কার্পেটিংয়ের স্তর কোথাও কোথাও এতটাই পাতলা ও দুর্বল যে, তা দিয়ে মাটির নিচের ইট ও বালু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালাকে পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্স এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। সড়কের ভিত্তি বা মাটির স্তর ঠিকমতো সমতল না করেই, কোনো ধরনের বালু বা ইটের খোয়ার সঠিক বিন্যাস ছাড়াই তড়িঘড়ি করে বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলেই রাস্তাটি টেকসই হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ছুটির দিনগুলোকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ওই সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একাধিকবার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও ঠিকাদার কোনো তোয়াক্কা করেননি। এলাকাবাসী মজনু মিয়ার ক্ষোভ, জনস্বার্থে নির্মিত এই রাস্তাটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও তা চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা স্পষ্টতই সরকারি অর্থের অপচয়। মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠুও একই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, সরকারি তদারকি না থাকায় ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও এ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যদিও অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মসগুল হকের দাবি, তারা কোনো নিম্নমানের কাজ করেননি। তার মতে, তারা দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন, কিন্তু কোথাও কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তবে স্থানীয়দের চোখের সামনে রাস্তা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তার এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং যদি অনিয়মের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। স্থানীয়রা এখন কেবল আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কের সংস্কার এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


৪৫ লাখ টাকার রাস্তা, সাত দিনেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে চলছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং ঢালাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় উঠে যেতে শুরু করেছে। সড়কের পিচ ও খোয়া হাত দিয়ে সামান্য ঘষা দিলেই আলগা হয়ে উঠে আসছে, যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক ও ক্ষুব্ধ। একদিকে সরকারের উন্নয়নের অর্থ অপচয়, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ—সব মিলিয়ে সড়কের এই বেহাল দশা নিয়ে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে তৈরি হওয়া নতুন সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরেছে। সড়কের কার্পেটিংয়ের স্তর কোথাও কোথাও এতটাই পাতলা ও দুর্বল যে, তা দিয়ে মাটির নিচের ইট ও বালু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালাকে পুরোপুরি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্স এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে। সড়কের ভিত্তি বা মাটির স্তর ঠিকমতো সমতল না করেই, কোনো ধরনের বালু বা ইটের খোয়ার সঠিক বিন্যাস ছাড়াই তড়িঘড়ি করে বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলেই রাস্তাটি টেকসই হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ছুটির দিনগুলোকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ওই সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একাধিকবার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও ঠিকাদার কোনো তোয়াক্কা করেননি। এলাকাবাসী মজনু মিয়ার ক্ষোভ, জনস্বার্থে নির্মিত এই রাস্তাটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও তা চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা স্পষ্টতই সরকারি অর্থের অপচয়। মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠুও একই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, সরকারি তদারকি না থাকায় ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও এ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যদিও অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মসগুল হকের দাবি, তারা কোনো নিম্নমানের কাজ করেননি। তার মতে, তারা দীর্ঘসময় ধরে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন, কিন্তু কোথাও কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তবে স্থানীয়দের চোখের সামনে রাস্তা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তার এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এদিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং যদি অনিয়মের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। স্থানীয়রা এখন কেবল আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়কের সংস্কার এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল