দিকপাল

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির পাশে জনতার প্রহরা


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ | ১২:০০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির পাশে জনতার প্রহরা

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত পাহারায় যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনশেষে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন এবং সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানাচ্ছেন।

ভারতের মেঘালয় ও আসাম সীমান্তঘেঁষা জামালপুরের কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে তাদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের যেসব অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেসব এলাকাকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বেশি থাকে। এ কারণে সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামের তরুণ ও প্রবীণরা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রনি ইসলাম ও জীবন মিয়াসহ অনেকেই জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা স্বেচ্ছায় এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও তথ্য আদানপ্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তারা।

স্থানীয়দের সহযোগিতার ফলে সীমান্তে বিজিবির কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ও বিস্তৃত সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হলেও স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে। জামালপুর সীমান্তে সাধারণ মানুষের এই অংশগ্রহণ সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অংশ ভারতের মেঘালয় ও আসাম সীমান্তের সঙ্গে সংযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই এসব এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


জামালপুর সীমান্তে বিজিবির পাশে জনতার প্রহরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬

featured Image

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সীমান্তে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত পাহারায় যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনশেষে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন এবং সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানাচ্ছেন।

ভারতের মেঘালয় ও আসাম সীমান্তঘেঁষা জামালপুরের কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে তাদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের যেসব অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেসব এলাকাকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা বেশি থাকে। এ কারণে সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামের তরুণ ও প্রবীণরা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রনি ইসলাম ও জীবন মিয়াসহ অনেকেই জানান, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা স্বেচ্ছায় এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। সন্দেহজনক কোনো গতিবিধি নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানো হচ্ছে। মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও তথ্য আদানপ্রদান করা হচ্ছে বলে জানান তারা।

স্থানীয়দের সহযোগিতার ফলে সীমান্তে বিজিবির কার্যক্রম আরও কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ও বিস্তৃত সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হলেও স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে। জামালপুর সীমান্তে সাধারণ মানুষের এই অংশগ্রহণ সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অংশ ভারতের মেঘালয় ও আসাম সীমান্তের সঙ্গে সংযুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই এসব এলাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল