দিকপাল

শহরের বাইরে সরছে ঢাকার ৩ বাস টার্মিনাল জেনে নিন নতুন অবস্থান


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | ০৮:০৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শহরের বাইরে সরছে ঢাকার ৩ বাস টার্মিনাল জেনে নিন নতুন অবস্থান

মেগাসিটি ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সচল রাখতে শহরের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শহরের যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোও দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত 'যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন' বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের তৃতীয় দফার সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর তীব্র যানজটের উৎস হিসেবে চিহ্নিত চার টার্মিনালকে চারপাশের উপশহর ও কৌশলগত এলাকায় পুনর্বাসন করা হবে। এর মধ্যে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি সরিয়ে নেওয়া হবে কেরানীগঞ্জে। গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে। সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে স্থানান্তরিত হবে। অন্যদিকে, মহাখালী বাস টার্মিনালটি সাময়িকভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হলেও পরবর্তীতে তা স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছাকাছি কোনো উপযুক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সায়দাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী টার্মিনালগুলো ঢাকার প্রবেশপথ ও প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখছিল, যা নগরের অভ্যন্তরীণ যানজটের মূল কারণ। এ অবস্থা দূর করতেই প্রধানমন্ত্রী এই জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় বৈঠকে ট্রাফিক সিগন্যালিংয়ে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা স্থাপনের সুফল পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, টার্মিনালকেন্দ্রিক জটলা কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে জায়গা দেওয়া হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী তোলার নির্দিষ্ট সময়ে টার্মিনালে আসবে, বাকি সময় ডিপোতে থাকবে। সায়দাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের জন্যও একইভাবে সাময়িক বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহ থেকেই শাহবাগ এলাকায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বিআরটি (বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্প নিয়ে তিনি জানান, এই প্রকল্পে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল বিনিয়োগ ও জনভোগান্তি হয়েছে। এটি সরাসরি পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে কীভাবে একটি উন্নত ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর’ হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে একটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। এছাড়া হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আনা এবং ফুটপাত পথচারীবান্ধব করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করতে এবং কাঁচপুর ও পূর্বাচলের কাজ দ্রুত শেষ করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

হাইপ্রোফাইল এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঢাকা শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে অবস্থিত মহাখালী, গাবতলী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দূরপাল্লার বাস সামলানোর কারণে প্রতিদিন কয়েক লাখ নগরবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। এর আগে একাধিকবার টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হলো।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


শহরের বাইরে সরছে ঢাকার ৩ বাস টার্মিনাল জেনে নিন নতুন অবস্থান

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

মেগাসিটি ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। রাজধানীর অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সচল রাখতে শহরের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শহরের যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোও দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত 'যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন' বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের তৃতীয় দফার সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যানজট পরিস্থিতি, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর তীব্র যানজটের উৎস হিসেবে চিহ্নিত চার টার্মিনালকে চারপাশের উপশহর ও কৌশলগত এলাকায় পুনর্বাসন করা হবে। এর মধ্যে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি সরিয়ে নেওয়া হবে কেরানীগঞ্জে। গাবতলী আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে। সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালটি কাঁচপুরে স্থানান্তরিত হবে। অন্যদিকে, মহাখালী বাস টার্মিনালটি সাময়িকভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হলেও পরবর্তীতে তা স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছাকাছি কোনো উপযুক্ত স্থানে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সায়দাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী টার্মিনালগুলো ঢাকার প্রবেশপথ ও প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখছিল, যা নগরের অভ্যন্তরীণ যানজটের মূল কারণ। এ অবস্থা দূর করতেই প্রধানমন্ত্রী এই জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় বৈঠকে ট্রাফিক সিগন্যালিংয়ে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ক্যামেরা স্থাপনের সুফল পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, টার্মিনালকেন্দ্রিক জটলা কমাতে মহাখালী টার্মিনালের বাসগুলোর ডিপোর জন্য প্রাথমিকভাবে পূর্বাচলে জায়গা দেওয়া হয়েছে। বাসগুলো শুধু যাত্রী তোলার নির্দিষ্ট সময়ে টার্মিনালে আসবে, বাকি সময় ডিপোতে থাকবে। সায়দাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালের জন্যও একইভাবে সাময়িক বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহ থেকেই শাহবাগ এলাকায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বিআরটি (বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্প নিয়ে তিনি জানান, এই প্রকল্পে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল বিনিয়োগ ও জনভোগান্তি হয়েছে। এটি সরাসরি পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে কীভাবে একটি উন্নত ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট করিডোর’ হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে একটি বিকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। এছাড়া হকারদের উচ্ছেদ না করে তাদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আনা এবং ফুটপাত পথচারীবান্ধব করার বিষয়েও নীতিগত আলোচনা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করতে এবং কাঁচপুর ও পূর্বাচলের কাজ দ্রুত শেষ করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

হাইপ্রোফাইল এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঢাকা শহরের প্রবেশদ্বারগুলোতে অবস্থিত মহাখালী, গাবতলী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনালগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দূরপাল্লার বাস সামলানোর কারণে প্রতিদিন কয়েক লাখ নগরবাসীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। এর আগে একাধিকবার টার্মিনালগুলো শহরের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের ধারাবাহিকতায় এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দেওয়া হলো।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল