দিকপাল

পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলক ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ সরকারের


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | ১২:৩৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলক ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ সরকারের

জাতীয় সংসদে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী একশত আশি দিনের মধ্যে দেশের পাঁচটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে অত্যাধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ বা বৈদ্যুতিন স্বাস্থ্য কার্ড চালুর সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, সরকারের একশত আশি দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষকে এই আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিষয়ক একটি বড় প্রকল্প বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা পাস হওয়ার পরপরই দ্রুত গতিতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যে পাঁচটি জেলাকে এই পাইলট প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী। এই জেলাগুলোর সর্বস্তরের মানুষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই আধুনিক কার্ডের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। এই কার্ডের প্রযুক্তিগত দিক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থাটি সরাসরি একটি বিশেষ কেন্দ্রীয় রোগী ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত স্থানান্তর ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবে, যার ফলে একজন রোগীর পূর্ববর্তী সব চিকিৎসার ইতিহাস ও তথ্য চিকিৎসকরা এক ক্লিকেই দেখতে পাবেন।


সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একশত আশি দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির এক বিশাল খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী ও সুরক্ষিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডের প্রথম ধাপের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক ধাপে দেশের ছত্রিশটি ইউনিটের মোট ষাট হাজার চুয়াল্লিশটি পরিবারকে সফলভাবে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। কৃষি খাতের আধুনিকায়নে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর বিষয়েও তিনি কথা বলেন। দেশের আটটি বিভাগের দশটি জেলার মোট এগারোটি উপজেলার এগারোটি নির্দিষ্ট কৃষি ব্লকে ইতিমধ্যে বিশ হাজার সাতশত আটচল্লিশ জন কৃষককে এই বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে এবং তাদের মাথার ওপর থেকে ঋণের বোঝা কমাতে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে বর্তমান সরকার।


দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চার হাজার নয়শত আটটি মসজিদ, নয়শত নব্বইটি মন্দির, একশত চুয়াল্লিশটি বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা এবং তিনশত ছিয়ানব্বইটি গির্জায় কর্মরত ধর্মীয় গুরু ও উপাসকদের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে আগামীতে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই সুবিধার পরিধি ধাপে ধাপে আরও বিস্তার করার। গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের সুরক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বমোট ছশ ছেষট্টিটি খাল খনন ও পুনঃখননের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ইতিমধ্যে খননকৃত এই খালের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় নয়শত পঁয়ষট্টি কিলোমিটারের বেশি। এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে এবারের আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই দেশজুড়ে প্রায় তিন কোটি চৌদ্দ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে।


শিক্ষা ও তরুণদের উন্নয়নেও সরকার একগুচ্ছ নতুন ও আকর্ষণীয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগামী অর্থবছরে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ কোমলমতি শিশুর মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বা পোশাক বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ বা একজন শিক্ষকের জন্য একটি আধুনিক কম্পিউটার ট্যাবলেট প্রদানের পরিকল্পনাও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য যারা বিদেশে যেতে চান, বিশেষ করে ভাষা শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা দূর করতে জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাফে দশ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা হাতে পাওয়ার আগেই দেশটির বৈধ যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে এই ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের শতকরা বিশ ভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে জাতীয় ছাদ-সৌর কর্মসূচি এবং বিশেষ মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট পঁয়ত্রিশ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে বারো থেকে চৌদ্দ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ নামের এক বিশাল ক্রীড়া উৎসবের সূচনা করা হয়েছে। এই মেগা আয়োজনে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি জনপ্রিয় খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে ঠিক তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই প্রথম ত্রিশ মিনিট নির্ধারিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তারকা চিহ্নিত পাঁচটি প্রশ্ন জমা থাকলেও, স্পিকারের সুনিপুণ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি মূল প্রশ্ন এবং বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে আসা একাধিক সম্পূরক প্রশ্নের অত্যন্ত চমৎকার ও তথ্যবহুল জবাব দেন।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


পাঁচ জেলায় পরীক্ষামূলক ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ সরকারের

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে এক তাৎপর্যপূর্ণ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী একশত আশি দিনের মধ্যে দেশের পাঁচটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে অত্যাধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ বা বৈদ্যুতিন স্বাস্থ্য কার্ড চালুর সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, সরকারের একশত আশি দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষকে এই আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিষয়ক একটি বড় প্রকল্প বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা পাস হওয়ার পরপরই দ্রুত গতিতে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে যে পাঁচটি জেলাকে এই পাইলট প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী। এই জেলাগুলোর সর্বস্তরের মানুষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই আধুনিক কার্ডের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। এই কার্ডের প্রযুক্তিগত দিক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থাটি সরাসরি একটি বিশেষ কেন্দ্রীয় রোগী ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত স্থানান্তর ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবে, যার ফলে একজন রোগীর পূর্ববর্তী সব চিকিৎসার ইতিহাস ও তথ্য চিকিৎসকরা এক ক্লিকেই দেখতে পাবেন।


সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একশত আশি দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির এক বিশাল খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী ও সুরক্ষিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা পারিবারিক কার্ডের প্রথম ধাপের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক ধাপে দেশের ছত্রিশটি ইউনিটের মোট ষাট হাজার চুয়াল্লিশটি পরিবারকে সফলভাবে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। কৃষি খাতের আধুনিকায়নে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর বিষয়েও তিনি কথা বলেন। দেশের আটটি বিভাগের দশটি জেলার মোট এগারোটি উপজেলার এগারোটি নির্দিষ্ট কৃষি ব্লকে ইতিমধ্যে বিশ হাজার সাতশত আটচল্লিশ জন কৃষককে এই বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে এবং তাদের মাথার ওপর থেকে ঋণের বোঝা কমাতে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে বর্তমান সরকার।


দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চার হাজার নয়শত আটটি মসজিদ, নয়শত নব্বইটি মন্দির, একশত চুয়াল্লিশটি বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা এবং তিনশত ছিয়ানব্বইটি গির্জায় কর্মরত ধর্মীয় গুরু ও উপাসকদের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে আগামীতে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই সুবিধার পরিধি ধাপে ধাপে আরও বিস্তার করার। গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের সুরক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বমোট ছশ ছেষট্টিটি খাল খনন ও পুনঃখননের বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ইতিমধ্যে খননকৃত এই খালের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় নয়শত পঁয়ষট্টি কিলোমিটারের বেশি। এর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে এবারের আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই দেশজুড়ে প্রায় তিন কোটি চৌদ্দ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে।


শিক্ষা ও তরুণদের উন্নয়নেও সরকার একগুচ্ছ নতুন ও আকর্ষণীয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগামী অর্থবছরে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ কোমলমতি শিশুর মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বা পোশাক বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ বা একজন শিক্ষকের জন্য একটি আধুনিক কম্পিউটার ট্যাবলেট প্রদানের পরিকল্পনাও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য যারা বিদেশে যেতে চান, বিশেষ করে ভাষা শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা দূর করতে জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণের সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাফে দশ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা হাতে পাওয়ার আগেই দেশটির বৈধ যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে এই ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল করা হয়েছে।


বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের শতকরা বিশ ভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে জাতীয় ছাদ-সৌর কর্মসূচি এবং বিশেষ মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট পঁয়ত্রিশ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে বারো থেকে চৌদ্দ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ নামের এক বিশাল ক্রীড়া উৎসবের সূচনা করা হয়েছে। এই মেগা আয়োজনে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি জনপ্রিয় খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে ঠিক তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়। দিনের কার্যসূচির শুরুতেই প্রথম ত্রিশ মিনিট নির্ধারিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তারকা চিহ্নিত পাঁচটি প্রশ্ন জমা থাকলেও, স্পিকারের সুনিপুণ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি মূল প্রশ্ন এবং বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে আসা একাধিক সম্পূরক প্রশ্নের অত্যন্ত চমৎকার ও তথ্যবহুল জবাব দেন।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল