দিকপাল

সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয় বাংলাদেশকে নিজস্ব স্বকীয়তায় গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ | ০৫:৫৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয় বাংলাদেশকে নিজস্ব স্বকীয়তায় গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

কোনো দেশের অন্ধ অনুকরণ বা আদলে নয়, বরং নিজস্ব স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতে দেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডার মতো করে গড়ে তোলার রাজনৈতিক স্লোগান শোনা গেলেও তিনি সেই ধারার বাইরে গিয়ে দেশের বাস্তবতার নিরিখে একটি মৌলিক উন্নয়নের মডেল দাঁড় করাতে চান। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্র গঠনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকতকে দেশের অন্যতম প্রধান গৌরব উল্লেখ করে তিনি এই শহরকে বিশ্বমানের এবং পরিচ্ছন্ন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। বিশেষ করে পর্যটন শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করা এবং পথচারীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ সড়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বিগত সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে যে ধরনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল, তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। রাষ্ট্রকে সঠিক পুর্নগঠনের ধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসম্পূর্ণ কাজগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই উন্নয়ন ভাবনার অংশ হিসেবেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং এই অঞ্চলে একটি বিশেষায়িত মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উক্ত সুধী সমাবেশে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, নীতি-নির্ধারক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের বিখ্যাত মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করেন। মাঠপর্যায়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে গভীর রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


সিঙ্গাপুর বা কানাডা নয় বাংলাদেশকে নিজস্ব স্বকীয়তায় গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬

featured Image

কোনো দেশের অন্ধ অনুকরণ বা আদলে নয়, বরং নিজস্ব স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অতীতে দেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডার মতো করে গড়ে তোলার রাজনৈতিক স্লোগান শোনা গেলেও তিনি সেই ধারার বাইরে গিয়ে দেশের বাস্তবতার নিরিখে একটি মৌলিক উন্নয়নের মডেল দাঁড় করাতে চান। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি রাষ্ট্র গঠনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকতকে দেশের অন্যতম প্রধান গৌরব উল্লেখ করে তিনি এই শহরকে বিশ্বমানের এবং পরিচ্ছন্ন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। বিশেষ করে পর্যটন শহরের ট্রাফিক শৃঙ্খলা, যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করা এবং পথচারীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ সড়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বিগত সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশে যে ধরনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল, তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। রাষ্ট্রকে সঠিক পুর্নগঠনের ধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসম্পূর্ণ কাজগুলো দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই উন্নয়ন ভাবনার অংশ হিসেবেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং এই অঞ্চলে একটি বিশেষায়িত মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উক্ত সুধী সমাবেশে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, নীতি-নির্ধারক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের বিখ্যাত মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করেন। মাঠপর্যায়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে গভীর রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল