দিকপাল

বাতিল হতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ সুবিধা


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ | ০২:০৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বাতিল হতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ সুবিধা

আগামী জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন এই বেতন কাঠামোতে মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হলেও একই সঙ্গে বাতিল করা হচ্ছে বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ আর্থিক সুবিধা। ফলে বেতন বৃদ্ধির যে সুফল পাওয়ার কথা ছিল, বিশেষ সুবিধা বাতিলের কারণে তার বড় অংশই মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরা হারাতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৪০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই অঙ্ককে বড় মনে হলেও সরকারের শর্ত অনুযায়ী এই সুবিধা পেতে হলে বর্তমানের বিশেষ সুবিধাটি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছেন। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে নতুন স্কেলের নামে চলমান এই নিয়মিত সুবিধাটি কেটে নেওয়ায় বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক প্রাপ্তি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়বে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছিলেন যে, দীর্ঘদিন ধরে পে স্কেল না হওয়ায় এবং জীবনযাত্রার খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা সংকটে রয়েছেন।

তবে সংকট নিরসনের এই সরকারি উদ্যোগকে অনেকেই কাগুজে হিসাব হিসেবে দেখছেন। সাধারণ কর্মচারীদের একাংশের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে যেখানে বাড়তি প্রণোদনা প্রয়োজন, সেখানে এক খাতের টাকা কেটে অন্য খাতে সমন্বয় করার এই কৌশল তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেবে।

২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর ধরে দেশে কোনো নতুন বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী বেতন বাড়েনি। তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে বাধ্য হয়ে ২০২৩ সালে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এই বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট চালু করেছিল। এখন দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পে স্কেল দেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে সেই সুরক্ষাকবচটিই আবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


বাতিল হতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ সুবিধা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

আগামী জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হলেও এর আড়ালে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন এই বেতন কাঠামোতে মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হলেও একই সঙ্গে বাতিল করা হচ্ছে বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ আর্থিক সুবিধা। ফলে বেতন বৃদ্ধির যে সুফল পাওয়ার কথা ছিল, বিশেষ সুবিধা বাতিলের কারণে তার বড় অংশই মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরা হারাতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৪০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই অঙ্ককে বড় মনে হলেও সরকারের শর্ত অনুযায়ী এই সুবিধা পেতে হলে বর্তমানের বিশেষ সুবিধাটি পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে।

বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছেন। বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে নতুন স্কেলের নামে চলমান এই নিয়মিত সুবিধাটি কেটে নেওয়ায় বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম সারির কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক প্রাপ্তি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়বে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছিলেন যে, দীর্ঘদিন ধরে পে স্কেল না হওয়ায় এবং জীবনযাত্রার খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা সংকটে রয়েছেন।

তবে সংকট নিরসনের এই সরকারি উদ্যোগকে অনেকেই কাগুজে হিসাব হিসেবে দেখছেন। সাধারণ কর্মচারীদের একাংশের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে যেখানে বাড়তি প্রণোদনা প্রয়োজন, সেখানে এক খাতের টাকা কেটে অন্য খাতে সমন্বয় করার এই কৌশল তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেবে।

২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম পে স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর ধরে দেশে কোনো নতুন বেতন কাঠামো দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী বেতন বাড়েনি। তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের মুখে বাধ্য হয়ে ২০২৩ সালে সরকার অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে এই বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ ইনক্রিমেন্ট চালু করেছিল। এখন দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পে স্কেল দেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে এসে সেই সুরক্ষাকবচটিই আবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যা দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল