দিকপাল

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল: আইনজীবী শিশির মনির


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ | ০৪:৪৩ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল: আইনজীবী শিশির মনির

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের প্রশাসনিক আদেশের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী শিশির মনির। শুক্রবার সকালে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকৃতপক্ষে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেনি, বরং তারা বাতিল করেছে হাসপাতাল সংলগ্ন প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। এই দাবির সপক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সগুলোর কপিও সংযুক্ত করেছেন।

আইনজীবী শিশির মনিরের ভাষ্যমতে, গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। সেই নোটিশে উল্লেখিত লাইসেন্স নম্বরটি (এইচএসএম ৪৩১০০৫৯) মূলত হাসপাতালটির প্যাথলজি ল্যাবের লাইসেন্স নম্বর, হাসপাতালের মূল লাইসেন্স নম্বরটি হলো (এইচএসএম ৪৩১০০৫৮)। সরকার পরিচালনার সুবিধার্থে হাসপাতাল এবং প্যাথলজি ল্যাবের জন্য পৃথক দুটি লাইসেন্স প্রদান করেছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সরকারি নথিপত্রে এই ধরনের অসংগতি তাদের প্রশাসনিক অবহেলা না কি অন্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয়, তা নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি বিষয়টির বিচারের ভার জনসাধারণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, তাদের আদেশের ভাষা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সেখানে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবী শিশির মনিরের এমন বক্তব্যকে তিনি অসার বলে অভিহিত করে জানান, এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। প্রয়োজনে আদেশে কোনো ভাষাগত সংশোধনের প্রয়োজন হলে তারা পরবর্তীতে তা দেখবেন। এর আগে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছিলেন যে, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অক্সিজেন স্বল্পতা ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আইন অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শোকজের লিখিত জবাব জমা দেয়, যা অধিদপ্তরের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা খুব শীঘ্রই সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে আইনি বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১২ ধারা মোতাবেক লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের উচ্চতর পর্যায়ে আপিল করার সুযোগ পাবে। বর্তমানে এই আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অসংগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল: আইনজীবী শিশির মনির

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের প্রশাসনিক আদেশের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী শিশির মনির। শুক্রবার সকালে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকৃতপক্ষে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেনি, বরং তারা বাতিল করেছে হাসপাতাল সংলগ্ন প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। এই দাবির সপক্ষে তিনি সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সগুলোর কপিও সংযুক্ত করেছেন।

আইনজীবী শিশির মনিরের ভাষ্যমতে, গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল। সেই নোটিশে উল্লেখিত লাইসেন্স নম্বরটি (এইচএসএম ৪৩১০০৫৯) মূলত হাসপাতালটির প্যাথলজি ল্যাবের লাইসেন্স নম্বর, হাসপাতালের মূল লাইসেন্স নম্বরটি হলো (এইচএসএম ৪৩১০০৫৮)। সরকার পরিচালনার সুবিধার্থে হাসপাতাল এবং প্যাথলজি ল্যাবের জন্য পৃথক দুটি লাইসেন্স প্রদান করেছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সরকারি নথিপত্রে এই ধরনের অসংগতি তাদের প্রশাসনিক অবহেলা না কি অন্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষয়, তা নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি বিষয়টির বিচারের ভার জনসাধারণের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান জানান, তাদের আদেশের ভাষা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সেখানে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। আইনজীবী শিশির মনিরের এমন বক্তব্যকে তিনি অসার বলে অভিহিত করে জানান, এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। প্রয়োজনে আদেশে কোনো ভাষাগত সংশোধনের প্রয়োজন হলে তারা পরবর্তীতে তা দেখবেন। এর আগে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছিলেন যে, গত ২৭ মে হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অক্সিজেন স্বল্পতা ও কর্তৃপক্ষের গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আইন অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শোকজের লিখিত জবাব জমা দেয়, যা অধিদপ্তরের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং তারা খুব শীঘ্রই সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে আইনি বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশের ১২ ধারা মোতাবেক লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের উচ্চতর পর্যায়ে আপিল করার সুযোগ পাবে। বর্তমানে এই আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অসংগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল