দিকপাল

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতার ওপর হামলার অভিযোগ বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৪২ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতার ওপর হামলার অভিযোগ বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

রাজস্থানের জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে শারীরিকভাবে হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার জয়পুরের শহীদ স্মারকে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এই হামলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সোমবার বিকেল তিনটার দিকে অভিজিৎ দিপকে তার সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় জনসমুদ্রের মধ্য থেকে অতর্কিতে কিছু দুষ্কৃতকারী তার স্কার্ফ ধরে টান দেয় এবং তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক চড় মারতে থাকে। তাকে কাঁধ থেকে নিচে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এই হামলার পর ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, যারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।


দলের রাজ্য মুখপাত্র অভিষেক জৈন বিট্টু স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজবিরোধীরা যখন প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালাচ্ছে, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি অনতিবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জুন মাসের প্রচণ্ড দাবদাহকে পুঁজি করে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বিকেল তিনটায় সমাবেশের সময় নির্ধারণ করেছিল, যেন জনসমাগম সীমিত থাকে।


নিজে হামলার শিকার হওয়ার পরও অভিজিৎ দিপকে তার অবস্থানে অটল রয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা কাপুরুষ তারাই সহিংসতার আশ্রয় নেয়, কিন্তু তিনি কোনোভাবেই সহিংসতায় জড়াবেন না। তার মতে, এগুলো মূলত আন্দোলনকে স্তিমিত করার এবং মূল দাবি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তার মূল দাবি হলো, শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অবিচার এবং পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যতবারই তাদের ওপর হাত তোলা হোক না কেন, তাদের আন্দোলন অহিংস ও ভালোবাসার পথেই এগিয়ে যাবে। তিনি বিরোধী পক্ষকে কটাক্ষ করে সুস্থতা কামনার বার্তাও দিয়েছেন।


উল্লেখ্য যে, ককরোচ জনতা পার্টি মূলত একটি প্রতিবাদী মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সম্প্রতি ভারতের বিচার বিভাগের এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা তরুণ প্রজন্ম এই সংগঠনটির জন্ম দেয়। ‘ককরোচ’ শব্দটিকে তারা এখন প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ধারণ করেছে এবং দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মতো ব্যক্তিত্বরাও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অভিজিৎ দিপকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে এবং প্রয়োজনে দিল্লির বুকে তারা আরও বড় ধরনের গণআন্দোলন গড়ে তুলবেন।


সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতার ওপর হামলার অভিযোগ বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

রাজস্থানের জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে শারীরিকভাবে হামলার শিকার হয়েছেন। সোমবার জয়পুরের শহীদ স্মারকে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এই হামলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সোমবার বিকেল তিনটার দিকে অভিজিৎ দিপকে তার সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় জনসমুদ্রের মধ্য থেকে অতর্কিতে কিছু দুষ্কৃতকারী তার স্কার্ফ ধরে টান দেয় এবং তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক চড় মারতে থাকে। তাকে কাঁধ থেকে নিচে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এই হামলার পর ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, যারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।


দলের রাজ্য মুখপাত্র অভিষেক জৈন বিট্টু স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজবিরোধীরা যখন প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালাচ্ছে, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি অনতিবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জুন মাসের প্রচণ্ড দাবদাহকে পুঁজি করে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বিকেল তিনটায় সমাবেশের সময় নির্ধারণ করেছিল, যেন জনসমাগম সীমিত থাকে।


নিজে হামলার শিকার হওয়ার পরও অভিজিৎ দিপকে তার অবস্থানে অটল রয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা কাপুরুষ তারাই সহিংসতার আশ্রয় নেয়, কিন্তু তিনি কোনোভাবেই সহিংসতায় জড়াবেন না। তার মতে, এগুলো মূলত আন্দোলনকে স্তিমিত করার এবং মূল দাবি থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তার মূল দাবি হলো, শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অবিচার এবং পরীক্ষায় অনিয়মের দায়ভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যতবারই তাদের ওপর হাত তোলা হোক না কেন, তাদের আন্দোলন অহিংস ও ভালোবাসার পথেই এগিয়ে যাবে। তিনি বিরোধী পক্ষকে কটাক্ষ করে সুস্থতা কামনার বার্তাও দিয়েছেন।


উল্লেখ্য যে, ককরোচ জনতা পার্টি মূলত একটি প্রতিবাদী মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সম্প্রতি ভারতের বিচার বিভাগের এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা তরুণ প্রজন্ম এই সংগঠনটির জন্ম দেয়। ‘ককরোচ’ শব্দটিকে তারা এখন প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ধারণ করেছে এবং দেশজুড়ে শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মতো ব্যক্তিত্বরাও এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। অভিজিৎ দিপকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে এবং প্রয়োজনে দিল্লির বুকে তারা আরও বড় ধরনের গণআন্দোলন গড়ে তুলবেন।


সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল