২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও প্রবেশ করতে পারেননি সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আরতান। টুর্নামেন্টের অন্যতম একজন রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েন। দীর্ঘ প্রায় এগারো ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে তাকে আটকানো হয়েছিল।
তবে ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি তার বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আরতান জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদকালে তাকে সোমালিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, ওই সংগঠনের সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর পর তাকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। এরপর তিনি নিরাপদে তার নিজ দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে ফিরে যান।
বিশ্বকাপের মঞ্চে দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও ফিফা এক মানবিক ও পেশাদার সিদ্ধান্তে আরতানকে পুরো টুর্নামেন্টের পারিশ্রমিক প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণত বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর রেফারিদের এই সম্মানী পরিশোধ করা হয়। তবে তার ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফিফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই আরতানের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে অনুষ্ঠেয় উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচে পিএসজি এবং অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার খেলা পরিচালনার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নিজ দেশে ফিরে আসার পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। আরতান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি বা হতাশ নন। বরং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে রেফারিং করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তার গত বছরটি ছিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়। ২০২৫ সালে তিনি আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতি পেয়েছিলেন এবং প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে কোনো মহাদেশীয় ফাইনাল পরিচালনার রেকর্ড গড়েছিলেন। এছাড়া চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-বিশ বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচ সফলভাবে পরিচালনা করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েও প্রবেশ করতে পারেননি সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আরতান। টুর্নামেন্টের অন্যতম একজন রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েন। দীর্ঘ প্রায় এগারো ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ও বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একজন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে তাকে আটকানো হয়েছিল।
তবে ৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি তার বিরুদ্ধে আনা যাবতীয় অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আরতান জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদকালে তাকে সোমালিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাবের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, ওই সংগঠনের সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর পর তাকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। এরপর তিনি নিরাপদে তার নিজ দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে ফিরে যান।
বিশ্বকাপের মঞ্চে দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও ফিফা এক মানবিক ও পেশাদার সিদ্ধান্তে আরতানকে পুরো টুর্নামেন্টের পারিশ্রমিক প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণত বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর রেফারিদের এই সম্মানী পরিশোধ করা হয়। তবে তার ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফিফা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই আরতানের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ আগস্ট অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গে অনুষ্ঠেয় উয়েফা সুপার কাপের ম্যাচে পিএসজি এবং অ্যাস্টন ভিলার মধ্যকার খেলা পরিচালনার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
নিজ দেশে ফিরে আসার পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। আরতান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি বা হতাশ নন। বরং ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের মঞ্চে রেফারিং করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন। তার গত বছরটি ছিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল সময়। ২০২৫ সালে তিনি আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের বর্ষসেরা পুরুষ রেফারির স্বীকৃতি পেয়েছিলেন এবং প্রথম সোমালি রেফারি হিসেবে কোনো মহাদেশীয় ফাইনাল পরিচালনার রেকর্ড গড়েছিলেন। এছাড়া চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-বিশ বিশ্বকাপেও তিনটি ম্যাচ সফলভাবে পরিচালনা করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন