আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের তথা নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ এই বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রশাসন। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির সাহসী যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদীর বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের কাহিনীও শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে তুলে ধরা হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জনসংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বিশেষ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় শিক্ষা সচিবের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের আগামী প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস এবং বীরত্বগাথা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য থেকে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য সংকলনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক দুটি লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক প্রবন্ধের মূল ভাবার্থের আলোকে সম্পূর্ণ নতুন একটি পাঠ প্রস্তুত করে তা যুক্ত করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার ঘোষণা এবং রণক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার এক অনন্য দলিল সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
এর পাশাপাশি গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় মাঠপর্যায়ে সম্মুখসারিতে থেকে বীরত্ব প্রদর্শনকারী তরুণ যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদীর অবদানকে পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হতে যাচ্ছে, সেখানে এই বীর তরুণের অসম সাহসিকতার গল্প শিক্ষার্থীদের সামনে অনুপ্রেরণা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শীর্ষক যে বিশেষ অধ্যায়টি রয়েছে, যেখানে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন এবং সাম্প্রতিক সময়ের আবু সাঈদ ও মুগ্ধর মতো বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পরম শ্রদ্ধায় তুলে ধরা হয়েছে, ঠিক একই চমৎকার বিন্যাস ও শৈলীতে শরীফ ওসমান বিন হাদীর বীরত্বগাথাকেও পাঠ্যবইয়ের পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম সম্পূর্ণ পুনর্বিবেচনা ও আধুনিকায়নের এক বিশাল উদ্যোগ হাতে নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের মূল কাঠামোর আলোকে দেশের সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, সংশোধন ও সংযোজন আনা হচ্ছে। এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নতুন সরকার গঠনের পর আগামী ২০২৮ সাল থেকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যারই অংশ হিসেবে এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের তথা নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ এই বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রশাসন। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির সাহসী যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদীর বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের কাহিনীও শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে তুলে ধরা হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জনসংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বিশেষ এই নীতি-নির্ধারণী সভায় শিক্ষা সচিবের পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের আগামী প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস এবং বীরত্বগাথা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য থেকে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য সংকলনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক দুটি লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক প্রবন্ধের মূল ভাবার্থের আলোকে সম্পূর্ণ নতুন একটি পাঠ প্রস্তুত করে তা যুক্ত করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার ঘোষণা এবং রণক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার এক অনন্য দলিল সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।
এর পাশাপাশি গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় মাঠপর্যায়ে সম্মুখসারিতে থেকে বীরত্ব প্রদর্শনকারী তরুণ যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদীর অবদানকে পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হতে যাচ্ছে, সেখানে এই বীর তরুণের অসম সাহসিকতার গল্প শিক্ষার্থীদের সামনে অনুপ্রেরণা হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শীর্ষক যে বিশেষ অধ্যায়টি রয়েছে, যেখানে তিতুমীর, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, নূর হোসেন এবং সাম্প্রতিক সময়ের আবু সাঈদ ও মুগ্ধর মতো বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পরম শ্রদ্ধায় তুলে ধরা হয়েছে, ঠিক একই চমৎকার বিন্যাস ও শৈলীতে শরীফ ওসমান বিন হাদীর বীরত্বগাথাকেও পাঠ্যবইয়ের পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় শিক্ষাক্রম সম্পূর্ণ পুনর্বিবেচনা ও আধুনিকায়নের এক বিশাল উদ্যোগ হাতে নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের মূল কাঠামোর আলোকে দেশের সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, সংশোধন ও সংযোজন আনা হচ্ছে। এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি নতুন সরকার গঠনের পর আগামী ২০২৮ সাল থেকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যারই অংশ হিসেবে এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন