বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং এই চেতনাকে সমুন্নত রাখাই দেশের অগ্রযাত্রার একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি নতুন সংগঠনের উদ্যোগে রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সার্কভুক্ত বিপুল জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বাইরে গিয়ে অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভর করে যারা কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও বাংলা ভাষাভাষী মানুষ থাকতে পারেন; কিন্তু আমাদের মনোজগত ও সংস্কৃতির মধ্যে যে মৌলিক ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এই ঐতিহাসিক সত্য ও পার্থক্যকে যারা আড়াল করতে চান, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল ভ্রান্তই নয়, বরং এর পেছনে গভীর দুরভিসন্ধি রয়েছে।
সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের বিষয়ে জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাঙালিত্বের সনদ অর্জনের জন্য কখনোই সীমান্তের ওপারে অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এই ভূখণ্ডে ইতিহাসের বিবর্তনে সনাতন ধর্মের পর বৌদ্ধ ধর্ম এবং পরবর্তীতে ইসলামের সাম্যবাদী আদর্শের আলোকে মানুষ যেভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছে, তা একটি অনস্বীকার্য ঐতিহাসিক সত্য।
তিনি আরও বলেন, এই সাংস্কৃতিক বিবর্তনই আমাদের একটি অনন্য স্বকীয়তা প্রদান করেছে, যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এই সত্যকে উন্মোচন করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, যা আমাদের ভাষা ও ঐতিহ্যের স্বরূপকে চিরস্থায়ী করেছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষের যে কৃত্রিম মেরুকরণ ও বিভেদ তৈরি করা হয়েছিল, তা আজ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ সেই বিভাজনের দেয়াল ভেঙে ফেলেছে। অতীতে স্বৈরাচারী শাসনামলে রাজনীতিকে যেভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়েছে। যারা ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়ে কৃত্রিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের শেষ পরিণতি শুভ হয়নি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বাদ দিয়ে যারা অন্ধকার গলিতে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাদের সব চক্রান্ত নস্যাৎ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। এর ফলে জাতীয় সংসদ বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
সংগঠনের নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ দেশের প্রথিতযশা বিশিষ্টজনেরা। বক্তারা প্রত্যেকেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই আমাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্বকীয়তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং এই চেতনাকে সমুন্নত রাখাই দেশের অগ্রযাত্রার একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি নতুন সংগঠনের উদ্যোগে রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সার্কভুক্ত বিপুল জনগোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার বাইরে গিয়ে অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভর করে যারা কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও বাংলা ভাষাভাষী মানুষ থাকতে পারেন; কিন্তু আমাদের মনোজগত ও সংস্কৃতির মধ্যে যে মৌলিক ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এই ঐতিহাসিক সত্য ও পার্থক্যকে যারা আড়াল করতে চান, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল ভ্রান্তই নয়, বরং এর পেছনে গভীর দুরভিসন্ধি রয়েছে।
সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের বিষয়ে জোর দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের বাঙালিত্বের সনদ অর্জনের জন্য কখনোই সীমান্তের ওপারে অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই। এই ভূখণ্ডে ইতিহাসের বিবর্তনে সনাতন ধর্মের পর বৌদ্ধ ধর্ম এবং পরবর্তীতে ইসলামের সাম্যবাদী আদর্শের আলোকে মানুষ যেভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছে, তা একটি অনস্বীকার্য ঐতিহাসিক সত্য।
তিনি আরও বলেন, এই সাংস্কৃতিক বিবর্তনই আমাদের একটি অনন্য স্বকীয়তা প্রদান করেছে, যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইতিহাসের এই সত্যকে উন্মোচন করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, যা আমাদের ভাষা ও ঐতিহ্যের স্বরূপকে চিরস্থায়ী করেছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও বিপক্ষের যে কৃত্রিম মেরুকরণ ও বিভেদ তৈরি করা হয়েছিল, তা আজ সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ সেই বিভাজনের দেয়াল ভেঙে ফেলেছে। অতীতে স্বৈরাচারী শাসনামলে রাজনীতিকে যেভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়েছে। যারা ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়ে কৃত্রিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের শেষ পরিণতি শুভ হয়নি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বাদ দিয়ে যারা অন্ধকার গলিতে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তাদের সব চক্রান্ত নস্যাৎ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। এর ফলে জাতীয় সংসদ বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
সংগঠনের নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে এবং তমিজ উদ্দিন টিটুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ দেশের প্রথিতযশা বিশিষ্টজনেরা। বক্তারা প্রত্যেকেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন।

আপনার মতামত লিখুন