দিকপাল

প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব নাকচ করল মন্ত্রিপরিষদ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব নাকচ করল মন্ত্রিপরিষদ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সংসদ অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংগীতের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বর্তমান অবস্থা কী?

উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক অসম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিকে আলাদাভাবে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালু এবং শিক্ষক নিয়োগের এই বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক ও ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই দুই বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিকল্প সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালুর এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে আসছিল ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো। এর পরিবর্তে বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জোরালো দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, সাধারণ মুসলিম অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে তা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হবে।

উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেই মূল বিধিমালায় সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়েও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আইনি সুযোগ রাখা হয়।

তবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর টানা আন্দোলন ও আপত্তির মুখে গত বছরের নভেম্বরেই উক্ত বিধিমালা সংশোধন করতে বাধ্য হয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত সেই বিধিমালায় শুধু প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিধান বহাল রাখা হয় এবং সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সুযোগটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও পদটি সৃজনের চূড়ান্ত প্রস্তাব নাকচ করা হলো।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


প্রাথমিকে সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব নাকচ করল মন্ত্রিপরিষদ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সংসদ অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংগীতের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বর্তমান অবস্থা কী?

উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক অসম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিকে আলাদাভাবে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালু এবং শিক্ষক নিয়োগের এই বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক ও ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই দুই বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিকল্প সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালুর এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে আসছিল ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো। এর পরিবর্তে বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জোরালো দাবি জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, সাধারণ মুসলিম অভিভাবকদের মতামত উপেক্ষা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে তা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী হবে।

উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেই মূল বিধিমালায় সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়েও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আইনি সুযোগ রাখা হয়।

তবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর টানা আন্দোলন ও আপত্তির মুখে গত বছরের নভেম্বরেই উক্ত বিধিমালা সংশোধন করতে বাধ্য হয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধিত সেই বিধিমালায় শুধু প্রধান শিক্ষক ও সাধারণ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিধান বহাল রাখা হয় এবং সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সুযোগটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও পদটি সৃজনের চূড়ান্ত প্রস্তাব নাকচ করা হলো।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল