দিকপাল

মেঘনায় চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | ১১:২৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

মেঘনায় চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী তিতাস উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে একটি চরের মালিকানা ও দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ত্রিশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সোমবার উভয় গ্রামের মানুষ টেঁটা ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অনেকেই গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আঠাশজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মূলত বাটেয়ারা মৌজার প্রায় পনেরো একর জমি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, তারা ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তেইশটি দলিলের মাধ্যমে প্রায় চৌদ্দ দশমিক পঁচাত্তর একর জমি দীর্ঘমেয়াদী ইজারা নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরা ও দুধঘাটা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তারা ১৯৯৯-২০০০ সালের দিকে একই মৌজায় প্রায় দশ দশমিক চৌদ্দ একর জমি ইজারা নিয়েছেন। এই জমির দখল ও সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে সোমবার তা সংঘর্ষের রূপ নেয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিতাস থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি রেকর্ডপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চরের জমি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা থেকে যায়।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


মেঘনায় চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৩০

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী তিতাস উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে একটি চরের মালিকানা ও দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ত্রিশজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সোমবার উভয় গ্রামের মানুষ টেঁটা ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে অনেকেই গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আঠাশজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মূলত বাটেয়ারা মৌজার প্রায় পনেরো একর জমি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, তারা ১৯৮৯-৯০ সালের দিকে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তেইশটি দলিলের মাধ্যমে প্রায় চৌদ্দ দশমিক পঁচাত্তর একর জমি দীর্ঘমেয়াদী ইজারা নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরা ও দুধঘাটা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তারা ১৯৯৯-২০০০ সালের দিকে একই মৌজায় প্রায় দশ দশমিক চৌদ্দ একর জমি ইজারা নিয়েছেন। এই জমির দখল ও সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে সোমবার তা সংঘর্ষের রূপ নেয়।

ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তিতাস থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিরোধপূর্ণ জমির বৈধ কাগজপত্র ও সরকারি রেকর্ডপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চরের জমি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা থেকে যায়।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল